আইপিসিসি প্রতিবেদন: জলবায়ু সংকটের অভাসে উদ্বিগ্ন তরুণ প্রজন্ম

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২২ | আপডেট: ১০:৩৩:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২২

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তরাষ্ট্রীয় বিজ্ঞানীদের প্যানেলের (আইপিসিসি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফলের বিষয়ে বিশ্বনেতা ও শিল্প করপোশনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশের তরুণ সম্প্রদায়। এক বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত জলবায়ু কার্যক্রম গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছে ফ্রাইডেস ফর ফিউচার বাংলাদেশ ও জলবায়ু নেটওয়ার্ক ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস।

এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে ৬ দফা দাবি জানিয়ে সারা বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের জন্য জলবায়ু সুবিচারের দাবি জানিয়েছে তারা। বাংলাদেশের তরুণ জলবায়ু কর্মীরা সবসময়ই স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ভিত্তিতে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা কাজ করে আসছে।

কার্বন নিস:রণ হ্রাস করতে জরুরীভাবে উচ্চাকাঙ্খা বাড়ানো, জলবায়ু নীতিসমূহের সিদ্ধান্তলোতে যুব নেতৃত্ব এবং মালিকানা নিশ্চিত করা, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় উপায়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্গমন কমানোর জন্য একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করতে তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আহবান জানিয়েছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ নির্গমনকারী দেশগুলোকে একই সময়ে দূষিত প্রকল্পের সম্প্রসারণ নিষিদ্ধ করতে এবং এনার্জি শিল্পের ডিকার্বনাইজেশন দ্রুতততর করার জন্য কার্বন ট্যাক্সের প্রয়োগসহ অনতিবিলম্বে অভিযোজনের জন্য প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন সরবরাহ, বিশেষকরে স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন উদ্যোগকে সহায়তা প্রদান করার জোর দাবি জানানো হয়েছে যা লিঙ্গ বৈষম্যকে হ্রাস করবে।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর কারনে সৃষ্ট জলবায়ু সংকট সংক্রানÍ ক্ষয় এবং ক্ষতির জন্য কোনরকমের তালবাহানা ব্যাতিরেকে ক্ষতিপূওু প্রদান এবং জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়ারও দাবি তাদের।

‘জলবায়ু পরিবর্তন ২০২২: প্রভাব, অভিযোজন এবং বিপদাপন্নতা’ বিষয়ক আইপিসিসি ওয়ার্কিং গ্রুপ ২’এর প্রতিবেদন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্ত:সরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনের অনুসন্ধান ফল অত্যন্ত ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন গ্রহের প্রতিটি কোণে প্রভাব ফেলছে, এবং বিপজ্জনক এবং ব্যয়বহুল প্রভাবগুলো ধেয়ে আসছে খুব দ্রুত। এবং সেগুলো পূর্বে যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়েও আরও ব্যাপক এবং বিস্তৃত বলে জানিয়েছে আইপিসিসি।

জলবায়ু কর্মী সোহানুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মানসিক ও শারীরিক জনস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাচ্ছে, কৃষি উৎপাদনশীলতা হ্রাস করছে, সমুদ্রের অম্লতা বৃদ্ধি করছে এবং জীববৈচিত্র্য, বাস্ততন্ত্র, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সংস্কৃতি এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে এবং বিদ্যমান সংঘাত ও উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সবাইকে প্রভাবিত করছে তবে সবাইকে সমানভাবে প্রভাবিত করছেনা । এটি আমাদের বিশ্বের বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এটি কেবল জলবায়ুগত সমস্যা নয়, এটি একটি ন্যায় বিচারেরও ইস্যু।

ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের জাতীয় সমন্বয়কারী শাকিলা ইসলাম বলেন, বিপদাপন্ন মানুষেরা বিভিন্ন চরম আবহাওয়ার ঘটনা এবং এর নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে প্রকৃতি বা ঈশ্বরের অভিশাপ বলে মনে করতে পারে তবে এটি আসলে মানব ঘটিত জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু সংকটের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শাকিলা আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সাথে মানুষ ও প্রকৃতিকে আমাদের সর্বোত্তম ক্ষমতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। তবে আমরা কতদূর এবং কত দ্রুত কার্যকরী অভিযোজন করে নিতে পারি তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আমরা ইতিমধ্যে এই সীমারেখার কাছে চলে এসেছি।পৃথিবী যত গরম হবে, এই পরিস্থিতি তত খারাপ হবে। প্রতি ডিগ্রী তাপমাত্রা বৃদ্ধির চরম মূল্য আমাদের দিতে হবে। জলবায়ু সংকট থেকে আমাদের তরুণ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য, সকলের উচিত অবিলম্বে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া যেখানে কোথায় কেউ পিছিয়ে থাকবে না। জলবায়ু কার্যক্রম গ্রহণে কোনো প্রকার বিলম্ব বা ছাড় নয়। কারণ দেরী মানেই মৃত্যু।

আইপিসিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৯ থেকে ২১ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়া হতে পারে। কেবল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চলতি শতকে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ৩১ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই কারণে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর এক-তৃতীয়াংশ স্থানান্তর করার প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানির চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে এ মুহূর্তে ১০ শতাংশ মানুষ পানির সংকটের মধ্যে আছে। ২০৫০ সাল নাগাদ তা বেড়ে ২৫ শতাংশ হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উজান থেকে আসা গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যার ভয়াবহতা বাড়তে পারে।

Print Friendly, PDF & Email