পটুয়াখালী জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও ঐতিহ্য

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২২ | আপডেট: ৫:৫৮:অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২২

পটুয়াখালী জেলা বাংলাদেশের একটি জেলা। এটি বরিশাল বিভাগ এর অন্তর্গত। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত পটুয়াখালী বরিশাল বিভাগের একটি সম্ভাবনাময় জেলা। এর উত্তরে বরিশাল, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ভোলা এবং পশ্চিমে বরগুনা জেলা অবস্থিত। মেঘনা নদীর পলল ভূমি এবং ছোট ছোট চরাঞ্চল নিয়ে পটুয়াখালী গঠিত। সাগরকন্যা খ্যাত পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এ জেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

এখানে আছে একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূযোর্দয় এবং সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার অপূর্ব সুযোগ, যা বিশ্বে বিরল। তাই দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটকের কাছে কুয়াকাটা অনন্য এক দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত। পটুয়াখালী জেলার উত্তরে বরিশাল জেলা; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পুর্বে ভোলা জেলা এবং পশ্চিমে বরগুনা জেলা অবস্থিত। এই জেলাটি কলাপাড়া, গলাচিপা, দশমিনা, দুমকি, পটুয়াখালী সদর, বাউফল, মির্জাগঞ্জ এবং রাঙ্গাবালী – এই আটটি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত।

পটুয়াখালী জেলা (বরিশাল বিভাগ) আয়তন: ৩২২০.১৫ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২১°৪৮´ থেকে ২২°৩৬´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°০৮´ থেকে ৯০°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে বরিশাল জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ভোলা জেলা, পশ্চিমে বরগুনা জেলা। এ জেলা মেঘনা নদীর পললভূমি ও ছোট ছোট কয়েকটি চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত।

জনসংখ্যা ১৪৬০৭৮১; পুরুষ ৭৩৯৩৩১, মহিলা ৭২১৪৫০। মুসলিম ১৩৫০৯৬৮, হিন্দু ১০৭৮৯৩, বৌদ্ধ ৩৯১, খ্রিস্টান ১৩৩৮ এবং অন্যান্য ১৯১।জলাশয় আন্ধারমানিক, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা ও গলাচিপা, রাজগঞ্জ নদী; রাবনাবাদ চ্যানেল।

প্রশাসন সাবেক বাকেরগঞ্জ জেলার মহকুমা পটুয়াখালীকে জেলায় উন্নীত করা হয় ১৯৬৯ সালে। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে গলাচিপা উপজেলা সর্ববৃহৎ (১২৬৭.৮৯ বর্গ কিমি) এবং সবচেয়ে ছোট উপজেলা দুমকি (৯২.৪৬ বর্গ কিমি)।

নামকরণঃ
পটুয়াখালী শহরের বয়স প্রায় দেড়’শ বছর। এই নামের উৎপত্তি নিয়ে মতান্তর রয়েছে। কবে, কখন, কীভাবে পটুয়াখালী নামকরণ হয়েছিল তা বলা দুরূহ ব্যাপার। এ নামকরণ সম্পর্কে তেমন কোনো দালিলিক তথ্য নেই। পটুয়াখালী নামকরণের ক্ষেত্রে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশই স্বর্গীয় দেবেন্দ্র নাথ দত্তের পুরানো কবিতার সূত্র ধরে “পতুয়ার খাল” থেকে পটুয়াখালী নামকরণের উত্পত্তি বলে সমর্থন করেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে পর্তুগীজ জলদস্যুদের হামলা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন, অপহরণ ও ধ্বংসলীলায় বাকলা-চন্দ্রদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। এসময় বর্তমান পটুয়াখালী শহর এলাকা ছিল সুন্দরবন এবং নদীর উত্তর পাড়ে ছিল লোকালয়। উত্তর পাশের বর্তমান লাউকাঠী নদী ছিল লোহালিয়া ও পায়রা নদীর ভাড়ানী খাল।

