বীরগঞ্জে এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যন আওয়ামীলীগ নেতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করে চাতাল ও গোডাউন বানিয়ে জমজমাট ব্যব্যসা

 শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের টাকা ফেরত না দেওয়ায় জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ।

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২২ | আপডেট: ৯:৪১:অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২২

দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যন আওয়ামীলীগ নেতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করে চাতাল ও গোডাউন বানিয়ে জমজমাট ব্যব্যসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা, জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ।

জেলা প্রশাসক বরাবরে নিয়োগ প্রাপ্তদের অভিযোগ সুত্রে ও সরজমিনে জানাযায়, বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামের শামসুদ্দিন সরকার ভুটুর পুত্র সাতোর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যন, সাতোর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও বীরগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আলহাজ মোঃ রেজাউল করিম শেখ জিন্দপীর এলাকায় গত ৪ দলীয় জোট সরকারের আমল ২০০৫ সালে
স্থাপন করেন।

মোঃ রেজাউল করিম শেখ এর স্ত্রী মোছাঃ রেজিনা বেগম আরাজী শিয়াখেদা মৌজায় খতিয়ান ১৩৩, দাগ ১৬১ এর ৫৭৭নং দলিল মুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জিন্দাপীর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট কলেজ এর নামে ১৮/১/২০০৫ সালে ১ একর জমি দান করেন।

কলেজটি প্রতিষ্ঠা কালে রেজাউল করিম শেখ ৪ দলীয় জোট সরকারের সাতোর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারন সম্পাদক সরকার মাহামুদুন নবী ওয়াট সভাপতি বানিয়ে নিজে অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করে কলেজের বিভিন্ন পদে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্য করেন।

অধ্যক্ষ রেজাউল করিম শেখ এর হেয়ালিপনায় প্রতিষ্ঠানটি আলো মুখ দেখতে না পারায় নিয়োগ প্রাপ্তরা বেকার হয়ে যায়। পরবর্তী ১/১১ তৎবধায়ক সরকারের আমলে নিয়োগ প্রাপ্তরা বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করলে মোঃ রেজাউল করিম রাতারাতি যোগাযোগ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়। বর্তমানে মোঃ রেজাউল করিম ওই টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করছে। পাশাপাশি উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করে গোডাউন ও চাতাল বানিয়ে জমজমাট ব্যবসা করছে।

জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করেন নিয়োগ প্রাপ্ত ও এলাকাবাসী হিসাবে, আব্দুল্লা আল মামুন, মোহাম্মদ আলী সরকার, ভুপাল চন্দ্র অধিকারী, রমনী কান্ত রায় ও ফারুক হোসেন।

সাতোর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারন সম্পাদক সরকার মাহামুদুন নবী ওয়াট বলেন, আমি ছিলাম ঠুটো জগন্নাথ। ৪ দলীয় জোট সরকারের সুবিধা নেওয়ার জন্যই শুধুমাত্র আমাকে কলেজের সভাপতি বানিয়েছিলো। কিন্তু নিয়োগ দেওয়া ও প্রতিষ্ঠান করার ব্যপারে একমাত্র রেজাউল করিম শেখ অধ্যক্ষ হিসাবে নিজেই সব পালন করেছে। আমাকে সভাপতি বানিয়ে যদি লাভ পায় তাই হয়তো সভাপতি বানিয়েছিল।

সাতোর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যন, সাতোর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক, বীরগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ল জিন্দাপীর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ মোঃ রেজাউল করিম শেখ বলেন, যা ইচ্ছা লিখেন, আমি কিছুই বলতে পারবো না।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ছাড়াও অভিযোগকারীরা দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর নিকট আবেদন করে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে সরজমিনে তদন্তপূর্বক সত্য উৎঘাটন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেদখলীয় জমি উদ্ধার ও নিয়োগ প্রাপ্তদের নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করার আহব্বান জানায়।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী ও সুধী মহল দাবি করে বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলা শহর হতে প্রায় ১৬/১৭ কিলোমিটার দূরে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে এলাকার গরিব-দুঃখী ও ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে পুনরায় কলেজটি স্থাপন করার জন্য জোর দাবি জানায়।

Print Friendly, PDF & Email