হিমাগার গুলোর সার্বিক সহযোগিতায় বীরগঞ্জের আলু চাষী, ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্ত্ব ভোগীরা আশাতীত সাফল্য অর্জন করেছে

রংপুর ব্যুরো

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২১ | আপডেট: ৪:২১:অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২১

দিনাজপুর প্রতিনিধি – দিনাজপুরের বীরগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হিমাগার গুলোর সার্বিক সহযোগিতায় আলু চাষী, ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্ত্ব ভোগীরা আশাতীত সাফল্য অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন হিমাগার র্কৃতপক্ষ ও আলু চাষী, ব্যবসায়ী এবং আড়ৎদার গন।

নিজপাড়া ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম মাজু, ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজ হাটের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাষী, আদর্শ আলু চাষী আবু বক্কর সিদ্দিক ও আলহাজ্ব শাহিনুর ইসলাম, হাবলু হাটের মোঃ জাকিরুল ইসলাম,পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মোঃ মাহবুব হোসেন, রেজাউল করিম, মোঃ আব্দুল মজিদ, মরিচা ইউনিয়নের মোঃ ছকিম উদ্দিন, সুজালপুর ইউপির মোঃ তরিকুল ইসলাম সহ অনেক আদর্শ কৃষক তথা আলুচাষী বাস্তবতার নিরিখে তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার ইতিহাস বর্ননা করে বলেন, কাঁচামাল তথা আলু পঁচনরোধে হিমাদ্রি সহ ৩/৪টি হিমাগার বীরগঞ্জে হওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছে। আলু চাষ তাদের জীবনের দৈন্যদশা দুর করেছে, সংসারে এনেছে সফলতা। সমাজে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাদের অসামান্য অবদান রাখায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

উপকারভোগিরা আরো বলেন, প্রতিটি হিমাগারের মালিক ও কর্তৃপক্ষ অকল্পনীয় ঝুকি নিয়ে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠান সমুহ স্থাপন করেছে।

চাকাই এলাকায় হিমাদ্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মোঃ সাদিকুল ইসলাম জানায়, তারা আলু চাষীদের জন্য নিরলসভাবে শ্রম, মেধা, অর্থ জোগান দেয়া ছাড়াও কৃষকদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে কিভাবে আলুর ফলন বৃদ্ধি করে লাভবান হওয়া যায়, সেজন্য হাতেনাতে শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, রুটিন মাফিক সভা-সমাবেশ-সেমিনার করে সুশৃঙ্খলভাবে দেড় যুগের অধিক সময় থেকে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাত করণ শিল্পের সক্রিয় ভুমিকায় পাল্টে গেছে অবহেলিত অঞ্চল বীরগঞ্জ।

হিমাগার গুলোর কারনে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে কৃষি খাতে। অন্ধকার থেকে হয়েছে আলোকিত। সৃষ্টি করেছে হাজারো মানুষ ও শত শত পরিবারের কর্মসংস্থান। যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে।

চাকাই মৌজায় হিমাদ্রী লিঃ স্থাপন হওয়ার পুর্বে সেখানকার চিত্র ছিল ভুতূরে, শিতলাই এলাকার বাদিয়া পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত শাহী কোল্ড স্টোর হওয়ার পর এলাকাটির সুনাম আসে, এটি অতিতে ছিল ডেঞ্জারাস জোন হিসাবে চিহ্নিত ডাকাতি স্পট, সন্ধ্যার পর জন চলাচল ছিল মারাত্মক ঝুঁকিপুর্ণ।

এখন তার চেহারা একেবারে পরিবর্তন সারাদিন জনসমাগম, দিবা-রাত্রি আলোর ঝলকানি। অবিরাম নির্ভয়ে পথচলা, নেই কোন সংশয়। হিমাগার সমুহ প্রতিষ্ঠার পর প্রত্যন্ত পল্লী অঞ্চল গ্রাম বাংলাকে রূপান্তর করেছে শহরতলীতে।

এই সেক্টরে কর্মরত দায়িত্বশীল বেসরকারি চাকুরীজীবী, শ্রমিক মেহনতি মানুষেরা দৃঢ়রতার সাথে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত এসব হিমাগারে চাকুরী করে উপার্জিত অর্থে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছি।

বীরগঞ্জে উৎপাদিত সুন্দর,সুস্বাদু বিভিন্ন জাতের আলু বিদেশে রপ্তানীযোগ্য, কৃষকের অর্থ উপার্জনের মুল অবলম্বন হিসেবে স্বীকৃত তাতে কাওরো দ্বিমত নেই।

অসংখ্য অগনিত আলু চাষী ও ব্যবসায়ী এবং মধ্যস্বত্ত্বভোগী মোঃ এনামুল, আজিজুল, কামাল পাশাসহ সম্পৃক্তরা অকপটে জানান হিমাগারের সার্বিক সহায়তা আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন এনে দিয়েছে, আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

হিমাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কৃষককে শিক্ষা দেয়া হয় অতিমাত্রা আলু উৎপাদনে নিত্য-নতুন কলা কৌশল। তাছাড়া স্বল্প সুদে ঋন সুবিধা।

হিমাগার মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, তারা রংপুর বিভাগীয় কোল্ড স্টোরেজের ৭ জুন’২০২১ খ্রিঃ মালিকগনের সভার সিদ্ধান্ত ও দিনাজপুর জেলা’র সাথে সমন্বয় করেই ভাড়া নির্ধারণ করেছেন।

কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, সম্প্রতি একশ্রেণির তথাকথিত স্বার্থানেশী মানুষ, এমন উন্নয়ন মুখী, জনগুরুত্বপূর্ণ কৃষি শিল্প, হিমাগার ব্যবসার ধ্স নামাতে মানুষকে উসকিয়ে দিয়ে চলমান ব্যবসার ব্যঘাত সৃষ্টি করার জন্য আন্দোলের নামে ভারাটে লোকজন দিয়ে মানববন্ধন করে জনগনের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

জনহিতকর প্রতিষ্ঠান গুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নামসর্বস্ব চাষী ও মুনাফা খোরদের লেলিয়ে দিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, যোগসাজশি হীন কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। যা স্পষ্ট মানহানিকর।

Print Friendly, PDF & Email