মাদারীপুরে অবৈধ সীসা কারখানা, নজরদারি নেই প্রশাসনের

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১ | আপডেট: ১০:২৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মাদারীপুরের বিসিকসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধে চলছে সীসা তৈরির কারখানা। গত দুবছর আগে গণমাধ্যমে এনিয়ে সংবাদ প্রচার হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। তবে তারপর আর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন, নেই কোন নজরদারি।

শহরের বিসিক এলাকায় মেসার্স জান্নাত ট্রেডার্স, প্রোপ্রাইটর কামাল হোসেন। একই মালিকের শিরখারা ইউনিয়নে রয়েছে আরো একটি কারখানা।
মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের হবিগঞ্জ এলাকায় শাওন ব্যাটারী রিসাইক্লিলিং, প্রোপ্রাইটর ফারুক সরদার। তিনি ফসলি জমি, কলাবাগান ও সবুজ গাছপালার মাঝেই অবৈধ ভাবে গড়ে তুলেছেন কারখানা।

এসব কারখানার ব্যাটারির অ্যাসিডের প্রকট গন্ধে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ। কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও আশপাশের পরিবেশ রয়েছে হুমকির মুখে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এসব কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের পদার্থ মানুষের শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আর কোনো পশু কারখানার আশপাশের ঘাস খেলে অসুস্থ কিংবা মারাও যেতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে শ্রমিকেরা কাজ করছেন। কেউ পুরোনো ব্যাটারির ওপরের অংশ খুলে প্লেট (ব্যাটারির ভেতর থাকা পাত) বের করছেন। কেউ ব্যাটারি থেকে অ্যাসিড বের করে সংরক্ষণ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানা এক শ্রমিক জানান, চুল্লির মধ্যে কাঠ ও কয়লায় অ্যাসিড মিশ্রিত ব্যাটারির বর্জ্য বা প্লেট সাজানো হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দিলে তা গলতে থাকে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক পাখা থেকে বাতাস দেওয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সিসা তৈরি হয়।

কারখানাটির পাশেই হবিগঞ্জ বাজার ও ব্রিজ রয়েছে। কয়েক হাজার লোক স্বাস্থ্যঝুকি নিয়ে কারখানার পাশ দিয়ে যাতায়াত করে। স্থানীয়দের দাবী কারখানাটি বন্ধ না করলে মানুষ ও প্রকৃতি দুটোই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে।

এব্যাপারে সীসা তৈরি কারখানার মালিক ফারুক সরদার বলেন, তার লাইসেন্স নেই তবে সে আবেদন করেছে।তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকদের সাথে তার সুসম্পর্ক তাই সমস্যা হয় না। মেসার্স জান্নাত ট্রেডার্সের মালিক কামাল হোসেন বলেন, দুই একদিনের মধ্যে সে পরিবেশ ছাড়পত্র পেয়ে যাবে। নিয়ম মেনেই সে কারখানা তৈরি করেছে।

জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান করা হবে।