হাদিসের আলোকে ফজরের পর ঘুমাইলে কি কি হয়

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:০২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২২ | আপডেট: ৯:২৩:অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২২

শরীরের জন্য ভালো ঘুম না হলে আপনার শরীর ঠিক থাকবে না তবে সেই ঘুম কখন কখন প্রয়োজন সেটা বুঝতে হবে। ফজরের নামাজ আদায়ের পর ঘুমানো ইদানিং অনেকেরেই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শহরের মানুষের এই অভ্যাস তো নিত্যদিনের। আগেকার সময়ে মানুষ সাধারণত ফজরের পরে ঘুমাতো না। ফজর নামাজের পর তারা হয়তো কোরআন তেলাওয়াত করতো জিকির-আজকার করত কিংবা বই পড়তো বা পড়াশোনা করতো। অথবা নিজ নিজ কাজে বের হয়ে যেত ইসলামের শিক্ষা ও মূলত এটাই।

রাসূল (সাঃ) আমাদেরকে এশার পর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেতে বলেছেন, আর সকালবেলা আমাদের মধ্যে বরকতের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করেছেন। তাই অধিক রাত্রি পর্যন্ত জাগ্রত না থেকে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া আমাদের রাসূল (সাঃ) এর একটি সুন্নত।যাতে ফজরের পর ঘুমিয়ে বরকত থেকে বঞ্চিত হতে না হয়।

হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছেঃ নবী করীম (সাঃ) বলেছেন→ এশার নামাজের পূর্বে ঘুমানো এবং এশার নামাজের পর অপ্রয়োজনীয় অহেতুক গল্প গুজব করতে অপছন্দ করতেন (সহিহ বুখারি হাদিস নাম্বারঃ ৫১৪)

অন্য আরেকটি হাদীসে রাসূল (সাঃ) বলেছেন→তোমরা এশার নামাজের পর এক তৃতীয়াংশ রাত পরিমাণ সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ো এবং ইশার আগে ঘুমিও না এবং এশার পর না ঘুমিয়ে অহেতুক গল্পগুজব করোনা।(সহিহ বুখারি হাদিস নাম্বারঃ ৫৯৯)

তবে কোন ভাল কাজের জন্য এশার পর কিছুক্ষন জাগ্রত থাকলে সেটা ভিন্ন বিষয়। যেমনঃ বাড়ীতে মেহমান আসলে মেহমানদের সাথে কথা বলা ইসলামী আলোচনা করা স্ত্রী-পরিবারের সন্তানদেরকে সময় দেওয়া ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অনেকগুলো উপকারিতা রয়েছে যেমন ফজরের নামাজের জন্য খুব সহজে পূর্ণ শক্তি ও চাঞ্চল্যতার সাথে জাগ্রত হতে পারা।

ফজরের পরে সময়টাতে রাসূলে পাক (সাঃ) তার উম্মতের জন্য বরকতের দোয়া করেছেন। প্রিয় নবী (সাঃ) ভোরবেলায় কাজে বরকতের জন্য দোয়া করেছেন। হযরত সাখার আল-গামেদি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) এ দোয়া করেছেন, হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য দিনের শুরুতে বরকতময় করুন। (আবু দাউদ হাদিস নাম্বারঃ ২৬০৬)

বর্ণনাকারী বলেন এজন্য রাসূল (সাঃ) কোন যুদ্ধে অভিযানে বাহিনী পাঠানোর সময় দিনের শুরুতেই পাঠাতেন। বর্ণনাকারী আরো বলেন হযরত সাখার (রাঃ) তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ভোরবেলা শুরু করতেন। এতে তার ব্যবসায় অনেক উন্নতি হয় এবং তিনি প্রচুর প্রাচুর্য লাভ করেন। সকাল বেলার ঘুম অনেক সময় শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।অনুরূপভাবে সফলতা অর্জনে ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

হযরত ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন একদা রাসূল (সাঃ) আমার ঘরে এসে আমাকে ভোর বেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় দেখলেন, তখন আমাকে (পা দিয়ে) নাড়া দিলেন এবং বললেন মা মুনি ওঠো! তোমার রবের পক্ষ থেকে রিজিক গ্রহণ করো! অলসদের দলভুক্ত হইও না। কেননা আল্লাহ সুবহে সাদেক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মানুষের মধ্যেই রিজিক বন্টন করে থাকেন। (সহীহ আত তারগিব হাদিস নাম্বারঃ ২৬১৬)

খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা সম্পদ ও জ্ঞানের জন্য পূর্বশর্ত। বলা যায় সফলতার চাবিকাঠি। কেননা ভোররাতে বা দিনের শুরুতে সবচেয়ে বেশি কল্যাণ থাকে। শুধু ইবাদত-বন্দেগী নয়, বরং দুনিয়াবী কাজের জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত ও বরকতময় সময়ে। এজন্য সালফে সালেহীনদের মধ্য থেকে অনেকেই উল্লেখিত হাদীসগুলোর কারণে, ফজরের পরে ঘুমানোকে মাকরূহ মনে করতেন। কেননা ভোর বেলা ঘুমালে রাসূল (সাঃ) যে বরকতের দোয়া করেছেন, সে বরকত থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তার এক সন্তানকে ভোরবেলায় ঘুমোতে দেখে বলেছিলেন!ওঠো তুমি কি এমন সময় ঘুমিয়ে আছো, যখন রিজিক বন্টন করা হয় (সূত্র যা’দুল মাআ’দ ৪/ ২৪১)

সুতরাং আমরা এশার পর বিশেষ করে বাড়িতে কোন কাজ না থাকলে বা মেহমান না থাকলে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাব কিছুক্ষণ স্ত্রীর সাথে গল্পগুজব করা যেতে পারে তবে অহেতুক কোন গল্পগুজব করব না। ফজরের নামাজ আদায় করে কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকার করব তারপর না ঘুমিয়ে হালাল রিজিকের অন্বেষণে বেরিয়ে পড়বো।

আর দিনের ক্লান্তি ভাব দূর করতে দুপুরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেব মহান আল্লাহতালা প্রত্যেককে ফজরের নামাজের পর বরকতময় সময়টাকে সৎ ভাবে কাজে লাগানোর জন্য এবং রাসূলের প্রতি সুন্নত সঠিকভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুন আমিন

Print Friendly, PDF & Email