ই ঋতুর সময় হতে পারে চিকেন পক্স, সতর্কতা জরুরি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১ | আপডেট: ৯:২৮:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

শীত শেষে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে জীবাণুরা। সাধারণ জ্বর, সর্দিকাশি ছাড়াও এ সময়ে হাম ও বসন্তের প্রকোপ দেখা যায়। এই ঋতুর সময় এই রোগের ভাইরাস আমাদের আশপাশে বায়ুতে ঘুরে বেড়ায় আর সুযোগ পেলেই গ্রাস করে, যার নাম বসন্ত বা চিকেন পক্স। রোগের শুরুতে জ্বর, গা ম্যাজম্যাজ, শরীর কমজোরি হতে থাকে, পেটের গন্ডগোলও দেখা দেয়।

চিকেন পক্স বা ‘ভ্যারিসেলা ভাইরাস’ একটি ছোঁয়াচে রোগ। সাধারণত চিকেন পক্সে আক্রান্ত হওয়ার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। চিকেন পক্স হলে সারা শরীরে ছোট ছোট লালচে ফোসকার মতো দেখা যায়। সেই সঙ্গে থাকে মাথা ব্যথা আর জ্বর। রোগীর শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়।

এই রোগের সব চেয়ে খারাপ দিক হল এর লালচে ফোসকার সঙ্গে মারাত্মক চুলকানি। ত্বকে অস্বস্তির জেরে চুলকোতে গিয়ে এই লালচে ফোসকা ফেটে গেলে তা থেকে আরও বেশি মাত্রায় ফুসকুড়ির মতো উঠতে শুরু করে। তবে সতর্ক থাকলে তেমন কোনও চিকিৎসা ছাড়াই চিকেন পক্সে সেরে ওঠা সম্ভব।

এই রোগে আক্তান্ত হলে চর্বি যুক্ত মাংস, ফ্যাট দুধ এড়িয়ে চলাই ভালো। এই সব খাবারে থাকা ফ্যাট ভ্যারিসেলা ভাইরাসের সংক্রমণের গতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই এই সময় এই ধরণের খাবার এড়িয়ে চলাই উচিত।

এছাড়া চকোলেট, বাদাম জাতীয় খাবার খাওয়া ঠিক নয়। কারণ, এই সব খাবারে এমাইনো অ্যাসিড রয়েছে যা চিকেন পক্সের সংক্রমণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা যাবে না। হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। এক বালতি হালকা গরম পানিতে ১ কাপ ওটমিল পাউডার ভিজিয়ে রেখে তা দিয়ে গোসল নিন। এতে চুলকানি অনেকটাই কমবে। গোসল শেষে তোয়ালে বেশী চেপে গা মুছতে যাবেন না। যতটা সম্ভব স্বাভাবিকভাবেই শরীর শুকিয়ে নিন।

চুলকানি কমাতে ওলিভ অয়েল বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করুন। এই রোগ যে ভাইরাসের দরুন ছড়ায় সেটা মূলত এই শীতের শেষ আর গরমের শুরুর সময় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। আর যার শরীরের প্রতিরোধক ক্ষমতা কম তার পক্সের ঝুঁকি অনেক বেশি।

যেভাবে বুঝবেন চিকেন পক্স

ভাইরাস সংক্রমণে এ রোগের শুরুতে শরীর ম্যাজম্যাজ, হালকা ব্যথা, অল্প জ্বর থাকবে, গায়ে ছোট ছোট বিচি বা র‌্যাশ উঠবে। সাধারণত এ র‌্যাশ বুকে-পিঠে দেখা যায়, তবে সারা শরীরেই উঠতে পারে। এ বিচিগুলোতে পানি থাকে, দেখতে অনেকটা ফোসকার মতো।

যেভাবে ছড়ায়

১. রোগীর পক্সের ফোস্কার সংস্পর্শে এলে।

২. রোগীর কাশি বা হাঁচি থেকে।

৩. রোগীর ব্যবহার করা জিনিসের ব্যবহার করলে।

৪. গর্ভবতী মায়ের থেকে শিশু বা নবজাতক শিশুর হতে পারে।

যেসব কাজ করবেন না

এমন কোনো খাবার খাবেন না যা থেকে রোগীর পূর্ব থেকে শরীরে অ্যালার্জি বা চুলকানি হতো। চিকেন পক্সের ক্ষত খোঁটা যাবে না। খুঁটলে স্থায়ীভাবে দাগ বসে যাবে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। ছয় মাসের মধ্যে দাগ এমনিতেই চলে যায়। এজন্য মুখে ডাবের পানি বা প্রসাধনী ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
পরিষ্কার কাপড় পরাতে হবে

র‌্যাশ ঝরা শুরু করলে এগুলো যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করুন। খোসা এমনিতেই না উঠলে নখ দিয়ে ওঠানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে শরীরে দাগ হয়ে যেতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email