অন্যদের পিটিয়ে বিবস্ত্র করে ছাত্রলীগের মেয়েরা আহত!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ১২:১৭:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০১৮
অন্যদের পিটিয়ে বিবস্ত্র করে ছাত্রলীগের মেয়েরা আহত!

ডেস্ক রিপোর্ট : বিস্কুট ও লাল রঙের জামা পরা একটি মেয়ে নীল জামা পরা একটি মেয়েকে হেনস্তা করছেন। শুধু হেনস্তা নয়, চলছে মারধর, সঙ্গে জামা-কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলছেন। নীল জামার মেয়েটি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন, আর লাল জামার মেয়েটি ধাওয়া করে ধরছেন। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন আরও কয়েকজন মেয়ে।

দৃশ্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনের। আর লাল জামা পরা মেয়েটির নাম শ্রাবণী শায়লা। তিনি ঢাবির কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

২৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরের পর বামপন্থী কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী গিয়েছিলেন উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করতে। সে সময়ই ঘটনাটি ঘটে।

বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী ঢাবিতে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও ছাত্রীদের ‘যৌন হয়রানি’ করা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিচারসহ চার দফা দাবি নিয়ে গিয়েছিলেন। তারা উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় ছাত্রলীগ আন্দোলনকার‌ীদের ওপর হামলা চালিয়ে উপাচার্যকে উদ্ধার করে।

ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করা হয়, এ ঘটনায় তাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ছাত্রলীগের ‘আহতদের’ তালিকায় সেই শ্রাবণী শায়লাও আছেন।

আন্দোলনকারী ছাত্রীদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে প্রিয়.কমের পক্ষ থেকে মুঠোফোনে শ্রাবণী শায়লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় শায়লার বান্ধবী ছাত্রলীগকর্মী ইশরাত জাহান ইশিকা ফোন ধরেন। তিনি বলেন, ‘ও (শ্রাবণী শায়লা) এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।’

এর পর ইশরাত পাল্টা প্রশ্ন করে ফোন করার কারণ জানতে চান। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর মঙ্গলবারের হামলার বিষয়ে কথা বলা হলে ইশরাত বলেন, ‘আসলে কোনো হামলা করা হয় নাই।’

ভিডিও ও ছবি আছে জানালে ইশরাত বলেন, ‘আমরাও কিছু ছবি পোস্ট করেছি, সেখানে দেখবেন শ্রাবণী শায়লাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন ও নিজেকে ছাড়ানোর জন্য হয়তো হাতাহাতি করেছে। এর বেশি কিচ্ছু হয় নাই, উনাদের (আন্দোলনরত ছাত্রীদের) ওপর কোনো হামলা করে নাই। ওল্টা উনারাই শ্রাবণী শায়লার ওপর হামলা করছিল।’

‘আমাদের ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী ভাই-বোনেরা এখন হাসপাতালে অ্যাডমিট (ভর্তি)। আমি নিজেও ইনজুরড। আমার পায়ে লেগেছে, এখন পর্যন্ত ব্যান্ডেজ। প্রথমে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। পরে ঢাকা মেডিকেলে গেছি। সেখানে আমাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আর শ্রাবণীর আল্ট্রসনো, এক্স-রে করা হয়েছে। সেখানে যদি তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়, তাহলে চিকিৎসার জন্য ওকে হয়তো পপুলারে নিয়ে যাওয়া হতে পারে,’ বলেন ইশরাত।

মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবরুদ্ধ হয়ে থাকা উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানকে ‘উদ্ধারে’র পর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি জানায় ছাত্রলীগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখা ব্যক্তিরা বহিরাগত ‘বাম সন্ত্রাসী’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ‘বাম সন্ত্রাসীদের’ শাস্তিসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য মহোদয়ের ওপর হামলাকারী লাঞ্ছনাকারী এবং উপাচার্যের কার্যালয় ভাঙচুরকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।

২. সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের ওপর হামলাকারী ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, তানভীর আহমেদ মুঈন, বেনজীর, তুহিন কান্তি, সাদিক রেজা, তমা, সুদীপ্ত, সালমান, ইভা, তমা শাকিল, ইরা, সোহেল রিফাত, সিদ্দীকী, জামিল, মিথিলাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও গ্রেফতার করতে হবে।

৩. প্রক্টর অফিস ভাঙচুরকারী এবং প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলাকারীদের বহিষ্কার করতে হবে।

৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ক্যামেরা ভাঙচুরকারী এবং ক্যামেরাম্যান ও উপাচার্য মহোদয়ের অফিসের কর্মচারীদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে যারা নষ্ট করতে চায় তাদেরকে অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অতএব সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয়কে অবরুদ্ধ ও তাকে লাঞ্ছনা করে বহিরাগত বাম সন্ত্রাসীরা। এ খবর সাধারণ শিক্ষার্থীদের কানে পৌঁছালে তারা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে একত্রিত হয়ে মাননীয় উপাচার্য মহোদয়কে উদ্ধার করে।

এ সময় বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা ন্যক্কারজনকভাবে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মেয়েদের সাথে অশালীন আচরণ করে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বহিরাগত বাম সন্ত্রাসীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নষ্ট না হয়, সে জন্য ছাত্রলীগ দু’পক্ষকেই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু এতে বাম সংগঠনের সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে।’

‘এতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নিশীতা ইকবাল নদী, বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা ইসলাম, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব হলের সভাপতি বেনজির হোসেন নিশি, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব হলের রনক জাহান রাইন, বেগম রোকেয়া হলের সভাপতি বি.এম লিপি আক্তার ও বেগম রোকেয়া হলের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী ইসলাম, শামসুননাহার হলের সভাপতি নিপু ইসলাম তন্বী, শামসুননাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াস ইসলাম শান্তা, ইশরাত জাহান তন্বী, জেরিন দিয়া, বিষিকা দাসসহ অনেকে আহত হন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

বুধবার সকালে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে ‘লাঞ্ছনাকারী’দের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলন করছে ঢাবি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা প্রথমে অপরাজেয় বাংলার সামনে অবস্থান নেয়। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলন করলেও সেখানে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে।

প্রিয়