ভোলা জেলার নামকরন ও ইতিহাস ঐতিহ্য

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২২ | আপডেট: ৬:২৩:অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২২

ভোলা ১৮৪৫ সালে নোয়াখালী জেলার অধীনে মহকুমা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। তখন এর প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল বর্তমান দৌলতখান। পরবর্তীতে ১৮৬৯ সালে ভোলা মহকুমা বৃহত্তর বরিশাল জেলার মহকুমায় উন্নীত হয় এবং ১৮৭৬ সালে এর সদর দপ্তর দৌলতখান হতে ভোলা শহরে স্থানান্তরিত করা হয়। মূলত তখন হতেই ভোলা শহরাঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠতে থাকে

ভোলার নামকরণের পেছনে স্থানীয়ভাবে একটি কাহিনি প্রচলিত আছে। ভোলা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার মত অপ্রশস্ত ছিলনা। একসময় এটা পরিচিত ছিল বেতুয়া নদী নামে। খেয়া নৌকার সাহায্যে নদীতে পারাপার চলত। থুরথুরে বুড়ো এক মাঝি খেয়া নৌকার সাহায্যে লোকজনকে পারাপারের কাজ করতো। তার নাম ছিল ভোলা গাজি পাটনি। আজকের যোগীর ঘোলের কাছেই তার আস্তানা ছিল। এই ভোলা গাজির নামানুসারেই একসময় নামকরণ হয় ভোলা।

আয়তন: ৩৭৩৭.২১ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২১°৫৪´ থেকে ২২°৫২´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৩৪´ থেকে ৯১°০১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা, মেঘনা নদী এবং শাহবাজপুর চ্যানেল, পশ্চিমে পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলা এবং তেঁতুলিয়া নদী।

জনসংখ্যা ১৭০৩১১৭; পুরুষ ৮৮৪০২৮, মহিলা ৮১৯০৮৯। মুসলিম ১৬৩০৪৬০, হিন্দু ৭২২৭৫, বৌদ্ধ ৯৯, খ্রিস্টান ৬৮ এবং অন্যান্য ২১৫।

জলাশয় মেঘনা, শাহবাজপুর চ্যানেল, তেঁতুলিয়া ও গণেশপুরা নদী এবং দারোগার খাল উল্লেখযোগ্য।

মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে ভোলা সদর উপজেলার ঘুইংগার হাটে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে ১২১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ২৭ অক্টোবর ভোলা থেকে ১০ কিমি দূরে টনির হাট নামক স্থানে আনছার এডজুট্যান্ট আলী আকবর একদল মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে পাকবাহিনীকে আক্রমণ করার জন্য অবস্থান নেয়। পাকবাহিনী এসে অতর্কিতে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ চালিয়ে ৮০ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেক গ্রামবাসীকে হত্যা করে। এসময় মুক্তিযোদ্ধারা ভোলা থেকে ৭ কিমি দূরে ঘুইংগার হাটে পাকসেনাদের উপর আক্রমন চালিয়ে ৫ জন পাকসেনাকে হত্যা করে।

প্রশাসন নোয়াখালী জেলার অধীনে ১৮৪৫ সালে ভোলা মহকুমা গঠিত হয়। দৌলতখানের আমানিয়া ছিল তখন এর প্রশাসনিক কেন্দ্র। ১৮৬৯ সালে মহকুমাটি বরিশালের সঙ্গে যুক্ত হয়। তখন দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন হাট নামক দুটি থানা এবং তালতলি, গাজীপুর ও তজমুদ্দিন নামক তিনটি আউটপোস্ট নিয়ে এই মহকুমা গঠিত হয়। ১৮৭৬ সালে দৌলতখান থেকে ভোলায় মহকুমা সদর স্থানান্তরিত হয়। ভোলা পৌরসভা গঠিত হয় ১৯২০ সালে। ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এটিকে জেলায় রূপান্তর করা হয়। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে চর ফ্যাশন উপজেলা সর্ববৃহৎ (১৪৪০.০৪ বর্গ কিমি) এবং সবচেয়ে ছোট উপজেলা বোরহানউদ্দিন (২৮৪.৬৭ বর্গ কিমি)।

