কলাপাড়ায় কোল্ড ইনজুরিতে ঝলসে হলুদ বীজতলার বোরো বীজ ॥ দিশেহারা কৃষক ॥

প্রকাশিত: ১০:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ১০:১৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮
কলাপাড়ায় কোল্ড ইনজুরিতে ঝলসে হলুদ বীজতলার বোরো বীজ ॥ দিশেহারা কৃষক ॥

কলাপাড়ায় শৈত্যপ্রবাহে ১২০ হাজার হেক্টর বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। বীজতলার চারার পাতা ঝলসে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। চারা বাড়ছে না। বীজতলা নিয়ে কৃষক বিপাকে পড়েছে। গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা, শীত ও শৈত্যপ্রবাহে বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার পর কৃষি বিভাগের পরামর্শে সেচ ও ওষুধ স্প্রে করেও কৃষক ভাল রেজাল্ট পাচ্ছেনা। এছাড়া রোরো ক্ষেতে রোপণ করা ধান গাছও কোল্ড ইনজুরিতে পড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে।
উপজেলায় এবছর ২০০০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরিমাণ জমি আবাদের জন্য প্রায় ১২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলার বোরো বীজতলা কম বেশি কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে বীজতলার চারা বাড়েনি। এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। বীজতলা নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে তারিকাটা গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে বীজতলার চারা মার যাবে। ধান আবাদ করতে পারব না। এ বছর বীজতলায় বীজ ধান ফেলার পর ভালো চারা গজায়। কিন্তু শীতে চারা ঝলসে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। চারা বাড়ছে না। এ চারা তুলে ক্ষেতে রোপণ করলে বাঁচবে না। নতুন করে বীজতলা তৈরি করারও সময় নেই। সেচ ও ওষুধ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। বোরো বীজতলা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।বরকুতিয়া গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান বলেন, ১৫ দিন আগে দেড় একর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করেছি। এরই মধ্যে প্রচন্ড- শীতের পাশাপাশি কুয়াশা শুরু হয়েছে। শেকড় ছাড়তে না পেরে ধান গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান বলেন, শীত, কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কম বেশি বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। বীজতলায় সেচ প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। যতটুকু আক্রান্ত হয়েছে এতে শংকিত হওয়ার কিছু নেই। তেমন কোন ক্ষতি হবে না। বীজতলার এ চারা দিয়েই বোরো আবাদ করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বোরো ক্ষেতে ধান বাড়তে শুরু করবে। পরে সবুজ বর্ণ ধারণ করবে। এতেও বোরো ক্ষেতে কোন ক্ষতি হবেনা। কোল্ড ইনজুড়ি ও পাতা ঝলসানো আক্রমণ রোগ থেকে বীজতলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনাবলি দিয়ে মাঠ পর্যায়ের সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কৃষকদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।