নারীর বাঁধাধরা কয়েকটি রূপ আছে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১:০১ পূর্বাহ্ণ, মে ১৩, ২০২২ | আপডেট: ১:০৪:পূর্বাহ্ণ, মে ১৩, ২০২২

নারীকে মানুষই যদি না মনে করলেন, তাহলে অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন কার জন্য! নারী তো নারীই, মানুষ কিনা তাই আজ প্রশ্ন। কোথাও নারীকে একেবারেই বাদ দেয়া হয়েছে, আবার কোথাও নারীকে পুরুষের অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। তাইতো পুরুষের গড়া এই সমাজে নারী নির্যাতন চলছে তো চলছেই।

ঐতিহ্যগতভাবে মেয়েলি হিসেবে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো কোমলতা, নম্রতা, সহানুভূতি,সহনশীলতা এবং সংবেদনশীলতা, যদিও নারীত্বের সঙ্গে যুক্ত বৈশিষ্ট্য অবস্থান এবং প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে, এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণের দ্বারা প্রভাবিত হয়। নারীত্বের প্রতিরুপ পুরুষত্ব।

পুরুষের কাছে নারীর বাঁধাধরা কয়েকটি রূপ আছে। মা, বোন, স্ত্রী এবং কন্যা। এর বাইরে যে কোন রূপী নারী তার কাছে আর সাধারণ নারী নন। তারা হয়ে যান পরনারী। আর পরনারী মানেই নষ্টা, ভ্রষ্টা, অপয়া, দেহসর্বস্ব একটি সাকার অস্তিত্ব। নারী যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজের পরিচয়ে নারী হতেই পারেন না। চারিত্রিক স্খলন রোধে নারীকে তাই ডিফল্ট ফর্মেই হাজির হতে হবে পৃথিবীর মানুষের কাছে। পুরুষ নারীকে মানুষ হিসেবে ভালবাসে না, ভালবাসে মাকে, ভালবাসে বোনকে, কন্যাকে। আর বিশেষ পরিস্থিতিতে স্ত্রীরূপের নারীকে। যত যাই হোক শরীরের অবদমন না করে যে নারীর কাছে সহজেই নিজের পুরুষালি অস্তিত্বের চর্চা করা যায় সে নারীকে কিছু সময়ের জন্য ভালবাসতেই হয়।

নারীর নারীত্বের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিভিন্ন বই-পুস্তক ও সাহিত্যে বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। নারীর পূর্ণতা নাকি মাতৃত্বে। তার মানে যারা মা হতে পারবেন না তারা আর যত যাই হোন না কেন তাদের নারী জীবন বৃথা! তাদের জীবন অপূর্ণ? কিংবা যারা মা হতে চান না তারা নারী নন?

এই সমাজে কোন নারী চোয়াল শক্ত করে বলতে পারেন না তিনি বাচ্চা চান না। পুরুষের একচ্ছত্র সিদ্ধান্তকে নারীর মাথানত করে গ্রহণ করতে হয়। নারীর যদি কিছু থেকে থাকে তো শুধু একটি রক্ত-মাংসের দেহ কিন্তু এই দেহকেও তার অন্যের মর্জিমাফিক চালাতে হয়। নিজের শরীরের প্রতি নারীর নিজের কোন অধিকার নেই। বিয়ে যতদিন না হচ্ছে ততদিন এই শরীর বাবা-মায়ের, বিয়ে হলে বরের। চুল কতখানি লম্বা রাখতে হবে, জামা-কাপড় কেমন পরবে, কিভাবে পরবে সকল সিদ্ধান্তই নারীর প্রভুদের। আর নারী জীবনের এক এবং একমাত্র লক্ষ্য বিয়ে করে স্বামী-সংসার ও সন্তান উৎপাদন। তারপর দিনের পর দিন ইচ্ছেয়-অনিচ্ছেয় শয্যাসঙ্গী হয়ে আরেকজনের ঘরে বেঁচে থাকা। এর অন্যথা কোনভাবেই করা চলবে না, এটা যুগে যুগে পুরুষতন্ত্রের নির্দেশ। এ নির্দেশ অমান্য করলে চলবে না। এ নিয়মেই এত কাল সমাজ চলেছে। হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা নিয়ম-নীতিকে মূর্খ ছাড়া আর কেই বা অপ্রয়োজনীয় বলে ঘোষণা করে!

