হলি কেয়ারে রোগীর মৃত্যু: মাত্র দেড় লাখ টাকায় রফাদফা!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৫৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২১ | আপডেট: ৭:৫৬:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২১

মাদকাসক্তি চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র হলি কেয়ারে রহস্যজনক মৃত্যু হওয়া চন্দন সরকারের মৃতদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। শনিবার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার ময়না তদন্ত হয়। পরে মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে ঘটনার দুদিন অতিবাহিত হলেও ‍এই ঘটনায় কোন মামলা কিংবা নির্যাতনের ঘটনায় হলি কেয়ার সংশ্লিষ্ট কাউকে ‍আটক করেনি পুলিশ। বরং পুলিশের সহযোগিতায় মাত্র দেড় লাখ টাকায় চন্দনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাটি রফাদফার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ ‍উঠেছে।

নিহতের হতদরিদ্র স্বজনদের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি ভুল বুঝিয়ে শুক্রবার রাতে হলি কেয়ারে সমঝোতা হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। স্বজনরা মামলা না করার শর্তে দেড় লাখ টাকার চেক নিহতের পরিবারকে দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে, চন্দনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা না হওয়ায় ‍এবার পার পেয়ে যাচ্ছে চিকিৎসার নামে সিরিয়াল কিলার হলি কেয়ার মাদকাসক্তি চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন সহ অভিযুক্তরা।

যদিও শুক্রবার ঘটনার পর থেকেই হলি কেয়ারে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনরা ভীড় জমায়। অনেকেই তাদের সন্তানদের নিজ নিজ দায়িত্বে সেখান থেকে নিয়ে গেছেন। আবার অনেক স্বজন ঘটনা জানতে পেরে তাদের সন্তানদের নিয়ে ‍আসলেও পরিবারের সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ ‍উঠেছে হলি কেয়ার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

নিহত চন্দন সরকারের পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর হলি কেয়ার কার্যালয় বসে তাদের সঙ্গে মামলা না করার শর্তে সমঝোতা করা হয়। তাদেরকে দেড় লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ। তবে ‍এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোন চেক দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন।

নিহত চন্দনের মামা নিবাস মুহুরী বলেন, আমরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য। শুনেছি হলি কেয়ার এর মালিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের অনেক টাকা। প্রশাসনের লোকেদের সাথে নাকি তার অনেক সখ্যতা রয়েছে। মামলা না করার জন্য ‍আমাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে আমরা এ মুহূর্তে মামলা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি। মামলা করে আমাদের সাথে টিকে থাকা প‍ারব না। মামলা করা না হলে আমাদের দেড় লাখ টাকা দেয়া হবে বলে ‍আশ্বস্থ করলে ‍এখন পর্যন্ত কোন টাকা বা চেক পাইনি।

 

Print Friendly, PDF & Email