বরগুনার আমতলীতে তরমুজ গাছে ফুল ধরেছে কিন্তু ফল ধরেনি! শত কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা।

আল নোমান আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১:০৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২২ | আপডেট: ১:০৯:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২২

তরমুজ গাছে ফুল ধরলেও নির্ধারিত সময়ে ফল ধরেনি। দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা। গাছে ফলন না ধরার শত কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এতে সর্বসান্ত হয়ে যাবে উপজেলার কয়েক হাজার তরমুজ চাষি। দ্রুত কৃষি বিভাগকে গাছের এমন সমস্যা নিরসনে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা।
আমতলী কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার আঠারোগাছিয়া, হলদিয়া, সদর, চাওড়া, কুকুয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নে এ বছর ২ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। চাষিদের নিরলস পরিশ্রমে তরমুজ গাছ ভালো হয়েছে। কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেধেছিল। কিন্তু তরমুজ গাছে প্রচুর ফুল ধরলেও ফল ধরেনি। এতে কুষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছেন। গাছে ফলন না ধরায় শত কোটি টাকা লোকসান হবে বলে দাবী কৃষকদের। উপজেলার অন্তত ৭০ ভাগ তরমুজ খ্েেতর এমন অবস্থা বলে দাবী করেন চাষিরা। গাছে ফলন না আসায় উপজেলার কয়েক হাজার চাষি নিস্ব হয়ে যাবে বলে জানান তারা। দ্রুত কৃষি বিভাগকে গাছের এমন সমস্যায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা। অভিজ্ঞ তরমুজ চাষি আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার দাবী করেন, বৈরি আবহাওয়ার কারনে গাছের এমন বিপর্যয় হয়েছে। তাছাড়া যারা আগে তরমুজের বীজ বপন করেছে তাদের এমন অবস্থা হয়নি কিন্তু যারা বীজ পরে বপন করেছে তাদেরই গাছের প্রচুর ফুল ধরেছে কিন্তু ফল ধরেনি। তিনি আরো বলেন, জমিতে বেশী সার ্ওষুধ প্রয়োগ করায়ও এমন অবস্থা হতে পারে।
মঙ্গলবার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা, চন্দ্রা, হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রাওঘা, কুকুয়ার কৃষ্ণ নগর, আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী, গুলিশাখালী ও টেপুড়া গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ ভরা তরমুজ ক্ষেত। ক্ষেতে প্রচুর ফুল ধরেছে কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও গাছে ফল ধরেনি।
পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের বাহাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ধার দেনা করে এ বছর ২৬ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। গাছে প্রচুর ফুল দেখে আশা করেছিলাম এ বছর বাম্পার ফলন হবে। কিন্তু তরমুজ চাষিদের সেই আশায় গুড়ে বালি। প্রচুর ফুল হলেও নির্ধারিত সময়ে পেরিয়ে গেলেও ফল হচ্ছে না।
একই গ্রামের সোহেল রানা বলেন, সারা ক্ষেত জুড়ে তরমুজ গাছের প্রচুর ফুল ধরেছে কিন্তু ফল ধনেনি। এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছেন। ফল না হলে চাষিদের শত কোটি টাকার লোকসান হবে।
পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের কৃষক মজিবর হাওলাদার বলেন, মোর সব শ্যাস অইয়্যা গ্যাছ্,ে মুইএ্্যাহন কি হরমু? দুই লাখ টাহা ধার কইর‌্যা তরমুজ দিছি সেই তরমুজ খ্যাতে ফুল অইছে তরমুজ অয়নি।
কৃষক হাসান মৃধা বলেন, ধার দেনা করে তরমুজ চাষ করেছি কিন্তু কোন ফলই হবে না।
শহীদ মৃধা, লিয়াকত হাওলাদার, সেলিম মৃধা, মান্নান হাওলাদার, মিলন চৌকিদার, রিয়াজ হাওলাদার, ওহাব মৃধা, মোকলেস মৃধা, কালাম, মামুন ও জহিরুল বলেন, ভালো ফলনের আশায় তরমুজ চাষ করেছি কিন্তু কিছুই হলো না। গাছে প্রচুর ফুল ধরেছে কিন্তু ফল ধরেনি।
হলদিয়া ইউনিয়নের টেপুড়া গ্রামের চাষি সাইদুল আকন, শাহীন সিকদার ও হেলাল গাজী বলেন, গাছে ফুল ধরেছে কিন্তু ফল ধরেনি। এতে আমরা নিস্ব হয়ে যাবো।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম বলেন, মান সম্মত বীজের জাত রোপন না করায় এ অবস্থা হতে পারে। বিষয়টি জেনে প্রতিকারে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email