পরবর্তী মহামারি হতে পারে নিপা ভাইরাস

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২১ | আপডেট: ৪:৪৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক :: গত এক বছর ধরে করোনাভাইরাস মহামারি সামালাতেই ঘাম ছুটে যাচ্ছে বিশ্বের বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোর। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ঠেকাতে দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

নেদারল্যান্ড-ভিত্তিক অ্যাকসেস টু মেডিসিন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জয়শ্রী কে আইয়ার জানিয়েছেন, সম্প্রতি চীনে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাণঘাতী নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এটিই হতে পারে পরবর্তী বৈশ্বিক মহামারি।

তিনি বলেন, নিপা ভাইরাস হলো আরেকটি ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ, যা বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এটি যেকোনো মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি পরবর্তী মহামারি ওষুধপ্রতিরোধীও হতে পারে।

নিপা ভাইরাসের কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসে মারাত্মক সমস্যা এবং এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়া) সৃষ্টি হতে পারে। প্রাদুর্ভাব কোথায় ঘটছে তার ওপর নির্ভর করে এতে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

নিপা ভাইরাস সাধারণত বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশ ও ভারতে খেজুরের রস পানের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়াতে থাকা মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ঠেকাতে বর্তমানে চারটি পণ্যের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি ভ্যাকসিন, একটি ওষুধ, একটি ডায়াগনস্টিক যন্ত্র এবং একটি কীটনাশক স্প্রে, যেটি ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধেও কাজ করবে।

জয়শ্রী আইয়ার বলেন, আমাদের যেসব অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে, সেগুলো হয়তো এখনো কাজ করছে। তবে সেগুলো প্রতিস্থাপনের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা যে যক্ষ্মাকে নির্মূল করতে পারব ভাবতাম, সেটি ওষুধপ্রতিরোধী ধরনের কারণে বেশ কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।

ভবিষ্যৎ মহামারির বিষয়ে সতর্ক করে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, এমন একটি মহামারি, যেখানে ওষুধপ্রতিরোধী জীবাণু রোগ সৃষ্টি করবে, সেটি আর অকল্পনীয় নয়, অনিবার্যও বটে, যতক্ষণ না ফার্মা শিল্প গুরুত্বসহকারে বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির উদ্যোগ নেয়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Print Friendly, PDF & Email