বরিশালে দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ার স্বপন’র শাস্তিমূলক বদলী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০১৮

প্রায় মাস পেরিয়ে গেলেও কোটি টাকার জেনারেটরের দূর্ণীতি অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি অদৃশ্য কারনে। এদিকে বিসিসির আহবান করা দরপত্রের প্রয়োজনীয় তথ্য এবং কাগজপত্র পেশ না করে গায়েব করার দায়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) কাজী মনিরুল ইসলামকে শাস্তিমূলক বিদ্যুৎ শাখায় বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। জেনারেটর কেলেংকারির সাথে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হতে পারে বলে বিসিসি সূত্র থেকে জানা গেছে। গত ১৬ জানুয়ারি তিনি বিদ্যুৎ শাখায় যোগদান করেন।

অভিযোগের পেক্ষিতে সরেজমিনে অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, গত ২০১০-১১ ইং অর্থ বছরে বিদেশি প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দপ্রদান করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিসিসি দুই তিন ধাপে দরপত্র আহবান করে পানির পাম্পে স্থাপন করার নির্দেশনা দেয়া হয় ঠিকাদারকে। বিসিসি’র পানির ৩২ টি পাম্পের জন্য বিদেশী অর্থায়নে সর্বোমোট ১৪ টি পাম্পে জেনারেটর স্থাপনের বিষয় মৌখিকভাবে দাবী করলেও সরেজমিনে তার সত্যতার বিন্দুমাত্র নেই বলেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। সম্প্রতি অভিযোগের সত্যতা এবং মন্ত্রণালয়ের তদারকির তোপের মূখে পরে কর্তৃপক্ষ এক জরুরী সভার মাধ্যমে অফিস আদেশে পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিদ্যুৎ শাখায় বদলী করা হয়েছে। এর সত্যতা নিশ্চিত করে বিসিসি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসমা আক্তার রুমি জানান, কার্যস্বার্থে অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কোটি টাকার অনিয়ম দূর্ণীতির তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আলোর মূখ দেখেনি। প্রায় দুই কোটি টাকার বিদেশী অর্থায়নের জেনারেটর স্থাপনের বিষয়ে নানান অনিয়ম দূর্ণীতির বিষয় তদন্তভার বিসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী খাঁন মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম কে তিন কার্য দিবসে দেয়ার নির্দেশনা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিলেও প্রায় ৩০ দিনের বেশী কেটে গেলেও জমা দেয়া নিয়ে দড়িমসি করছেন তিনি।গত ২০১০-১১ অর্থ বছরে প্রায় দুই কোটি টাকার বরাদ্দ কৃত ১৪ টি জেনারেটর বিসিসি’র পানির পাম্পে স্থাপন করার কথা থাকলেও দরপত্র আহবান করার কাগজ পত্র সমেত ভ্যানিস হয়ে যায় অচিরেই। নির্ভরযোগ্য তথ্যানুযায়ী, সরেজমিনে গড়মিল আর মহাদূর্ণীতির থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়লে মহা বিপাকে পরে সংশ্লিষ্টরা।

এ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন পেশ করা নির্দেশনা প্রধান প্রকৌশলী খাঁন মুহাম্মদ নুরুল ইসলামকে দেয়া হলে প্রায় মাস হয়ে গেলেও প্রতিবেদন পেশ করা হয়নি। বরং ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার মিশনে দফায় দফায় গোপন সক্ষতা গড়ে আতাত করে চলছে ম্যানেজ প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে তদন্তকারী প্রধান প্রকৌশলী প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে বলেন তার আরো সময়ের প্রয়োজন তবে সময় চেয়ে কিংবা নির্ধরীত সময়ে প্রতিবেদন জমা না দেয়ার অপারগতা স্বীকার করেন নি নিয়ম মেনেই।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও জানান, তিনি এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পায়নি ফলে ব্যবস্থা গ্রহনের কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। তবে প্রধান নির্বাহীর বেধে দেয়া নির্ধারীত তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা করতে পারেন নি তার কৈফিয়ত তলফ কিংবা কারনদর্শানো না করায় সরিষার মধ্যেই রয়েছে ভূত এমন টাই রটছে নগর ভবনের কর্তব্যরতদের মূখে। নাম না প্রকাশের শর্তে এক কর্মকর্তা জানায়,বরাদ্দকৃত প্রায় দুই কোটি টাকার সিংহ ভাগই পকেটে নেয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি সাপেক্ষ সন্তুষ্টির কাজ চলমান তাই প্রকৃত প্রতিবেদন জমা দেয়া হচ্ছে না।

অপর এক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, এমন ধরনের মহা অনেক দূর্ণীতির ফাইল রয়েছে ধামা চাপা পড়ে, যেমন জেল খালের উপর অপরিকল্পিত ব্রীজ নির্মান,রসূলপুর ব্রীজ নির্মানের এক দিনের মাথায় ভেঙে পরে তা ভ্যানিশ সহ নানান দূর্ণীতি অনিয়মের ফাইল। এমন সব তথ্য ও সরেজমিন প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগের কানে গেলে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এর মধ্যেই বিসিসি’র সচিব কে ঝালকাঠিতে বদলীর আদেশ দিয়েছে বলেও সূত্র জানায়। চলতি মাসেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগের সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম বিসিসিতে আসছে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী জানায়, জাতীয়,স্থানীয়, অনলাইন গনমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সরকারি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা সহ বিভিন্ন মহল তদন্তে তৎপরতায় মহা দূর্ণীতি থেকে নিজেদের বাঁচাতে রাজনৈতিক দলের শীর্ষক নেতৃবৃন্দের দারস্থ হচ্ছেন তারা। এর ন্যায় প্রধান প্রকৌশলী কাঠের পুতুল বনে গিয়ে প্রতিবেদন পেশ করা না করার দোটানায় ভূগছে।

অপরদিকে প্রধান নির্বাহীর সাথেও গোপন সক্ষতা গড়ছেন নিজেদের আড়াল করতে অভিযোগের তীর থেকে তাদের নামের নিসান সরাতে। যদিও স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার মাধ্যমেই কাবু করার মিশনে রয়েছে বিসিসি’র মহাদূর্ণীতির মূল হোতা প্রকৌশলী নব্য এক নেতা। তবে চলতি মাসের মধ্যে এ নিয়ে তলফ করা হবে সংশ্লিষ্টদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগে বলেও সূত্র থেকে জানা গেছে।