পুরুষ বলেন ‘নারী মায়ের জাত’। এক মিনিট, আমার আপত্তি আছে; আমার সাথে আরো অনেকেরই আপত্তি আছে। নারী শুধু নারীর জাত। কোন মায়ের জাত, বৌয়ের জাত, বোনের জাত, কন্যার জাত নয়। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে নারীকে বিভিন্ন সম্পর্কের নারী হয়ে যেতে হয় কিন্তু আলাদা করে সে কোন জাত নয়। সে কেবলি একজন নারী, একজন মানুষ। নিজের ইচ্ছের, পছন্দের, ভালবাসার, সিদ্ধান্তের জাত। এখনো অনেক নারী এবং পুরুষও মনে করেন নারী বিষয়ক যেকোন আলোচনা অশ্লীল, বিতর্কিত। নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলাও এই অশ্লীল, বিতর্কের অংশ।

কে কেমন মানুষ এবং কোন নারীর চরিত্র কেমন?
চলুন তবে জেনে নেয়া যাক নাভি আকৃতি দেখে নারীদের গোপন তথ্য- গোল আকৃতির নাভি যাদের নাভি গোল হয়, সেই নারীরা খুব সরল ও সাদাসিধে এবং ঘরোয়া হয়। শাস্ত্র বলছে, এই নারীরা সংসারে সুখ সমৃদ্ধি আনে।
গভীর নাভিযে নারীদের নাভি গভীর হয়, তারা বন্ধুত্ব করতে খুব ভালোবাসেন। শাস্ত্র বলছে, এরা সংসারে সুখ ও সমৃদ্ধি আনে। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে না।চন্দ্রাকার নাভিশাস্ত্র মতে, যাদের নাভি চাঁদের মতো, সেইসব নারীদের থেকে পুরুষদের দূরে থাকাই ভালো। কারণ এরা কারো উপর বিশ্বাস করেন না।নাভি যদি বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকেযদি কোনো নারীর নাভি বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকে, তারা খুব সৌভাগ্যবতী হন। যেখানে এরা যান, সেখানে ধন-সম্পত্তির কোনো কমতি থাকে না।নাভির ভিতরের অংশ অনেকটা বাইরে থাকলেসেক্ষেত্রে সেই নারীরা খুব কঠোর প্রকৃতির হয়। এটাও বলা হয়, মা হতে গিয়ে এই নারীদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।যাদের নাভি খুব সেন্সিটিভ হয়যাদের নাভি খুব সেন্সিটিভ, তারা খুব হাসিখুশি হয়। কঠিন পরিস্থিতিতেও মুখের হাসি বজায় থাকে এদের।

গভীর নাভিযে নারীদের নাভি গভীর হয়, তারা বন্ধুত্ব করতে খুব ভালোবাসেন। শাস্ত্র বলছে, এরা সংসারে সুখ ও সমৃদ্ধি আনে। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে না।চন্দ্রাকার নাভিশাস্ত্র মতে, যাদের নাভি চাঁদের মতো, সেইসব নারীদের থেকে পুরুষদের দূরে থাকাই ভালো। কারণ এরা কারো উপর বিশ্বাস করেন না।নাভি যদি বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকেযদি কোনো নারীর নাভি বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকে, তারা খুব সৌভাগ্যবতী হন। যেখানে এরা যান, সেখানে ধন-সম্পত্তির কোনো কমতি থাকে না।নাভির ভিতরের অংশ অনেকটা বাইরে থাকলেসেক্ষেত্রে সেই নারীরা খুব কঠোর প্রকৃতির হয়। এটাও বলা হয়, মা হতে গিয়ে এই নারীদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।যাদের নাভি খুব সেন্সিটিভ হয়যাদের নাভি খুব সেন্সিটিভ, তারা খুব হাসিখুশি হয়। কঠিন পরিস্থিতিতেও মুখের হাসি বজায় থাকে এদের।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘একজন নারী আরেক জনের পূর্ব পরিচিত মানেই যে সেই ব্যক্তিকে নারীর শরীরের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বা ধর্ষণের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বিষয়টি এমন না। একজন নারী-পুরুষের পূর্ব পরিচয় থাকতেই পারে। ধর্ষণের ঘটনায় এই ধরনের শব্দ সামনে আনা মোটেই উচিত না।’

তিনি বলেন, ‘এই “পূর্ব পরিচিত” শব্দের মাধ্যমে নারীর চরিত্র হনন করা হয় এবং সেই নারীর সঙ্গে আগেও শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক হয়েছে এটা বুঝানোর চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনার পাশাপাশি মামলাটিও দুর্বল হয়ে যায়।’

সারা হোসেন বলেন, ‘এসব কারণে ধর্ষণের পরে নারীরা আইনের আশ্রয় নিতে চান না। এখানে ভিকটিম ব্লেমিং বেশি করা হয়। আমাদের এসব বিষয়ের অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। তাছাড়া এসব ঘটনায় পুলিশের এমন কথা বলা মোটেও উচিত না। তাদেরকে আরও সতর্ক হতে হবে।’

Print Friendly, PDF & Email