জন্ম’দিন নিয়ে খালেদাকে যে পরাম’র্শ দিয়েছিলেন জাফরুল্লাহ-কাদের সিদ্দিকী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২১ | আপডেট: ৬:০৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২১

ছয় বছর ধরে জন্ম’দিনের আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই বছরগুলোতে তাঁর জন্ম’দিনে শুধু মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে বিএনপির দলীয় সূত্র কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে। আগামীকাল ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ৭৬তম জন্ম’দিন। ১৯৪৫ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিপথগামী সে’না সদস্যের হাতে সপরিবারে নি’হ’ত হয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই ১৫ আগস্ট জন্ম’দিন পালন না করার জন্য বিএনপির প্রতি বরাবরই আবেদন জানিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। এর পরও ২২ বছর ১৫ আগস্ট কেক কে’টে জন্ম’দিন পালন করেছেন খালেদা জিয়া।

২০১৫ সালের সংঘাতময় রাজনীতির মধ্যে প্রথমবারের মতো এক দিন পিছিয়ে ১৫ আগস্ট রাতে গুলশান কার্যালয়ে কেক কা’টা হয়। ওই বছর অ’তি উৎসাহী নেতাদের তৎপরতা অবশ্য কিছুটা কম দেখা যায়।তবে ২০১৫ সালের পরে ওই আনুষ্ঠানিকতা একেবারেই পরিহার করা হয়। কিন্তু কী কারণে খালেদা জিয়া বা বিএনপির এই বাঁক পরিবর্তন, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেশ কিছু ঘটনার কথা জানা যায়।

সুধীসমাজে বিএনপিপন্থী বলে পরিচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি অনুরোধ করার পর ১৫ আগস্টে কেক কা’টা বন্ধ করেন খালেদা জিয়া। গত বুধবার কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জন্ম’দিন পালন না করার জন্য আমি খালেদা জিয়াকে না করেছিলাম। আমি বললাম যে দেখেন, ১৫ আগস্ট জন্ম-মৃ’ত্যু থাকবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মৃ’ত্যুর দিনে পাবলিকলি আপনি এটা পালন কইরেন না।’

বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আমি বলার পরে খালেদা জিয়া কিছু বলেননি। কিন্তু তার পর থেকেই দেখছি উনি আর পালন করছেন না। তার মানে তিনি আমা’র কথা শুনেছেন বলেই মনে হয়।’বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকা’ণ্ডের দিনে জন্ম’দিন পালনের বি’রু’দ্ধে বরাবরই বেশ সোচ্চার ছিলেন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের আগে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট ‘ফিরোজা’য় খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। ওই সময় তিনি ১৫ আগস্ট জন্ম’দিন পালন না করার জন্য খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেন বলে জানা যায়।

জানতে চাইলে গত বুধবার কাদের সিদ্দিকী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমা’র ওই অনুরোধের পর খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আমিও এমন মহান একজন নেতার মৃ’ত্যুর দিনে জন্ম’দিন পালন করতে চাই না। কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের চাপে এটা করতে হয়েছে।’কাদের সিদ্দিকী দাবি করেন, ‘আমা’র ওই কথার পর উনি হ’জে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফিরে আর জন্ম’দিন পালন করেননি।’ ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর হ’জ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্ম’দিন নিয়ে প্রকাশ্যে এই দুই নেতা কথা বললেও সুধীসমাজের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি একবার গুলশান কার্যালয়ে দেখা করে ১৫ আগস্ট জন্ম’দিন পালনের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিনিয়র তিনজন নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, প্রয়াত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহম’দ ও প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহসহ অনেকেই সেদিন জন্ম’দিনের বিষয়টি খালেদা জিয়ার কাছে তুলেছিলেন। তবে তাঁদের যাওয়ার আগে স্থায়ী কমিটির কয়েক নেতার তরফ থেকেও ওই বিষয়ে কথা বলতে অনুরোধ করা হয়েছিল। স্থায়ী কমিটির ওই নেতারা জানান, কৌশলগত কারণে তাঁদের পক্ষে খালেদা জিয়াকে এ বিষয়ে পরাম’র্শ দেওয়া সম্ভব ছিল না। তবে জন্ম’দিন পালন নিয়ে সিনিয়র বেশির ভাগ নেতার মধ্যেই অস্বস্তি ছিল। জন্ম’দিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে এলেও অস্বস্তি ছিল সেই বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট রাত ১২টা এক মিনিটে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন খালেদা জিয়া। ২০১৬ সালে দেশব্যাপী ব’ন্যা, গু’ম ও খু’নের কারণ দেখিয়ে কেক কা’টার কর্মসূচি বাতিল করা হয়। ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই থেকে ১৮ আক্টোবর পর্যন্ত লন্ডনে ছে’লে তারেক রহমানের বাসায় থাকলেও সেখানে কেক কা’টা হয়নি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি একটি দু’র্নী’তি মা’ম’লায় কারাগারে যাওয়ায় ১৫ আগস্ট কেক কা’টার বদলে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ২০১৯ সালে বিতর্ক এড়াতে জন্ম’দিন পালন করা হয় এক দিন পরে ১৬ আগস্ট। তখনো কেক কা’টার পরিবর্তে খালেদার রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কা’মনা করে দোয়া মাহফিল কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। ওই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২০২০ সালে কারামুক্ত হয়ে বাসায় থাকলেও জন্ম’দিনের আনুষ্ঠানিকতা থেকে দূরে ছিলেন খালেদা। এ বছর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি এক দিন পরে হতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email