পদ্মা সেতু আমাদের গৌরব

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২২ | আপডেট: ৩:৪৬:অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২২

১৮ কোটি মানুষের উচ্ছ্বসিত অপেক্ষায় থাকা এক বিস্ময়কর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ নির্মাণ করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সাধের পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন অনুভব করে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন।

ফিলিপ লারকিন লিখেছেন- “একটি সেতুর দ্বারাই আমরা বাস করি।” সেতুগুলো আমাদের সংযোগের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিনিধিত্ব করে, বিভাজন জুড়ে ওঠার জন্য এবং এটি আকাঙ্ক্ষাগুলোর অসমাপ্ত কাজ যা সেতুগুলোর মাঝে এমন আলোড়ন সৃষ্টি করে, বিশেষ করে যখন তারা চতুরতার ধারণায় হয় বিস্ময়কর। ফিলিপ পৌরাণিক কাহিনী, কুসংস্কার, সাহিত্যিক এবং আদর্শিক চিত্রের পাশাপাশি স্থাপত্য এবং বাদ্যযন্ত্রের চিত্রের একটি সমৃদ্ধ সংকলন তৈরি করেছিলেন, অফ ব্রিজস নয়টি বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টারে, সেতুগুলির একটি কাব্যিক এবং দার্শনিক ইতিহাসকে সংগঠিত করেছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন সময় এবং স্থানগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট গদ্যে লাফিয়ে, টমাস হ্যারিসন মানব সেতুগুলোর বিভিন্ন অর্থ এবং ভ্যালেন্সের একটি প্যানোরামিক বিবরণ দিয়েছেন, প্রশ্ন করেছেন কেন সেগুলি তৈরি করা হয়েছে এবং তারা এগুলোকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্বায়িত বিশ্বের মেগা-সেতু হিসাবে সেতুগুলির পর্যালোচনায় দেখা যায় পদ্মা-সেতু আবেগপূর্ণ সে সংযোগগুলোর মাঝে নিজের একটি অবস্থান করে নিতে যাচ্ছে।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়েছে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটেছে। চলতি বছরের ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্ভোদনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্পান ইতিমধ্যে বসানো সম্পন্ন হয়েছে, ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় সেতু। পদ্মা সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি জানিয়েছে, পদ্মা সেতু যান চলাচলের উপযোগী হতে ২০২২ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত লেগে যাবে। ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী

পদ্মা সেতুর নকশা

পদ্মা বহুমুখী সেতুর সম্পূর্ণ নকশা এইসিওএমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল তৈরি করে। বাংলাদেশের প্রথম বৃহৎ সেতু প্রকল্প যমুনা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরি করা হয়। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সভাপতি নিযুক্ত করা হয়। এ প্যানেল সেতুর নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রকল্প কর্মকর্তা, নকশা পরামর্শক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদান করে।

পদ্মা সেতুর কর্মপরিকল্পনা

পদ্মা সেতুর ভৌত কাজকে মূলত পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে যথা— (ক) মূল সেতু, (খ) নদী শাসন, (গ) জাজিরা সংযোগকারী সড়ক, (ঘ) টোল প্লাজা ইত্যাদি। মাওয়া সংযোগকারী সড়ক, টোল প্লাজা ইত্যাদি এবং মাওয়া ও জাজিরা সার্ভিস এলাকা। প্রকল্পে নিয়োজিত নকশা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মনসেল-এইকম’ ভৌত কাজের ঠিকাদার নিয়োগের প্রাক-যোগ্যতা দরের নথি প্রস্তুত, টেন্ডার আহ্বানের পর টেন্ডার নথি মূল্যায়ন, টেন্ডার কমিটিকে সহায়তাসহ এ-সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল নকশা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারক করত। ভৌত কাজের বিভিন্ন প্যাকেজের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি।

 

বিশ্বের দীর্ঘতম ১০ সেতু নিয়ে বিবিসি এর টমাস লিং একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন- ১. দানিয়াং-কুনশান গ্র্যান্ড ব্রিজ, চীন (১৬৪ কিমি), ২. চাংহুয়া-কাওশিউং ভায়াডাক্ট, তাইওয়ান (১৫৭ কিমি, ৩. ক্যাংডে গ্র্যান্ড ব্রিজ, চীন (১১৬ কিমি), ৪. তিয়ানজিন গ্র্যান্ড ব্রিজ, চীন (১১৩ কিমি), ৫. ওয়েনান ওয়েইহে গ্র্যান্ড ব্রিজ, চীন (৭৯ কিমি) ৬. ব্যাং না এক্সপ্রেসওয়ে, থাইল্যান্ড (৫৪ কিমি) ৭. বেইজিং গ্র্যান্ড ব্রিজ, চীন (৪৮ কিমি) 8. লেক Pontchartrain Causeway, USA ৩৮ কিমি ৯. উহান মেট্রো ব্রিজ, চীন ৩৭ কিমি ১০. মানচাক সোয়াম্প ব্রিজ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৩৬ কিমি)।

