Dhaka ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুজন বড় ব্যবসায়ির হাতে জিম্মি ডিমের বাজার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪
  • ৩৭৬ Time View

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
twitter sharing button
linkedin sharing button
ডিম

হিমাগারে থাকার কথা আলু, কিন্তু সেখানে এখন মজুদ লাখ লাখ ডিম। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে, সিন্ডিকেট করে ডিমের দাম হালিতে বাড়ানো হয়েছে ১২-১৫ টাকা।

মাদারীপুর জেলাজুড়ে শুধুমাত্র দুইজন বড় ব্যবসায়ির হাতে জিম্মি ডিমের বাজার। এতে ক্ষুব্ধ ক্রেতা। তবে ব্যবসায়িদের দাবি, আমদানি কম হওয়ায় বেড়েছে ডিমের দাম। আর বাজার নিয়ন্ত্রনে গতানুগতিক আশ্বাশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের।

Advertisement

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, পর্যাপ্ত মজুদ। অথচ কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ানো হচ্ছে ডিমের দাম। হালিতে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ১২-১৫ টাকা পর্যন্ত। শহরের বিসিক শিল্প নগরীর ভেতরেই মাদারীপুর হিমাগার। পর্যাপ্ত জায়গা খালি থাকায় মার্চ মাস থেকে ডিম মজুদ শুরু করে ফড়িয়া ব্যবসায়িরা।

অভিযোগ উঠেছে, শহিদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর কাজী দুই ব্যবসায়িই পুরো ডিমের বাজার অস্থির করেছে। হিমাগারে ডিম মজুদ রেখে সিন্ডিকেট করে বাড়িয়েছে দাম। হঠাৎ ডিমের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতা, বিপাকে খুচরা ব্যবসায়িরাও। ডিমের সংকট থাকায় বেড়েছে দাম। আর জেলায় কোন ফার্ম না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি ফড়িয়া ব্যবসায়িদের।

এদিকে হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, রমজান মাসে ডিমের দাম কম থাকায়, তখন থেকেই মজুদ শুরু করে ব্যবসায়িরা। পরে সুবিধা মত আস্তে আস্তে বাজারে ছাড়ে ডিম। অসাধু ডিম ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদারীপুর হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ডিম মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এক হালি ফার্মের ডিম পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা। যা খুরচা পর্যায়ে পৌঁছে ৫৫-৬০ টাকায়। এছাড়া দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিমের দেখা নেই বাজারে। জেলায় প্রতিদিন দেড়লাখ পিচ ডিমের চাহিদা রয়েছে।

মো. শাহজালাল নামে এক ক্রেতা বলেন, হঠাৎ ডিমের দাম বৃদ্ধি। কারণ জিজ্ঞেস করলে বিক্রেতারা বলে বাজারে ডিম নেই। সাধারণ ক্রেতারা এখন মহাবিপদে পড়েছি। মাছ-মাংসের দাম বেশি, এখন ডিমেরও বেশি দাম হলে না খেয়ে থাকা লাগবে। এই ডিমের বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়া উচিৎ।

আরেক ক্রেতা মো. মাইনুল হাসান বলেন, ডিমের বাজার চড়া। হঠাৎ ডিমের হালি ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমরা সাধারণ মানুষ কিভাবে ডিম কিনে খাবো।

শহরের পুরানবাজারের খুচরা ডিম ব্যবসায়ি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ডিমের বাজারে সিন্ডিকেট চলছে। বড় বড় ব্যবসায়িরা হিমাগারে ডিম মজুদ রেখেছে। ক্রেতাদের সাথে ডিমের দাম নিয়ে প্রতিনিয়ই ঝগড়া হচ্ছে। আমরাও চাই ডিমের দাম স্বাভাবিক থাকুক।

আরেক খুচরা ব্যবসায়ি কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চাহিদা মত ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ডিম পাওয়া খুবই কষ্ট, দুই থেকে তিনদিন পর পর এক গাড়ি ডিম আসে। তাতে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

