সাজা হলে রাজপথে নামবে বিএনপি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৪১:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ২৪টি মামলাসহ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার ৭৪টি মামলা হয়েছে। এই নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা নানা শঙ্কায় ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ শেষে গতকাল আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেছেন বিশেষ জজ আদালত। বিদ্যমান অবস্থায় নির্বাচনের এই বছরে এই রায় কী হতে পারে এই নিয়ে বিরাজমান শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে দলের নেতাদের। রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে দীর্ঘদিন থেকে যে রোডম্যাপ অনুযায়ী এগোচ্ছিল তাতেও পরিবর্তন আসবে। আইনি মোকাবিলার চেয়ে বিএনপি রাজপথকেই অধিক মাত্রায় গুরুত্ব দিচ্ছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের সময়কে বলেন, তাড়াহুড়া করে যেভাবে দেশনেত্রীর মামলার রায় দেওয়া হচ্ছে এটা আমাদের জন্য উদ্বেগের। দ্বিতীয়ত, আদালতে যে যুক্তিতর্ক দেখেছিÑ তাতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এ মামলা। বিচারকের ওপর কোনো ধরনের চাপ না থাকলে এই মামলার রায়ে নেগেটিভ কিছু হবে এমনটা আমরা মনে করি না। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা আবার দেশে একটি একদলীয় নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। মামলা-হামলা করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করা যাবে না। জনগণ এবার তাদের ভোটাধিকার রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না।

খালেদা জিয়া ও বিএনপি অভিন্ন মনে করে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা আমাদের সময়কে বলেন, চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছেÑ এসব ভিত্তিহীন। দেশে-বিদেশের সব মহলই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এসব নেতা অভিন্ন সুরে বলেন, বিএনপিকে বাঁচাতে হলে খালেদা জিয়ার জন্য রাজপথে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। করণীয় ঠিক করতে গতকাল রাতে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন। এর আগের দিন বুধবার রাতেও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে আইনিভাবে মোকাবিলার পাশাপাশি রাজপথকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মতপ্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানও এই নিয়ে বেশ তৎপর। এই নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা যোগাযোগ রাখছেন। বেগম জিয়ার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম পূর্বনির্ধারিত আজ শুক্রবার মুন্সীগঞ্জে এক স্মরণসভার কর্মসূচি বাতিল করেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আমাদের সময়কে বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) মামলার রায় এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাসদ ও জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের হাতে হাতে। তাই এই রায় কী হবে তা তো সবারই অনুমেয়। সরকারের উদ্দেশ্যÑ ম্যাডামকে সাজা দিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা। ভিত্তিহীন এই মামলায় যদি ম্যাডামের সাজা হয় তা হলে আমরা আইনি ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব। ম্যাডামের সাজা হলে কিসের নির্বাচন, কিসের কি? দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আর সরকারের উদ্দেশ্যও সফল হবে না।

বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা হয়েছে। মামলার সংখ্যা অনুযায়ীÑ মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ৮৮টি, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৫২টি ও গয়েশ্বরচন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ৩৭টি। তরিকুল ইসলাম ও সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৪টি করে মামলা। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৯টি করে মামলা। নজরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ৭টি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। এমকে আনোয়ার ৩৪টি মামলা মাথায় নিয়ে মারা গেছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা হয়েছে। চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ৫৪টি মামলা।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মামলা সংখ্যা সারওয়ারী রহমানের ৬টি, রিয়াজ রহমানের ২টি, এজে মোহাম্মদ আলীর ৬টি, আমানউল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে ৯৬টি, মিজানুর রহমান মিনুর ২৪টি, তৈমূর আলম খন্দকার ১৩টি, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ৪টি, আবদুল্লাহ আল নোমান ৬টি, বরকতউল্লাহ বুলু ৬১টি, মো. শাহজাহান ৯টি, আবদুল আউয়াল মিন্টু ৭টি, শামসুজ্জামান দুদু ১৭টি, ব্যারিস্টার আমিনুল হক ২৩টি, মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন ৬টি, মজিবুর রহমান সরোয়ার ১৩টি, জয়নাল আবদীন ফারুক ৪৭টি, আতাউর রহমান ঢালী ১৩টি, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ৪১টি, খায়রুল কবির খোকন ১৪, হাবীব-উন নবী খান সোহেল ১২৯টি, হারুন-অর রশিদ ১৩টি, আসলাম চৌধুরী ৯টি, নাদিম মোস্তফা ২৯টি, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ২৯টি, এবিএম মোশাররফ হোসেন ১৩টি, আজিজুল বারী হেলাল ২৯টি, বিলকিস জাহান শিরীন ৯টি, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ৪৭টি, ফজলুল হক মিলন ৯টি, নজরুল ইসলাম মঞ্জু আকন কুদ্দুসুর রহমান ৬টি, তাইফুল ইসলাম টিপু ৬টি, শিরীন সুলতানা ১২টি, আসাদুল হাবিব দুলু ১৩টি। এ ছাড়াও দেড় শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে সরকার এসব করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা ২৪টি মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যেভাবে বিরোধী দলকে নির্মূল করতে ও বিরোধী দলকে পুরোপুরি মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সেভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে, হত্যা করছে,গুম করেছে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বিভাগে মোট মামলা হয়েছে ৫২৮টি, আসামির সংখ্যা ২৪ হাজার ৭শ ৭ জন। গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৫১৯, গুম হয়েছেন ১ জন, খুন হয়েছেন ১ জন। ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলার সংখ্যা ৫০ হাজার ৭৪টি। আসামির সংখ্যা ১১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪৯ জন। খুন হয়েছেন ৭৭৩ জন। এখনো জেলহাজতে ৩ হাজার ৯৪৭ জন নেতাকর্মী।