বেপরোয়া স্পীডবোট, নিয়মনীতির বালাই নেই

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ২:২৬ পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০২১ | আপডেট: ২:২৬:পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০২১

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এসব স্পীডবোট বেপরোয়া তারা কোন আইন মানে না। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কোন চালক নেই, পারানো হয়না যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট। বেশি টাকার আশায় গাদাগাদি করে যাত্রী তোলা হয়।

সোমবার ভোর সাড়ে ৬ টার দিক শিমুলিয়া থেকে ৩১ জন যাত্রী নিয়ে কান্দু মোল্লা ও জহিরুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি বড় স্পীডবোট শাহ-আলম নামের এক চালক চালিয়ে বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। স্পীডবোটটি পুরাতন কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে আসলে নদীর পাড়ে নোঙ্গর করে রাখা একটি বাল্কহেডের পেছনে সজোরে ধাক্কা লেগে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে সকল যাত্রী মাথায় বুকে গুরুতর আঘাত পেয়ে পদ্মায় পড়ে নিখোঁজ হয়। ৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা পাড়ে তুলতে সমর্থ্য হয়। খবর পেয়ে নৌপুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে সেনাবাহিনী সদস্য, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ গ্রহন করে। দুপুরের মধ্যেই উদ্ধার কর্মীরা শিশুসহ ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করে।

লাশগুলোর প্রতিটির মাথায়ই মারাত্মক জখমের দাগ দেখা গেছে। লাশ হস্তান্তরকালে মাথা দিয়ে রক্তক্ষরন হচ্ছিল। এছাড়াও কোন লাশের শরীরেই লাইফ জ্যাকেট ছিল না।
নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় পরিবার প্রতি নগদ ২০ হাজার করে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন প্রশাসন।

নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে স্পীডবোট সার্ভিসটি একপ্রকার অত্যাচারে রুপ নিয়েছে। দ্রুতগতির এ নৌযানটির নেই কোন রেজিস্ট্রেশন নাম্বার । নেভিগেশন আলোকবাতি নেই কোন স্পিডবোটে। চালকদের নেই নুন্যতম প্রশিক্ষন সনদ। রাতে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত চলে স্পীডবোট। করোনা লকডাউনের শুরু থেকেই এ নৌযানটি চলাচল বন্ধ থাকলেও নিয়মিতই চলছে এটি। বিশেষ করে শিমুলিয়া ঘাট থেকে প্রকাশ্যেই টিকিট কেটে চলছিল স্পীডবোটগুলো। শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফ হোসেন ও বাংলাবাজার ঘাটের ইজারাদার স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ইয়াকুব বেপারি। প্রত্যেক যাত্রীকে লাইফজ্যাকেট পড়ানো বাধ্যতামুলক থাকলেও নিহত ২৬ জনের কারো পরিধানেই একটি লাইফ জ্যাকেটও ছিল না।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, যে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে কোনটির পড়নেই লাইফ জ্যাকেট ছিল না। সবার মাথায়ই আঘাতের চিহৃ। লকডাউনে মূলত শিমুলিয়া পাড়ের স্পীডবোটগুলোই বেপরোয়।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, দূর্ঘটনায় নিহতদের শেষকৃত সম্পন্নের জন্য পরিবার প্রতি ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। দূর্ঘটনার কারন অনুসন্ধানে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email