ফড়িয়া ডিম ব্যবসায়ি শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদারীপুর জেলার কোথায়ও ডিমের ফার্ম নেই। এই ডিম অন্য জেলা থেকে কিনে আনতে হয়। সেক্ষেত্রে খরচ বেশি ও দামও বেশি পড়ে যায়। বর্তমানে ডিমের চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম। তাই একটু দাম বেড়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত ডিম পাওয়া গেলে, এই সংকট থাকবে না।

মাদারীপুর কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল করিম বলেন, দুই ব্যবসায়ীর প্রায় ৬ লাখ ডিম হিমাগারে মজুদ রয়েছে। তারা মার্চ মাস থেকে ডিম মজুদ রেখেছে। সুবিধা মত ব্যবসায়ি দুইজনে ডিম বাজারে আস্তে আস্তে ছাড়ে। ডিম ৩ থেকে সাড়ে তিন মাস হিমাগারে ভাল থাকে। এর বেশি দিন হলে ডিম পঁচে যাবার সম্ভবনাও থাকে।

মাদারীপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সুবোদ কুমার দাস বলেন, মাদারীপুর জেলায় প্রতিদিন দেড় লাখের ডিমের চাহিদা রয়েছে। কখন চাহিদা বাড়ে, গরমের সময় ডিম বেশিদিন হিমাগারে রাখা ঠিক নয়। এতে ডিমের গুনাগুণ নষ্ট হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফরের মাদারীপুরের সহকারি পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, মাদারীপুরে ডিম মজুদ করে রাখার অভিযোগ প্রমান পেলে ব্যবসায়িদের আইনের আওতায় আনা হবে। অবৈধভাবে মজুদ রেখে ডিমের দাম বাড়ানোটা অযৌতিক। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অসাধুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Nazmul Haque

মাদারীপুরে অগ্নিকান্ডে পুড়ে গেছে  ১৩ টি  গরু ও ২ হাজার মুরগি

দুজন বড় ব্যবসায়ির হাতে জিম্মি ডিমের বাজার

Update Time : ১০:২৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
twitter sharing button
linkedin sharing button
ডিম

হিমাগারে থাকার কথা আলু, কিন্তু সেখানে এখন মজুদ লাখ লাখ ডিম। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে, সিন্ডিকেট করে ডিমের দাম হালিতে বাড়ানো হয়েছে ১২-১৫ টাকা।

মাদারীপুর জেলাজুড়ে শুধুমাত্র দুইজন বড় ব্যবসায়ির হাতে জিম্মি ডিমের বাজার। এতে ক্ষুব্ধ ক্রেতা। তবে ব্যবসায়িদের দাবি, আমদানি কম হওয়ায় বেড়েছে ডিমের দাম। আর বাজার নিয়ন্ত্রনে গতানুগতিক আশ্বাশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের।

Advertisement

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, পর্যাপ্ত মজুদ। অথচ কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ানো হচ্ছে ডিমের দাম। হালিতে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ১২-১৫ টাকা পর্যন্ত। শহরের বিসিক শিল্প নগরীর ভেতরেই মাদারীপুর হিমাগার। পর্যাপ্ত জায়গা খালি থাকায় মার্চ মাস থেকে ডিম মজুদ শুরু করে ফড়িয়া ব্যবসায়িরা।

অভিযোগ উঠেছে, শহিদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর কাজী দুই ব্যবসায়িই পুরো ডিমের বাজার অস্থির করেছে। হিমাগারে ডিম মজুদ রেখে সিন্ডিকেট করে বাড়িয়েছে দাম। হঠাৎ ডিমের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতা, বিপাকে খুচরা ব্যবসায়িরাও। ডিমের সংকট থাকায় বেড়েছে দাম। আর জেলায় কোন ফার্ম না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি ফড়িয়া ব্যবসায়িদের।