বাংলাদেশের পদ্মা সেতু হলো পদ্মা নদীর উপর একটি বহুমুখী সড়ক-রেল সেতু; যা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সেতু এবং সড়ক চলাচলের জন্য প্রথম নির্দিষ্ট নদী পারাপারের মাধ্যম। এটি লৌহজং, মুন্সীগঞ্জকে শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের সাথে সংযুক্ত করছে, এছাড়াও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সাথে তা সংযুক্ত করবে। বাংলাদেশের স্বপ্নীল ও আবেগপূর্ণ এ পদ্মা-সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিমি।

পদ্মা তীরের মানুষ আনন্দে আত্মহারা সেতু উদ্বোধনের কাউন্ট ডাউনের দিনটি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে পরিবর্তন হয়েছে কাজের পরিধি ও পরিসর। মাওয়ার আশপাশে তৈরি হচ্ছে নতুন করে নগরায়ন, দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীসহ হাজার হাজার শ্রমিক কর্মীদের পদচারণায় প্রকম্পিত হচ্ছে জনপদ ।স্বপ্নের এ পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা আর সেতুর নিচতলার রেললাইন ঘিরে রাজধানী ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত চলমান রেল লিঙ্ক প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু ঘিরে উচ্ছ্বাস (২৪ মে ২০২২) শিরোনামে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে প্রকাশ, “বিশ্বব্যাংক টালবাহানা করে অর্থ প্রদানে সরে দাঁড়ালে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় নিজস্ব অর্থায়নে মূল নির্মাণ শুরু হয় স্বপ্নের পদ্মা সেতুর।

লৌহজংয়ের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, এই ভালো লাগা ভাষায় বোঝাতে পারবো না। বহু প্রতীক্ষিত সেতু খুলে দেওয়ার দিন তারিখ হয়েছে, এই সংবাদটি আমাদের জন্য বিশেষ করে পদ্মা পাড়ের মানুষের জন্য গৌরবের।

মাওয়ার স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর মিয়া বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন-তারিখ ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে দেশ পদ্মা সেতুর যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। মেদিনীমণ্ডল গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু চালুর মধ্যদিয়ে পুরো অঞ্চলের চেহারা বদলে যেতে শুরু করেছে। অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে। আর সেতুর কাজ শুরু থেকে ২০১৫ শেষ দিকের সঙ্গে ২০২২ সাল তুলনা বিস্ময়কর। চিন্তা করা যায় না কত বেশি বদলে গেছে সেতুর দুই পাড়।

কুমারভোগ চাঁন্দের বাড়িতে ১/২টি দোকান ছিল। সেখানে এখন বহুতল মার্কেট। বিপণিবিতান, ব্যাংক-বীমাসহ শত শত দোকান। মুন্সীগঞ্জের লৗহজং ও শ্রীনগর পাশাপাশি দুইটি উপজেলায় ও শরীয়তপুরের জাজিরা এবং মাদারীপুরের শিবচর এই চার উপজেলায় বড় রকমের পরিবর্তন স্পষ্ট। সব খানেই পদ্মা সেতুর জৌলুস।

সংবাদ (২৪ মে ২০২২) এক প্রতিবেদনে সেতু বিভাগের বরাত দিয়ে জানায়, সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের জন্য ম্যুরাল ও ফলক নির্মাণের কাজ চলছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে ৪০ ফুট উচ্চতার দুটি ম্যুরাল নির্মিত হচ্ছে। দুটি ম্যুরালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি থাকবে। এর পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে উদ্বোধনী ফলক।