প্রাকৃতিক অনেক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েও ভোলাবাসী এখনও আশার আলো দেখতে চায়। এ নৈস্বর্গিক দ্বীপ ভোলা জেলায় মূল্যবান প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ শুধু জেলাবাসীর জন্যই নয় সমগ্র দেশের জন্য আশানুরূপ সুফল বয়ে আনার প্রত্যাশা রাখে। এ জেলায় উৎপাদিত রূপালী ইলিশ ভোলা বাসীর চাহিদা পূর্ণ করে দেশের অন্যান্য জেলায় এমনকি বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। চরফ্যাশন,তজুমুদ্দিনসহ অন্যান্য উপজেলায় উৎপাদিত বাগদা চিংড়ি চাষের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক মৎস্য চাষী মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের সুফল বয়ে এনেছেন। বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রাপ্ত গ্যাস সম্পদকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উত্তোলনের মাধ্যমে গোটা দক্ষিণাঞ্চলকে গ্যাসের আওতায় এনে এখানে স্থাপন করা যায় একটি সার কারখানা। এছাড়াও এ গ্যাস দিয়ে ৪০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে ৩৪.৫ মেগাওয়াট বিদ্যূৎ পস্নান্টে এ গ্যাসের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরম্ন হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভোলার দক্ষিণে চর কুকরী মুকরী, ঢালচর, লতার চর ও চর নিজাম সহ অসংখ্য চর। নৈসর্গিক দৃশ্য সম্বলিত এ চরগুলো হতে পারে পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।
সমস্যা ও সম্ভাবনার বেদীমূলে দাঁড়িয়ে আজকের ভোলা তাকিয়ে আছে সামনের পানে। খাদ্যে উদ্বৃত্ত ও রূপালী ইলিশ সমৃদ্ধ হলেও ঝড়-জ্বলোচ্ছাস ও নদী ভাঙ্গনের তান্ডবকে নিয়তির অমোঘ বিধান বলে মেনে নিয়েছে এখানকার মানুষ। তাই বলে তারা থেমে থাকেনি। একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে তারা অবিশ্রান্তপরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলছে সম্মুখের পানে।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

নাজিউর রহমান মঞ্জুর
আ: রশিদ মাষ্টার (এম,এল,এ)
মরহুম মোতাহার মাস্টার
তোফায়েল আহমেদ
মোশারেফ হোসেন শাজাহান
আন্দালিব রহমান
সিদ্দিকুর রহমান
নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ
হাফিজ ইব্রাহিম
আলী আজম
জসিম উদ্দিন
হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ
নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন
সাদ জগলুল ফারুক
এম. এম. নজরুল ইসলাম
জাফর উল্যাহ চৌধুরী
নাজিম উদ্দিন আলম
আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব
মোস্তফা কামাল
নলিনী দাস (ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী)
আমিনুল হক (ফুটবলার)
তৌসিফ (অভিনেতা)

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী দৈনিক: আজকের ভোলাবাণী, বাংলার কণ্ঠ, আজকের ভোলা; সাপ্তাহিক: ফ্যাশন বার্তা, উপকূল বার্তা, প্রথম আকাশ, দ্বীপবাণী; সাময়িকী: আহবান; অবলুপ্ত: লালসূর্য, মনপুরা বাণী, শ্যামলী, আজকের ভোলাবাসী, দৈনিক বাংলার কণ্ঠ, মাসিক পল্লী চিত্র, সময়ের শিখা, শ্রাবনী, দ্বীপশিখা ।

লোকসংস্কৃতি পল্লিগীতি, লালনগীতি, ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, পালাগান, কবিগান, শিবের গাজন, মারফতি, হালখাতা, দুর্গাপূজা, চড়কপূজা উল্লেখযোগ্য।

দর্শনীয় স্থান চর কুকরী-মুকরী, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর (আলীনগর ইউনিয়ন, ভোলা সদর), মনপুরা দ্বীপ। [মো. শাখাওয়াত হোসেন]

Print Friendly, PDF & Email