এদিকে হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, রমজান মাসে ডিমের দাম কম থাকায়, তখন থেকেই মজুদ শুরু করে ব্যবসায়িরা। পরে সুবিধা মত আস্তে আস্তে বাজারে ছাড়ে ডিম। অসাধু ডিম ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদারীপুর হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ডিম মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এক হালি ফার্মের ডিম পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা। যা খুরচা পর্যায়ে পৌঁছে ৫৫-৬০ টাকায়। এছাড়া দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিমের দেখা নেই বাজারে। জেলায় প্রতিদিন দেড়লাখ পিচ ডিমের চাহিদা রয়েছে।

মো. শাহজালাল নামে এক ক্রেতা বলেন, হঠাৎ ডিমের দাম বৃদ্ধি। কারণ জিজ্ঞেস করলে বিক্রেতারা বলে বাজারে ডিম নেই। সাধারণ ক্রেতারা এখন মহাবিপদে পড়েছি। মাছ-মাংসের দাম বেশি, এখন ডিমেরও বেশি দাম হলে না খেয়ে থাকা লাগবে। এই ডিমের বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়া উচিৎ।

আরেক ক্রেতা মো. মাইনুল হাসান বলেন, ডিমের বাজার চড়া। হঠাৎ ডিমের হালি ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমরা সাধারণ মানুষ কিভাবে ডিম কিনে খাবো।

শহরের পুরানবাজারের খুচরা ডিম ব্যবসায়ি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ডিমের বাজারে সিন্ডিকেট চলছে। বড় বড় ব্যবসায়িরা হিমাগারে ডিম মজুদ রেখেছে। ক্রেতাদের সাথে ডিমের দাম নিয়ে প্রতিনিয়ই ঝগড়া হচ্ছে। আমরাও চাই ডিমের দাম স্বাভাবিক থাকুক।

আরেক খুচরা ব্যবসায়ি কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চাহিদা মত ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ডিম পাওয়া খুবই কষ্ট, দুই থেকে তিনদিন পর পর এক গাড়ি ডিম আসে। তাতে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

ফড়িয়া ডিম ব্যবসায়ি শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদারীপুর জেলার কোথায়ও ডিমের ফার্ম নেই। এই ডিম অন্য জেলা থেকে কিনে আনতে হয়। সেক্ষেত্রে খরচ বেশি ও দামও বেশি পড়ে যায়। বর্তমানে ডিমের চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম। তাই একটু দাম বেড়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত ডিম পাওয়া গেলে, এই সংকট থাকবে না।

মাদারীপুর কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল করিম বলেন, দুই ব্যবসায়ীর প্রায় ৬ লাখ ডিম হিমাগারে মজুদ রয়েছে। তারা মার্চ মাস থেকে ডিম মজুদ রেখেছে। সুবিধা মত ব্যবসায়ি দুইজনে ডিম বাজারে আস্তে আস্তে ছাড়ে। ডিম ৩ থেকে সাড়ে তিন মাস হিমাগারে ভাল থাকে। এর বেশি দিন হলে ডিম পঁচে যাবার সম্ভবনাও থাকে।

মাদারীপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সুবোদ কুমার দাস বলেন, মাদারীপুর জেলায় প্রতিদিন দেড় লাখের ডিমের চাহিদা রয়েছে। কখন চাহিদা বাড়ে, গরমের সময় ডিম বেশিদিন হিমাগারে রাখা ঠিক নয়। এতে ডিমের গুনাগুণ নষ্ট হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফরের মাদারীপুরের সহকারি পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, মাদারীপুরে ডিম মজুদ করে রাখার অভিযোগ প্রমান পেলে ব্যবসায়িদের আইনের আওতায় আনা হবে। অবৈধভাবে মজুদ রেখে ডিমের দাম বাড়ানোটা অযৌতিক। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অসাধুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।