একদিকে বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ অন্যদিকে নানামুখী কর্মসূচি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ | আপডেট: ৭:২৪:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮
একদিকে বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ অন্যদিকে নানামুখী কর্মসূচি

মামুন : রাজনৈতিক মাঠ ফাঁকা না রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে বিএনপিকে কৌশলে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিজেদের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার নানামুখী কর্মসূচি সাজিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড, যা সরাসরি দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে পূর্ব ঘোষিত কর্মীসভা, প্রতিনিধি সভা, সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি এখন থেকে আরো বেগবান করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি খুলনায় প্রতিনিধি সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন। ওই সভায় বর্তমান সরকারের ৯ বছরের উন্নয়ন ও বিএনপির দুর্নীতির বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। জানা গেছে, অযৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন তো দূরের কথা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপিকে রাজপথসহ সারাদেশের মাঠে নামতেই দিবে না আওয়ামী লীগ।

সূত্র জানায়, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কোনো অযৌক্তিক দাবিতে বিএনপিকে মাঠে নামতে দিতে চায় না আওয়ামী লীগ ও সরকার। কারণ বিএনপি মাঠে নামা মানেই জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসংযোগ, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা। এসব আর তাদের করতে দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। আর এ কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রধান অস্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগের হাতে রয়েছে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া পুরনো ফৌজদারি মামলা। তারা যদি আন্দোলন করতে চান, রাজপথে নামার চেষ্টা করেন, তাহলে পুরনো মামলা চাঙ্গা করে মাঠে নামার আগেই নেতৃত্ব প্রদানকারীদের গ্রেফতার করা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তুতি রয়েছে। জানা গেছে, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট মামলা রয়েছে ২০ সহস াধিক। এ মামলাগুলো চাঙ্গা করার প্রস্তুতি চলছে। মামলায় নামে-বেনামে আট লাখের মতো আসামি, যার বেশির ভাগ আসামি দলটির নেতাকর্মী। মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে আগুন সন্ত্রাসের মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দুই জন প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং তিন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে জানান, বিএনপি যত কথাই বলুক আন্দোলনে যাওয়ার মতো সাহস ও শক্তি কোনোটাই তাদের নেই। তবে বিএনপি আন্দোলনের দিকে গেলে সরকারও নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাদের নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মামলা রয়েছে। আন্দোলনে গেলে এগুলো নিশ্চয়ই পুনরুজ্জীবিত হবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, বিএনপি গণতান্ত্রিক পথে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে; কিন্তু অগণতান্ত্রিক কোনো উপায়ে কিছু করার চেষ্টা করা হলে কঠোর হবে সরকার। তাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা-বিশ্বাস নেই। ফলে দলটির আন্দোলন সফল করে তোলা একটি অসাধ্য কাজ।

তবে শুধু বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ করে নয় ক্ষমতায় থাকতে হলে এবং আগামী দিনে ক্ষমতায় আসতে হলে দলকে শক্তিশালী করা এবং ১০ শতাংশ ভোট বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মনে করেন দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা। এজন্য দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ১৫টি টিম গত জানুয়ারি মাস থেকে সারাদেশের জেলা-উপজেলা সফর করছেন। প্রতিনিধি সভা, কর্মী সভা, সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান এখন অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার মাধ্যমে ১০ শতাংশ ভোট বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে নেতারা মনে করছেন। এছাড়া তৃণমূল সফরে জিয়া পরিবারের দুর্নীতির চিত্র, সরকারের ৯ বছরের সফলতা ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হবে। দুর্নীতিবাজ ও দণ্ডিত ব্যক্তির রাজনীতি করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার প্রচার চালাবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এদিকে তৃণমূল সফরের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্ভরতাও কমানো হবে। তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু কঠোরভাবে মনিটরিং করার পাশাপাশি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে জনসভায় অংশ নেবেন। সবকিছুই করা হবে হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ প্রায় প্রতিটি জেলা সফর করবেন। যেসব জেলায় যেতে পারবেন না, সেখানকার নেতাদের গণভবনে ডেকে কথা শুনবেন দলীয় প্রধান। নির্দেশনা দেবেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের আশা, দেশবাসী আর কখনই দুর্নীতিবাজকে ক্ষমতায় আনবে না। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত ১৪ দল মাঠে অবস্থান করবে। এছাড়া শিগগিরই দেশের বিভাগীয় শহরে ১৪ দলের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ইত্তেফাক