গোসলের দৃশ্যধারন করে ধর্ষন,মামলার আসামীর সংবাদ সম্মেলন

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১১:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১ | আপডেট: ১২:১৬:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টারঃ

“গত ১৫ জানুয়ারি প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের দৃশ্যধারণ করে ধর্ষণ” শিরনামে প্রকাশিত সংবাদের সুত্রধরে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্ষণ মামলার আসামী দ্বীন ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের মামলা মিথ্য বলে দাবি করে আসামী।

অনুসন্ধানে জানা যায়,রবিবার দুপুর তিনটার দিকে মাদারীপুর পৌর শহরে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
এসময় আসামী দ্বীন ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, “পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। ধর্ষণ মামলার বাদীর মায়ের কাছে তার পনের লক্ষ টাকা পাওনা ছিলো সেই টাকা চাইতে গেলে মেয়েকে দিয়ে ধর্ষণ মামলা দেয়া হয়”।

মামলার বাদী বলেন, দ্বীন ইসলাম আমার মায়ের সরলতার সুযোগ নিয়েছে। বাড়ির কাজের জন্য ওর কাছ থেকে মালামাল আনতাম। ত্রিশ হাজার টাকা পাওনা ছিলো আমার মায়ের কাছে। দ্বীন ইসলাম আমার সংসার ভেঙেছে আবার আমার মায়ের সাক্ষর জাল করে পনের লক্ষ টাকার মিথ্য মামলা করছে।
এছাড়াও মামলার বাদী বলেন, আমার কাছে দ্বীন ইসলামের কল রেকর্ড আছে যা শুনলে সবাই বুঝতে পাড়বে “দ্বীন ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে যা বলেছে সব মিথ্যে ও ভিত্তিহীন”।

উল্লেখ্যঃ মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের দৃশ্যধারন করে ব্লাকমেইলিং ও ধর্ষন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে একটি মামলা হলেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী। স্থানীয় ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের এক গৃহবধুর গোসলের দৃশ্যধারণ করে মো.দীন ইসলাম রাঢ়ী (৩৭) নামে এক যুবক। সেই দৃশ্য স্বামীর কাছে ও ফেসবুকে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর ওই নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। এরপর ওই নারীকে বিভিন্ন সময় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে মো. দীন ইসলাম। একপর্যায় ওই নারী আত্মহত্যারও চেষ্টা করে। পরে এই ঘটনায় গত বছর ১৭ নভেম্বর মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী নারী। আদালত মামলাটি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, গোসলের ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে আমাকে ব্লাকমেইল করে একাধিক বার ধর্ষণ করেছে। সেই ভিডিও আমার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে আমার সুখের সংসার ধ্বংস করে দিয়েছে দীন ইসলাম। একারনে আমি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলাম। আমার চার বছরের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে আছি। ভুক্তভোগী নারী মা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা গরীব মানুষ তাই পুলিশও আসামী গ্রেপ্তার করেনি। ওর জন্য আমার মেয়ে সংসার ভেঙ্গেছে। আমরা চাই দীন ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
এব্যপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্মকর্তা ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে তাই তদন্তাধীন বিষয় বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। তবে শিঘ্রই আদালতে চার্জসীট দাখিল করা হবে।’