মি. ক্লিন কীভাবে ডার্টি হলেন?

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০১৮

শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে সততার স্বাক্ষর রেখে ‘মি. ক্লিন’ হিসেবে পরিচিত পান। ওই স্বীকৃতির প্রতিদান হিসেবেই ২০১৩ এর শেষ দিকে সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের ছোট মন্ত্রিসভায় স্থান হয় তাঁর। পরে ২০১৪ এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। নতুন মন্ত্রিসভায় অনেক রদবদল হলেও শিক্ষামন্ত্রী থাকেন নূরুল ইসলাম নাহিদই। তবে ২০১৪ থেকে এখনো পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেও চরম বিতর্কিত চরিত্র হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিণত হয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায়। প্রশ্ন ফাঁস, পাঠ্যবই কেলেঙ্কারি, এমপিও ভুক্তিতে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ে। এসব দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রী। জনমণে প্রশ্ন কী হলো মি. ক্লিনের?

অতিসম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলোচনায় এসেছে সেখানকার দুই কর্মীর হঠাৎ নিখোঁজে। পরে জানা যায়, দুজনই আছেন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে। শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মোতালেব হোসেন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে ডিবি। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছে।

আরও জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শুধু এই দুজন কর্মকর্তাই নয় আরও অনেকেই আছেন যাঁরা দুর্নীতি-অনিয়মে যুক্ত। আর এমন চিত্র অন্য অনেক মন্ত্রণালয়েরও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জামাত-বিএনপিপন্থী সহ সরকারবিরোধী দলগুলোর অনেকেই ঠাঁই করে নিয়েছে। তারাই দুর্নীতির আখড়া বানাচ্ছে মন্ত্রণালয়গুলোতে। মোতালেব হোসেন ও নাসির উদ্দিনের মতো অনেকেই মন্ত্রীদের অতি ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে হয়তো মন্ত্রীদের অজ্ঞাতসারেই দুর্নীতি, অনিয়ম ও টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে ফেলছে। মন্ত্রীরা হয়তো জানছেনও না তাঁদের ইমেজ কোনো পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই অতি বিশ্বস্তরা। আবার ক্ষেত্র বিশেষ দায়িত্বশীলরাই হয়ে উঠছেন এদের রক্ষাকবচ।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মচারী ডিবির হাতে আটকের কথা জানার পর শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমনটি তাঁকে আগে থেকে জানাতে পারত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এরা মন্ত্রীর এতটাই আস্থাভাজন তাঁকে জানালে হয়তো এদের আটকই সম্ভব হতো না।

আর বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্ত্রীসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অধিনস্তদের দুর্নীতি-অনিয়মের দায়ভার তাঁদেরই নিতে হবে। নিজে ক্লিন বলে অধনস্তদের দুর্নীতি মেনে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে অধনস্ত কর্মচারীদের দুর্নীতি-অনিয়মেই মি. ক্লিন হয়েছেন মি. ডার্টি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলদের ঠিক করতে হবে আশে পাশে কারা থাকবে। আশে পাশের ঘনিষ্ঠদের ব্যাপারে সব ধরনের সাবধানতা নিতে হবে দায়িত্বশীলদেরই। কারণ এদের মাধ্যমে অনেকক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। দায়িত্বশীলদের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকক্ষেত্রেই এদের ভূমিকা থাকে অগ্রগন্য। সেখানেই যদি সমস্যা দেখা দেয় তবে এটি হবে ‘সরষের মধ্যেই ভূতের’ মতো অবস্থা।

আশার কথা হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রণালয়গুলোর দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করতে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছেন। আর তাঁর কারণে ডিবি ও দুদক এ ব্যাপারে নজরদারি ও তদন্ত বাড়িয়েছে। তাঁদের কার্যকর ভূমিকার কারণে আটক হয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন। এই আটক বাকি সরষের ভূত ও তাঁদের আশ্রয়দাতাদের জন্যও অশনিসংকেত বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

  • বাংলা ইনসাইডার