ভুল ঘোষণায় সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত- ৯

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১ | আপডেট: ১১:৪৪:অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মাদারীপুর পৌরসভা নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার নাসির উদ্দিনের ভুল ঘোষণায় কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সাথে পুলিশ, বিজিবির সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও এলাকাবাসীসহ ৯ জন আহত হয়। এরপরেই এলাকাবাসী একজোট হয়ে শরিয়তপুর- ঢাকা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পাচঁঘন্টা ব্যাপী এ বিক্ষোভ চলা কালে সড়কে সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রবিবার রাতে পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ড পানিছত্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পৌরসভা নির্বাচনে ৫ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তিনজন। তাদের মধ্যে পাঞ্জাবি প্রতিকে রয়েছে ইব্রাহিম কালু। এই ওয়ার্ডে নির্বাচনী সেন্টার রয়েছে দুটি। একটি কুলপদ্দী উচ্চ বিদ্যালয় আপরটি আল জাবির উচ্চ বিদ্যালয়। বিকেল পাচঁটার দিকে কুলপদ্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাপ্ত ভোট ঘোষনা হয়ে যায়। এখানে ইব্রাহিম কালু ভোট পায় ৫৪৭ ও রেজাউল করিম পায় ১ হাজার ৫৭৭ ভোট। এরপরেই সব প্রার্থীর সমর্থকরা অপেক্ষা করে আল জাবির প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলের জন্য। এখানকার প্রিজাইডিং অফিসার নাসির উদ্দিন প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট ঘোষনা করেন। তাতে ইব্রাহিম কালু ভোট পায় ১ হাজার ২৮০। রেজাউল করিম ২৯৫ ভোট পেলেও নাসির উদ্দিন তার প্রাপ্ত ঘোষণা করে ২১৫ ভোট। দুই কেন্দ্রের ফলাফলে তখনকার জয়ী প্রার্থী ইব্রাহিম কালু। নাসির উদ্দিনের এমন ঘোষণায় ইব্রাহিম কালুর সমর্থকরা বিজয়ী মিছিল, শ্লোগান দিয়ে আনন্দ উল্লাস করেন। প্রায় ৩০ মিনিট পড়ে প্রিজাইডিং অফিসার নাসির উদ্দিন রেজাউল করিমের ২১৫ ভোটের পরিবর্তে আবার ২৯৫ ভোট সঠিক হিসেবে ঘোষণা করে। তখনই উত্তেজনা শুরু হয়ে যায় এলাকায়। এক পর্যায়ে বিজিবির সদস্যরা এসে উত্তেজিত সমর্থকদের উপড় চড়াও হয়। মুহুর্তের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে এলাকার মিনা বেগম(৩২), রনি (১৭), সেতু (২৬), বাবু ২১ আহত হয়। এছাড়াও এসএই মহাসিনসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,ইভিএম(ভোটিং মেশিন) পদ্ধতি ভোট গণনায় ভুল হতে পাড়েনা। এই কেন্দ্রের সবাই টাকা খেয়ে এই কাজ করেছে।

প্রিজাইডিং অফিসার নাসির উদ্দিন বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গননায় ভুল হতে পারেনা। “ইব্রাহিম কালুর সমর্থকরা বিজয়ী মিছিল কেন করলো” এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন ” ম্যাজিস্ট্রেট মরিয়ম বেগম উপস্থিত ছিলেন, তিনি সব জানেন ” বলে ফোন কেটে দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান বলেন, রাত ১১ টার দিকে আমরা বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ ভাবে রাস্তা থেকে সরিয়েছি। পরিবর্তী ব্যবস্থা আইনগত ভাবে তদন্ত করে নেয়া হবে।

সোমবার বিকেলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, মনিরুজ্জামান সাংবাদিক পরিচয় দিতেই ফোন কেটে দেন।

জিএম/নাজমুল