মাদারীপুরে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২১ | আপডেট: ১১:৪৭:অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২১

মাদারীপুরে একই স্থানে পক্ষে-বিপক্ষে মানববন্ধন করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে তিন পুলিশসহ আহত হয় ১৫ জন। এ সময় ১০টি মোটরসাইকেল ও বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক এমপি, মৌলভী আছমত আলী খানকে নিয়ে কটুক্তিমূলক বক্তব্য দেয়ায় মাদারীপুরে বেশ কিছুদিন ধরে আওয়ামীলীগের শাজাহান খান গ্রুপের নেতা কর্মীরা প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় সকাল ১০টার সময় মৌলভী আছমত আলী খানকে নিয়ে কটুক্তি করায় মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লার পদত্যাগের দাবিতে শাজাহান খান গ্রুপ সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কের কলাবাড়ি স্ট্যান্ডে একটি মানবন্ধনের আয়োজন করে।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ও মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লা গ্রুপের সমর্থকরা একই সময় মানববন্ধন করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সেসময় উত্তেজিত নেতা কর্মীরা পার্শবর্তী ঘটকচর স্ট্যান্ডে ১০টি মটর সাইকেল ভাংচুর করে ও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৩ পুলিশসহ আহত হয় ১৫ জন।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন অনিক বলেন, শেখ হাসিনার কারামুক্তি উপলক্ষ্যে কেন্দুয়া আওয়ামীলীগের উদ্যোগে রাস্তার পাশে মানববন্ধন চলছিল। এসময় শাজাহান খানের সমর্থকরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলা চালিয়ে আমাদের নেতা কর্মীর প্রায় দশটা মোটরসাইকেল ভাংচুর করে শাজাহান খান সমর্থকরা। তিনি আরো বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সোহরাব সরদারের বাড়ি,ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, খানকাহ শরীফে বর্বর হামলা ও লুটপাট চালায় শাজাহান খান গ্রুপের লোকজন।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. এহসানুল রহমান ভুইয়া জানান, আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে বাইরে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করে নাই। কেউ অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।

Print Friendly, PDF & Email