জগন্নাথপুরে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নির্মাণ হয়নি ব্রিজ, একমাত্র ভরসা বাশেঁর সাঁকো

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২১ | আপডেট: ৪:১১:অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২১

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়ন দাওরাই পূর্ব পাড় চাতল নদীর উপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের ব্রিজ টি দিয়ে প্রতিনিয়ত পার হচ্ছে কয়েক হাজার গ্রামবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এ নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি। জগন্নাথপুর দাওরাই হয়ে গোয়ালা বাজার ওসমানী নগর উপজেলার ইউনিয়নের মিটাভরাং, দাওরাই,ঐয়ার কোনা,মাঝপাড়া, কান্নি চর,পেচি,আট ঘর, মিলিক জগন্নাথপুর দাওরাই গোয়ালা বাজার সহ ৫০ -৬০ টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র পথ এই বাঁশের ব্রিজ বর্ষায় খোওয়ানৌকা হেমন্ত বাঁশের ব্রিজ । এছাড়াও দাওরাই বাজার এলাকায় দাওরাই সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়,উওর দাওরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ষড়পল্লী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ সহ কয়েকটি ব্যাংকের শাখা, হাজারও শিক্ষার্থীসহ লাখো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে।

অপরদিকে ওসমানী নগর উপজেলা উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। প্রায় ১৫/২০ বছর ধরে নদীটির উপর গ্রামবাসীরা নিজ খরছে বাঁশের ব্রিজ টি নির্মাণ করেন। বাশঁগুলো পঁচে গিয়ে বর্তমানে ব্রিজ টি একেবারেই অকেজো হয়ে গেছে। বিগত দিনে জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এ পর্যন্ত এলাকাবাসীর ভাগ্যে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছুই জোটেনি। ব্রিজ দিয়ে কোনো রকমে হেঁটে পারাপার সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল করা একেবারেই কঠিন হয়ে পেরেছে।

স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব এলাকার মানুষের। ফলে এ এলাকার মানুষের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। গ্রামের জনসাধারন বলেন, “অনেকেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ আমাদের খোঁজ-খবর নেয়নি। আমরা অনেক দিন ধরে একটি ব্রিজের স্বপ্ন দেখছি কিন্তু আমদের স্বপ্ন যেন রয়ে গেল।

স্থানীয় দুদু মিয়া বলেন, “বাপ-দাদারা কষ্ট করে গেছে আমরা কী আর আরাম করতে পারবো? আমাদেরও কষ্ট করে যেতে হবে। দেশের কত জায়গায় কত উন্নয়ন হয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় এই ব্রিজটি নির্মাণ আর হলো না। ৭ ম শ্রেনীর ছাত্রী রিপা বেগম বলেন, বর্ষায় খোওয়া নৌকা হেমন্ত বাঁশের ব্রিজ দিয়ে পার হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয়। ব্রিজটি খুব ঝূঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে আমাদের চলাচল করতে অনেক ভয় করে। ষড়পল্লী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র সায়মন মিয়া বলেন, ২০১৮ সালে আমাদের সহ পাঠি সুমি বেগম খোওয়া নৌকা ডুবে মারা যান। তার পরও ব্রিজ টি হয়।

আশার কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইমানী বলেন, এই নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের । তা এখন প্রায়ই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ব্রিজটি অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ। ব্রিজটি না থাকার জন্য দীর্ঘদিন যাবত কয়েক গ্রামের মানুষের চলাচল কষ্টের হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান মহোদয় ব্রিজটির জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। সেটির প্রি-একনেক হয়ে গেছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে একনেকে চলে যাবে। অনুমোদন হলেই আশা করি আগামী এ বছরের মধ্যে এই ব্রিজটি হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার জানান, চাতল নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া আছে। অনুমোদন পেলে দ্রুতই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।##

Print Friendly, PDF & Email