বাংলাদেশ দীর্ঘ সংগ্রামের কণ্টকাকীর্ণ এক পথ ধরে বেশ কয়েকটি মাইলফলক অতিক্রম করেছে এবং গৌরব ও গর্বের সাথে স্মরণীয় এক উদযাপনের মাধ্যমে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময়ে পা দিয়েছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধির সাথে দেশটিতে তার মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত ৩টি মানদণ্ড পূরণ করায় বাংলাদেশকে এলডিসি বিভাগ থেকে স্নাতক হওয়ার যোগ্যতা অর্জনে ও সহায়তা করেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের লক্ষ্যে ও কাজ করছে। সামনে আরো অনেক কিছু অর্জনের পথকে খুলে দিয়েছে পদ্মা সেতু। বাংলাদেশ তার ৫০তম জন্মদিন, গৌরব ও গর্বের সাথে উদযাপন করেছে ২৫ জুন স্মরণীয় আরেক উদযাপনে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে তা এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সাথে জড়িত প্রত্যেকেরই একটি মহান “ধন্যবাদ” প্রাপ্য ৷ ব্রিজের এ গ্রান্ড উদ্বোধন একটি ঐতিহাসিক বিষয়, দেশবাসী আনন্দিত যে এত মানুষ এটি উদযাপন করতে এবং ইতিহাসের অংশ হতে চলেছেন ৷ এ দিনের স্মৃতিগুলো নতুন শহরের যাদুঘরে কোনো এক সময়ে প্রদর্শিত হবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য দেখা, কথা বলা হবে. যদিও পদ্মা সেতু আমাদের ভবিষ্যতের সেতু, জাদুঘরটি হবে আমাদের অতীতের সেতু। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্বপ্ন দেখা এবং সৃজনশীল হওয়া। নতুন এ পদ্মা সেতু বিস্ময়কর, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একটি সফল রূপান্তর । চিরস্মরণীয় হোক পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন।

পদ্মা সেতুর নির্মাণব্যয়

পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট খরচ করা হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি। বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার। ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতুর ক্রমিক ব্যয়বৃদ্ধি

২০০৫-এ পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১২,০০০/- কোটি টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় পৃথিবীর অন্যান্য তুলনীয় সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের নিরিখে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী সর্বমোট নির্মাণ ব্যয় ১০,০০০/- কোটি টাকায় সীমিত রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।

২০০৭ এর আগস্ট মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একনেক-এর সভায় পদ্মা সেতুর চূড়ান্ত প্রাক্কলন ১০,১৬১/- কোটি অনুমোদন করা হয়।

পরবর্তী কালে বিভিন্ন সময়ে প্রাক্কলন বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ অনুমোদিত প্রাক্কলনের পরিমাণ ৩০,১৯৩/- কোটি টাকা যা মূল প্রাক্কলনের চেয়ে ২০,০৩২/- কোটি টাকা বেশী। বলা হয়েছে বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়াই প্রকল্প ব্যয় এতো বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ।

মার্কিন ডলারের হিসাবে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সড়ক-রেল সেতুর নির্মাণ ব্যয় এগারো বছরে ১.৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩.৫৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। চীনের ৬.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ উফেনসাং ইয়াংজী সড়ক-রেল সেতু ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চালু করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে তুলনীয় এই সেতুর নির্মাণে ৪ বছর লেগেছে এবং ব্যয় হয়েছে ১.০৫ বিলিয়ন ডলার যা পদ্মা সেতুর এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও কম।

২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন

পদ্মা সেতু আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হচ্ছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সেতু উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আজ মঙ্গলবার গণভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ইতিমধ্যে পদ্মা সেতু পারাপারের জন্য টোলের হার নির্ধারণ করেছে সরকার। ১৭ মে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিবহনের জন্য আলাদা আলাদা টোলের হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে, পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং মাঝারি ট্রাকে লাগবে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

গত ২৮ এপ্রিল পদ্মা সেতুর জন্য টোলের হার প্রস্তাব করে অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠায় সেতু মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অনুমোদনের পর তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুসারে, সেতু বিভাগ থেকে যে টোলের হার প্রস্তাব করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর তা হুবহু অনুমোদন দিয়েছে।

সরকারের নির্ধারণ করা টোলের হার অনুসারে, বর্তমানে ফেরিতে পদ্মা নদী পার হতে যে টাকা লাগে, সেতু পার হতে এর চেয়ে গড়ে দেড় গুণ টাকা খরচ করতে হবে। আর দ্বিতীয় দীর্ঘতম বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলের সঙ্গে তুলনা করলে তা হবে প্রায় দ্বিগুণ।

পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

ইউনূসকে চুবানি দিয়ে পদ্মা সেতুতে তোলা, আর খালেদাকে টুস করে নদীতে ফেলা উচিত: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন

পদ্মা সেতু দিয়ে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত সহজ হবে, সময়ও কমবে। চলাচল সহজ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে পদ্মা সেতু। সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

Print Friendly, PDF & Email