এই ভাড়ানী খাল দিয়েই পর্তুগীজ জলদস্যুরা এসে গ্রামের পর গ্রামে চালাত লুণ্ঠন ও অত্যাচার। এ খাল দিয়ে পর্তুগীজদের আগমনের কারণে স্থানীয়রা তৈরি করে অনেক কেচ্ছা ও কল্প কাহিনী। এর নাম তখন সবার মুখে মুখে পতুয়ার খাল। পরবর্তীতে এই পতুয়ার খাল থেকেই পটুয়াখালীর উৎপত্তি হয়। ১৯৮০ সনে শেরেবাংলা টাউন হলে অনুষ্ঠিত ‘পটুয়াখালী জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ শীর্ষক সেমিনারে অধিকাংশ বক্তা, প্রবন্ধকার ও ‘বরিশালের ইতিহাস’-এর লেখক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ এই মতকে সমর্থন করেন। পটুয়াখালী নামকরণের অপর দু’টি মত হচ্ছে এ অঞ্চলে একসময় পটুয়ার দল বাস করত। এরা নিপুণ হাতে মৃৎপাত্র তৈরি করে তাতে নানা ধরনের পট বা ছবির সন্নিবেশ ঘটাত। এই ‘পটুয়া’ থেকে ‘পটুয়াখালী’ নামের উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। অথবা পেট-আকৃতির খাল বেষ্টিত এলাকাই হয়তো পেটুয়াখালী এবং পরে তা অভিহিত হয় পটুয়াখালী নামে। তবে শেষোক্ত অভিমত দু’টির কোনো জোরালো সমর্থন মেলেনি।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস:
কৃষি ৫৭.০৫%, অকৃষি শ্রমিক ৫.৩৭%, শিল্প ১.০৩%, ব্যবসা ১৩.৭৯%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ২.০৪%, নির্মাণ ২.১৩%, ধর্মীয় সেবা ০.২৬%, চাকরি ৯.২২%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৪০% এবং অন্যান্য ৮.৭১%।

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান:

কলাপাড়া উপজেলার দক্ষিণে বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত কেন্দ্রিক দ্বিতীয় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা অবস্থিত। প্রায় ১৮ কিলোমিটার বিস্তৃত কুয়াকাটা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। কুয়াকাটা থেকে পশ্চিমে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুয়াকাটা শুঁটকি পল্লী। এখান থেকে শুঁটকি মাছ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এছাড়া পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য রয়েছে সি ফিস মিউজিয়াম, বুড়া গৌরাঙ্গ সামুদ্রিক চ্যানেল, কুয়াকাটার সীমা বৌদ্ধ মন্দির, বুদ্ধের ধ্যানমগ্ন মূর্তি, রাখাইন পল্লী, নারিকেল বীথি, ঝাউবন, ফাতরার চর (ম্যানগ্রোভ), গঙ্গামতির চর, রাসমেলা, লেম্বুর চর ইত্যাদি। গলাচিপা উপজেলার সোনার চর থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। এখানে আরো আছে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রানী কমলার রাজধানী কালারাজা এবং রাবনাবাদ ও রাঙ্গাবালি চ্যানেল।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গণকবর ৩ (পটুয়াখালী শহরের পুরাতন জেলখানার অভ্যন্তরে এবং নতুন জেলখানার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে ও তুলাতলীতে); স্মৃতিস্তম্ভ ৪ (পুরাতন টাউন হলের সামনে, গলাচিপা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রাঙ্গণে, চিকনিকান্দি হাইস্কুল মাঠ ও পানপট্টিতে)।

জরুরি নম্বরসমূহ

ওসি, কলাপাড়াঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ৩২৩;
ওসি, গলাচিপাঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ৩২০;
ওসি, দশমিনাঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ৩২১;
ওসি, দুমকীঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ৩২২;
ওসি পটুয়াখালীঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ৩১৮;
ওসি, বাউফলঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ৩১৯;
ওসি, মির্জাগঞ্জঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ৩২৪;
ওসি, রাঙ্গাবালিঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ৩২৫।

Print Friendly, PDF & Email