সৃষ্টির উম্মাদনায় “হাবিবুল ইসলাম হাবিব”

এ আল মামুন এ আল মামুন

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৩০:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮
সৃষ্টির উম্মাদনায় “হাবিবুল ইসলাম হাবিব”

আমাদের দেশের চলচ্চিত্র বর্তমানে অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ষাট দশক হতে নব্বই দশক পর্যন্ত যে চলচ্চিত্র দেশের হাজার হাজার দর্শককে বিনোদন দিয়েছে সে চলচ্চিত্র আজ ধুঁকছে। চলচ্চিত্রের এমতাবস্থায়ও কিছু উদ্যমী মানুষ দেশের সংস্কৃতি নিয়ে ভাবছেন। কাজ করছেন নতুন সৃষ্টির উন্মাদনায়। তেমনি একজন মানুষ হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি একজন সাংস্কৃতিক কর্মী, একজন নাট্য নির্মাতা, তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক, তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রপথিক।

হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে নিয়ে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই জানতে চান, কে এই মানুষ ? কি তার অতীত ইতিহাস ? তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হলে আমাদের একটু পেছনে যেতে হবে। আশির দশকের শুরুতে “প্রেক্ষাপট” নাট্যদল নিয়ে তিনি শুরু করেন তার পথচলা। পরিচালনা করেন বহুল আলোচিত মঞ্চনাটক – ইদানীং তিনি ভদ্রলোক, খাঁটি মীরজাফরের বাচ্চা, ব্যারিকেড চারিদিক, সারাদিন পর, উল্টারাত পাল্টাদিন ইত্যাদি। ইদানিং তিনি ভদ্রলোক খুবই জনপ্রিয় একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। তিনি শুধু মঞ্চে থেমে থাকেননি। উত্তাল আশির দশকে দেশকে নিয়ে বানিয়েছিলেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র – বখাটে ও বিজয় নব্বই। যুক্ত ছিলেন গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের সঙ্গে, রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি পাশাপাশি প্যাকেজ নাটকের আন্দোলন, সম্মিলিত জোট গঠনের আন্দোলন, শর্ট ফিল্ম মুভমেন্ট সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলনে জড়িত ছিলেন।

বাংলাদেশে একশান থ্রীলার ড্রামার রূপকার এই গুণী নির্মাতা। তার হাতে নির্মিত হয় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নাটক, বাংলাদেশ সেনা বাহিনীকে নিয়ে থিম সং ও টিভি ফিলার। চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও টিভিতে তার সান্নিধ্যে এসে অনেকেই আজ সুপ্রতিষ্ঠিত।

বর্তমানে তার প্রথম চলচ্চিত্র “রাত্রির যাত্রী” নিয়ে তিনি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। খুব শীঘ্রই দর্শকের জন্য নতুন ভাবনার ছবি নিয়ে আসছেন এ স্বপ্নবাজ নির্মাতা। এ ছবিতে তিনি নতুনরূপে দর্শকের সামনে নিয়ে আসবেন অসম্ভব জনপ্রিয় স্বপ্নের নায়িকা মৌসুমীকে, সাথে থাকছেন নাটকের প্রিয় মুখ আনিসুর রহমান মিলনসহ অনেকে।

ব্যক্তিজীবনে তিনি নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনার বাবা। ভাবনার বড়পর্দায় অভিষেক হয়েছে ইতোমধ্যে। নাটক নিয়েও অনেক ব্যস্ত সময় পার করছে ভাবনা।

দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে হলে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের মতো গুণী মানুষদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। হলে গিয়ে ছবি দেখে সমালোচান করতে হবে, ঘরে বসে নয়। তবেই না একজন নির্মাতা দর্শকদের জন্য ছবি বানাতে উৎসাহ পাবেন। বেঁচে থাকুক আমাদের স্বপ্ন, জেগে উঠুক বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নতুন আলোয়।