শিশুর প্রতি মহানবি (স)-এর ভালোবাসা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২১ | আপডেট: ১০:৫২:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২১

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীর সেরা মানুষ। মানবজাতির জন্য তিনি অনুপম আদর্শ। তাঁর ৬৩ বছরের জীবনে আমাদের জন্য রয়েছে চলার পাথেয়। মহানবী (সা.) এর শিক্ষা ও সাহচর্যে যারা নিজেদেরকে গঠন করেছেন, তারা হচ্ছেন সাহাবী বা সাথী। মানুষের জন্য তাঁরা তারকাস্বরূপ। মহানবী (সা.) নিজেই বলেছেন, ‘আমার সাহাবীগণ হচ্ছেন আকাশের তারকাস্বরূপ’। আজকের শিশু-কিশোরদের কাছে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও চরিত্র তুলে ধরার প্রয়োজন অনেক বেশি। বড়রা এই বিষয়টি উপলব্ধি করলে মঙ্গল।

শিশুরা আমাদের ভবিষ্যত্-কর্ণধার। আজ যারা হাঁটি হাঁটি পা-পা করে চলছে তারাই একদিন একটি জাতির নেতৃত্ব দেবে। এ জন্যই রসুলুল্লাহ (স) শিশুদের ভালোবাসতেন, আদর করতেন এবং তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন।

তাদের তিনি বেহেশতের ফুল বলে উল্লেখ করেছেন। নবিজি (স) শিশুদের পিতা-মাতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—‘তোমরা সন্তানদের প্রতি যত্নবান হও এবং সুশিক্ষা দিয়ে তাদের সচ্চরিত্রবান করে গড়ে তোলো।’ (ইবনে মাজাহ্)। মহানবি মুহাম্মদ (স) শিশুদের এতই ভালোবাসতেন যে, তাদের দেখে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরতেন এবং চুমু খেতেন। কখনো কখনো নিজে ঘোড়া সেজে হাসান-হুসাইনকে (রা) পিঠে সওয়ার করাতেন। কোনো শিশুকে নবিজি পর বলে ভাবতেন না। তিনি পালকপুত্র যায়েদের ছেলে ওসামাকে নিজহাতে নাক পরিষ্কার করে দিতেন। কেউ শিশুদের প্রহার করলে নবিজি তা সহজে মেনে নিতে পারতেন না।

শিশুর জন্য হ্যাঁ বলুন, শিশুরা সবার আগে ত্রাণ পাবে, শিশু অধিকার রক্ষার প্রশ্নে দুনিয়াব্যাপী আজ এই সেস্নাগানটি উচ্চারিত হচ্ছে। রাসূল (সা.) আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে শিশুদের প্রতি সেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে গেছেন। একদিন আমাদের মহানবী (সা.) একদল শিশুর সঙ্গে আনন্দ করছেন। শিশুরাও নবীজীকে ঘিরে খুশিতে মেতে ওঠে। এমন সময় সেখানে এক বেদুঈন এসে উপস্থিত হয়। সে মহানবী (সা.)কে উপলক্ষ করে বললো, ‘শিশুদের নিয়ে এমন আমোদ আহ্লাদ করা আমার পছন্দ নয়।’ এ কথা শুনে রাসূল (সা.) এর হাসি-খুশি মুখখানি মলিন হয়ে গেল। তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তির হৃদয়ে মায়া নেই, আল্লাহ যেন তাকে দয়া করেন।’ (মুসলিম)।

শিশুদের জন্য নবি (স) খুবই স্বাভাবিক ছিলেন। তার কোমল হাতের ছোঁয়ায় প্রতিটি শিশুর হূদয় শীতল হয়ে যেত। নবিজির সঙ্গে যে কোনো শিশু সহজে মিশতে পারত। তিনি শিশুদের কখনো ভুলে থাকতে পারতেন না। কোনো সফর থেকে ফিরে শিশুদের নিজের বাহনের সামনে-পেছনে আরোহণ করাতেন।

হযরত যাবের ইব্ন সামুরা (রা) বলেন, একবার জোহরের নামাজ শেষে নবিজি ঘরে ফিরছিলেন, এমন সময় একদল শিশু তার কাছে ছুটে এলে তিনি সবাইকে তাদের গণ্ডদ্বয় ধরে আদর করলেন। স্নেহভরে আমার গণ্ডদ্বয়ও স্পর্শ করলেন। তার হাত এত সুশীতল ও সুগন্ধময় ছিল, যেন তা এখনই কোনো আতরের কৌটা থেকে বের করে আনা হয়েছে।

রসুলুল্লাহ (স) শিশুদের এতই ভালোবাসতেন যে, তাদের ছাড়া তিনি মৌসুমের নতুন ফল খেতেন না। আবু হুরায়রা (রা) বলেন—‘কেউ নবিজির কাছে উপঢৌকনস্বরূপ মৌসুমের নতুন ফল নিয়ে এলে তিনি বরকতের দোয়া করতেন, এর পর তা উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠ শিশুর হাতে তুলে দিতেন।’

নবীজী যখন কোথায়ও সফরে বের হতেন, রাস্তায় কোন শিশুকে দেখলেই তাকে উটের পিঠে তুলে নিতেন এবং নিজ গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিতেন। তিনি এতিম শিশুদের ভালোবাসতেন। তাদের মাথায় হাত বুলাতেন। নতুন জামাকাপড় কিনে দিতেন। আদর যত্ন করতেন। ফলে শিশুরাও তাদের বন্ধু নবীজীকে ভালোবাসতেন। এভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রোজ্বল আলোয় আলোকিত হয়েছিল শিশুরা। আলোকিত হয়েছে বিশ্ব ভুবন।

Print Friendly, PDF & Email