বরগুনার আমতলীতে ঘরে ঘরে ডায়েরিয়া দু’শতাধিক আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি

আল নোমান আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২১ | আপডেট: ২:৫৬:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২১

আমতলী উপজেলার ঘরে ঘরে ডায়েরিয়া রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পরছে। গত ৭ দিনে দু’শতাধিক ডায়েরীয়া আক্রান্ত রোগী আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। রোগীদের সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিসশীম খেতে হচ্ছে। আসন সংকুলন না হওয়ায় রোগীদের বারান্দায় অবস্থান নিয়েছে। উপজেলার প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে পাঁচ শতাধিক রোগী ডায়েরীয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানাগেছে।
আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, গত ৭ দিনে দুই’শতাধিক মানুষ ডায়েরিয়া আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। গত দুই দিন ধরে গড়ে ৩০-৪০ জন ডায়েরীয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার পর্যন্ত ডায়েরীয়ায় আক্রান্ত ২২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের রোগীদের সামাল দিতে হিমশীম খেতে হচ্ছে বলে জানান ডাঃ এমদাদুল হক চৌধুরী। ৬ শয্যা ডায়েরী রোগীর আসনের স্থানে অর্ধ-শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আসন না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায় রোগীরা বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমতলী পৌরসভা, আমতলী সদর, চাওড়া, আঠারোগাছিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নে ডায়েরিয়া প্রকোপ বেশী দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগের আক্রান্তের সংখ্যায় গড়মিল রয়েছে। সরকারীভাবে আক্রান্তের সংখ্যা দুই’শতাধিক হলেও বে-সরকারী ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ শতাধিকের বেশী বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না এসে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছে। আবার কম আক্রান্ত অনেক রোগী হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী চলে যাচ্ছেন। এদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ এন্টিবায়োটিক ও কলেরা স্যালাইন হাসপাতাল থেকে দেয়া হচ্ছে না। রোগীর স্বজনদের বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখাগেছে, ৫০ জন শিশু ও বয়স্ক মানুষ ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালে রোগীদের উপচে পরা ভীড়। তিল পরিমান জায়গা ফাঁকা নেই। বারান্দার ফ্লোরে বিছানা পেতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে।
আমতলী পৌর শহরের খাদিজা, ইয়াসিন ও জসিম ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের স্বজনরা বলেন, হাসপাতাল থেকে শুধু স্যালাইন ছাড়া কোন ঔষধ দিচ্ছে না। সকল ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হয়।
পাতাকাটা গ্রামের ইছার বাবা মাহবুব বলেন, খাবার সেলাইন ও আইভি স্যালাইন ছাড়া সকল ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হয়।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানী গ্রামের সোবাহান বলেন, ডায়েরীয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শংকর প্রসাদ অধিকারী এন্টিবায়োটিক ও আইভি স্যালাইন না দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ঋতু পরিবর্তনের কারনে প্রচুর ডায়েরীয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের স্টোরে পর্যাপ্ত এন্টিবায়োটিক ও আইভি স্যালাইন রয়েছে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে বেড নেই। তাই রোগীদের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ডায়েরীয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।