ধর্ষণ করার পরে তরুণীকে বিয়ে করায় জামিন পেলেন আসামি

প্রকাশিত: ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০২০ | আপডেট: ৩:১৬:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০২০

২২ অক্টোবর কারাবন্দি আসামি ও ভি’কটিমের মধ্যে কারাফটকে বিয়ের আয়োজন করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর গত ৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর কারাফটকে দিলীপ খালকোর সঙ্গে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর বিয়ে হয় নলে জানা যায়। বিয়ের পর সে বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত ভাবে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। আদালতের আদেশ মোতাবেক বিয়ের বিষয়টি অবহিত ক’রে জামিন আবেদন করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় শুনানির পর দিলীপ খালকোকে ১ বছরের জামিন দিলেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মো’স্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ধর্ষণের শিকার তরুণীর পক্ষে আজ আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এসএম শাহেদ চৌধুরী। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছি’লেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাজশাহীর দিলীপ খালকো ধর্ষণের শিকার তরুণীকে বিয়ে করায় তার ১ বছরের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে আসামি কা’রাগার থেকে বের হয়ে জামিনের অপব্যবহার করলে তার জামিন বাতিল হয়ে যাবে বলে আদেশে দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে অনুযায় জানা যায়, গোদাগাড়ী উ’পজেলার সিতানাথ খালকোর ছেলে দিলীপের সাথে তার খালাতো বোনের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হয় এবং ভুক্তভোগী গ’র্ভবতী হয়ে পড়েন। কিন্তু তাকে বিয়ে করতে অসম্মতি জানান দিলীপ।

এ নিয়ে ২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর গো’দাগাড়ী থানায় দিলীপের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে ভুক্তভোগী। এ মা’মলায় রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১২ সালের ১২ জুন এক রায়ে দিলীপকে যা’বজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। রায়ে বলা হয়েছে, যখন ভুক্তভোগী ধর্ষণের শি’কার হন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর ।

দিলীপ ২০১২ সালে আদা’লতের রায়ের পর থেকে কারাবন্দী ছিলেন। এ অবস্থায় সে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। আবেদনের ওপর শুনানিকালে তার আইনজীবী জানান, ভুক্তভোগী ও আসামি বিয়ে করতে সম্মত। জামিন পেলে তাদের মধ্যে বিয়ে হবে। প’রে কারাফটকে তাদের বিয়ের আয়োজন করতে কর্তৃপক্ষকে ওই নির্দেশ দেন হা’ইকোর্ট। এবার আদালতের নির্দেশমতো বিয়ে করে জামিন পেলেন দিলীপ।