প্রাচীন ঐতিহ্য মিয়াবাড়ি মসজিদ বরিশাল

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২২ | আপডেট: ১০:৫৪:অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২২

মসজিদ মুসলমানদের দলবদ্ধভাবে নামাজ পড়ার জন্য নির্মিত স্থাপনা। শব্দটির উৎপত্তি আরবি “السجود” থেকে, যার আভিধানিক অর্থ শ্রদ্ধাভরে মাথা অবনত করা অর্থৎ সিজদাহ করা। সাধারণভাবে, যেসব ইমারত বা স্থাপনায় মুসলমানেরা একত্র হয়ে প্রাত্যহিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (আরবি: صلاة সালাত) আদায় করেন, তাকে মসজিদ বলে। আবার যেসব বড় আকারের মসজিদগুলো নিয়মিত নামাজের সাথে সাথে শুক্রবারের জুম’আর নামাজ আদায় হয় এবং অন্যান্য ইসলামিক কার্যাবলী (যেমন: কোরআন শিক্ষা দেওয়া) সম্পাদিত হয়, সেগুলো জামে মসজিদ (مسجد جامع) নামে অভিহিত।

বরিশাল সদরের কড়াপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের সুপ্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনিন্দ্য সুন্দর আকর্ষণ মিয়াবাড়ি মসজিদ। এটি ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত বলে মনে করা হয়। বরিশালের হাতেম আলী কলেজের চৌমাথা থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মসজিদটি।

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদটি মুঘল আমলে নির্মিত বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মসজিদ। এ মসজিদটি দ্বিতলবিশিষ্ট। মসজিদটি দেখতে অনেক সুন্দর ও কারুকার্যমণ্ডিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, কড়াপুর মিয়াবাড়ী মসজিদ দেখতে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি এখনো ইটের সলিং দেওয়া। প্রতিদিন ঐ রাস্তা দিয়ে গ্রামের প্রায় কয়েক শতাধিক মানুষ যাতায়াত করেন।

প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসের পরও এই রাস্তাটি এখনো কার্পেটিং হচ্ছে না বলে জানান এলাকাবাসী।Korapur Miah Bari Mosque- Barisal District – Mosjid

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, ‘মুঘল আমলে নির্মিত মসজিদটি এই অঞ্চলের প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিনিয়ত মানুষ জন ছুটে আসছেন।’

‘কিন্তু যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি সংস্কারের অভাবে দিন দিন যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।’ এ সময় তিনি মসজিদটি দেখতে আসা সড়কটির পুনসংস্কারের দাবি জানান।

বরিশাল সদরের উত্তর কড়াপুর গ্রামে আঠারো শতকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয় বলে ধারণা করা হয়। সম্প্রতি কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদটি রঙ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এটির মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

আয়তক্ষেত্রকার এই মসজিদটির উপরিভাগে তিনটি গম্বুজ রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে মাঝখানের গম্বুজটি অন্য দুটি গম্বুজের চেয়ে আকারে কিছুটা বড়। শুধু বাহিরের অংশেই নয়, মসজিদের ভেতরে প্রতিটি গম্বুজেই রয়েছে সুনিপুণ কারুকাজ।

আরো পড়ুন:

ঈদের ৭ পর্বের নাটক ‘ভাই খুব সেনসেটিভ’

স্বাস্থ্য সচেতনতায় নবিজীর (সা.) উপদেশ

কক্সবাজারে মাটি ফুঁড়ে আগুন

আরও উল্লেখ্য যে বিদ্রোহের কারণে ইংরেজ শাসকরা তাকে প্রিন্স অব ওয়েলস দ্বীপে নির্বাসিত করেন। ইংরেজরা তার উমেদপুরের জমিদারিও কেড়ে নেয়। দীর্ঘ ১৬ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি দুটি দীঘি এবং দোতলা একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মিয়াবাড়ি মসজিদের পূর্ব পাশে কয়েক একর নিয়ে বিশাল একটি দীঘিও রয়েছে, যা মসজিদের সৌন্দর্যকে আরো নয়নাভিরাম করে তুলেছে।

ছাড়াও মসজিদটির দোতলায় ওঠার জন্য রয়েছে আলীশান সিঁড়ি। সিঁড়ির গোড়ায় হেলান দিয়ে বসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মসজিদটি প্রাচীনকালে ইসলামপ্রিয় মানুষের রুচি ও স্থাপত্য শিল্পের সৌন্দর্য বর্ধনে সুউচ্চ মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

কিভাবে যাবেন:

বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে আলফা-মাহিন্দ্রা বা অটোতে করে সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথায় যাবেন। ভাড়া জন প্রতি ১০ টাকা। এদিকে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল কিংবা রুপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে একই বাহনে করে চৌমাথা যেতে পারবেন। এরপর সেখান থেকে পশ্চিমের নবগ্রাম রোডে আলফা-মাহিন্দ্রা বা ম্যাজিক গাড়িতে করে পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটু আগে নামতে হবে। এখানে জন প্রতি ভাড়া ২০ টাকা।

এরপর রাস্তার ডান পাশের ছোট বাইপাস সড়ক ধরে দশ মিনিট হাটলেই কড়াপুর মিয়া বাড়ি মসজিদে পৌঁছে যাবেন। এছাড়াও আলফা-মাহিন্দ্রা কিংবা অটো রিজার্ভ করে আপনি সেখানে যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা।

Print Friendly, PDF & Email