টিকার লাইনে যে কারণে পিছিয়ে পড়াদের সংখ্যা কম

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১ | আপডেট: ১২:১০:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১

মো. সেলিম মিয়া। বয়স ৫০ বছরের বেশি। পেশায় একজন রিকশাচালক। ৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচর এলাকায়। করোনার টিকা নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের টিকা দেবে কে? বিনা পয়সায় দেবে? টিকা নিতে গেলে রিকশা বন্ধ করে যেতে হবে। রিকশা বন্ধ করলে খামু কী। ফেরি করে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করেন বিল্লাল হোসেন। বয়স ৪৫ বছর।

করোনার টিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, শুনেছি টিকা আইছে। নিবন্ধন করতে পারি না। কীভাবে টিকা নিমু। টাকা লাগবে? শুধু সেলিম বা বিল্লালই নন এমন পিছিয়ে থাকা অনেক মানুষ এখনো করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী হতে পারছেন না। তাদের কাছে পৌঁছেনি সঠিক তথ্য। তাই দ্বিধা-সংকোচের আবর্তে এসব মানুষ টিকা কার্যক্রমের বাইরে।

রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, টিকা নিতে আসা মানুষের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তরা। এদের মধ্যে আবার চাকরিজীবীদের সংখ্যাই বেশি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাধারণ মানুষকে টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনতে এখন পর্যন্ত সফলতা দেখাতে পারেনি। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তাদের সবাইকে দেশের জাতীয় এ কর্মসূচিতে যদি অন্তর্ভুক্ত না করা যায় তাহলে টিকাদান কর্মসূচি সফল হবে না। মানুষ সেবা নিতে আসবে এই আশায় থাকা যাবে না, মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে হবে-নয়তো সবাইকে টিকার আওতায় আনা যাবে না। তারা বলছেন, টিকা নিতে হলে যে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি করা হয়েছে সেটা জটিল। অনেক শিক্ষিত মানুষই রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন, সেখানে নিম্নবিত্ত অনেকের হাতেই স্মার্টফোন নেই, থাকলেও রেজিস্ট্রেশন তারা করতে পারেন না।

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী টিকা নিতে আসছেন না এবং তাদেরকে আনতে কী উদ্যোগ নিতে হবে- জানতে চাইলে জাতীয় পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে হবে। একজন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কুলি তারা এই প্রক্রিয়ায় টিকা নিতে পারবে না। এদের জন্য সহজে ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে সরকারকে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)- সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং সংস্থাটির উপদেষ্টা ডা. মুস্তাক হোসেন মানবজমিনকে বলেন, সাধারণ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে। নমুনা সংগ্রহের মতো বুথ তৈরি করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email