বরগুনার আমতলী খাদ্য গুদামে বোরো ধান সংগ্রহ অনিশ্চিত

আল নোমান আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১:০৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১১, ২০২১ | আপডেট: ১:০৪:পূর্বাহ্ণ, জুন ১১, ২০২১

আমতলী খাদ্য গুদামে বোরো মৌসুমের ধান সংগ্রহ অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। কৃষকরা খাদ্য গুদামে ন্যায্য মুল্য না পেয়ে বেশী দামে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে আমতলী খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ ২’শ ২ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।
জানাগেছে, উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষকে এ বছর বোরো সংগ্রহের জন্য ৩’শ ২২ মেট্রিকটন বরাদ্দ দেয় সরকার। গত ১২ মে বোরো সংগ্রহ শুরু করে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। এ সংগ্রহ চলবে ২৬ অগষ্ট পর্যন্ত। গত এক মাসে ১’শ ২০ মেট্রিক টন বোরো সংগ্রহ করেছেন তারা। এখনও ২’শ ২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ অবশিষ্ট রয়েছে। কৃষকরা ধান না দেয়ায় বাকী ধান সংগ্রহ অনিশ্চিত হয়ে পরবে বলেন জানান খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির। এদিকে কৃষকরা অভিযোগ করেন বাজার মুল্যের চেয়ে গুদামে দাম কম থাকায় তারা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের কাছে ধান বিক্রি করছেন না। অপর দিকে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশী থাকায় কৃষকরা আমাদের কাছে ধান বিক্রি করছেন না। এতে আমাদের বোরো সংগ্রহ অনিশ্চিত হয়ে পরবে।
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের মোঃ সোহেল রানা বলেন, বাজারে ধানের দাম বেশী তাই ইচ্ছা থাকা সত্তেও খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করিনি।
ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আমার মাধ্যমে কয়েকজন কৃষক খাদ্য গুদামে ৯ মেট্রিক টন ধান দিয়েছিল তাতে বাজার মুল্যের চেয়ে তাদের লোকসান হয়েছে। তাই এখন আর কৃষকরা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করছেন না।
আমতলী উপজেলা আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন বলেন, খাদ্য গুদামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম অনেক বেশী তাই কৃষকরা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করছেন না। তিনি আরো বলেন, ধান শুকিয়ে কৃষকদের খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে হয় কিন্তু বাজারে ভিজা ধান বেশী দামে বিক্রি করতে পারেন কৃষকরা।
আমতলী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সমীর কুমার রায় বলেন, বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের কাছে ধান বিক্রি করছে না। ফলে এ বছর বোরো মৌসুমে ২’শ ২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।

Print Friendly, PDF & Email