উদ্বোধনের অপেক্ষায় দৃষ্টিনন্দন পায়রা সেতু । চলছে শেষ মুহূর্তের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

এম. আর. প্রিন্স এম. আর. প্রিন্স

সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী

প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১ | আপডেট: ৮:১৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১

এম.আর.প্রিন্স – ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকায় নির্মিত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পায়রা সেতু সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে চালু হতে পারে । সেতুর নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শন করেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই যান চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এ সেতু দিয়ে যান চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সর্ব দক্ষিণে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত ফেরিবিহীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে।

নির্মাণ কাজের সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন পায়রা সেতু প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম, বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল, বরিশাল সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ, পটুয়াখালী সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ খান, বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন প্রমুখ।

পায়রা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, পায়রা সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৭০ মিটার এবং প্রস্থ ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার। এটি চার লেনবিশিষ্ট সেতু। নদীর উভয় প্রান্তে মোট ১ হাজার ২৬৮ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, টোলপ্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ইলেকট্রিফিকেশন এর কাজ প্রায় শেষ । এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সওজ বিভাগ বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল জানান, নৌপথ সচল রাখার পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার কথা বিবেচনা করে পায়রা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এক্সট্রা ডোজ কেবল স্টেট পদ্ধতিতে নান্দনিক নকশায়। তিনি আরও জানান, পায়রা সেতু বরিশালের সবচেয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন সেতু । ২০০ মিটার করে দেশের দীর্ঘতম দুটি স্প্যান বসানো হয়েছে পায়রা সেতুতে। নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল, যা দেশের সর্ববৃহৎ। বিদ্যুতের আলোয় রাতে পায়রা সেতুতে নৈসর্গিক দৃশ্যের অবতারণা হবে। যা ভ্রমণ পিপাসুদের মুগ্ধ করবে ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। পটুয়াখালী জেলার লেবুখালীর পায়রা নদীর ওপর এ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই। কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (কেএফএইডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওএফআইডি) যৌথ অর্থায়নে কাজটি পায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি লিমিটেড।কার্যাদেশে সেতু নির্মাণে ৩৩ মাস সময় বেঁধে দেয়া হলেও দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ৩০ জুন ২০২২ সাল পর্যন্ত। কিন্তু পরবর্তী নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় যান চলাচলের জন্য সেতুটি উদ্বোধন শেষে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। সেতু উদ্বোধনের খবরে উচ্ছ্বসিত ভ্রমন পিপাসুরা ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। এ সেতু চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে ফেরিঘাটে অপেক্ষার ভোগান্তি ও হয়রানি শেষ হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের । এরপর পদ্মা সেতু চালু হলেই দক্ষিণাঞ্চলের জন্য আর কোন ফেরি থাকছে না । চলার পথের সময় ও খরচ কমবে অনেক যার ফলে অর্থনৈতিক ও জীবন মানের গতি আসবে দ্রুতই।

Print Friendly, PDF & Email