১২ লাখ পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ দেবে আওয়ামী লীগ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ৩:০৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮
১২ লাখ পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ দেবে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পুরোমাত্রায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য দেশজুড়ে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে অন্তত চারটি প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম সার্বিক বিষয় দেখভাল করছেন। তিনি সমকালকে জানিয়েছেন, এরই মধ্যে প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে খুব দ্রুতই সারাদেশে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হবে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা অনেকটাই গুছিয়ে আনা হয়েছে। এ পরিকল্পনাটি খুব কম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি অনুমোদন দিলেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এ পরিকল্পনার আওতায় কমপক্ষে ১১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ কর্মীকে পোলিং এজেন্ট করা হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন। তাদের হিসাবে আগামী নির্বাচনে কমবেশি ৪৬ হাজার ৫০০টি ভোটকেন্দ্র হতে পারে। একেকটি ভোটকেন্দ্রে গড়পড়তা পাঁচটি করে বুথ করা হলে মোট বুথের সংখ্যা হবে দুই লাখ ৩২ হাজার ৫০০টি। তবে এ সংখ্যার চেয়ে কমপক্ষে পাঁচগুণ বেশি পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করা হবে।

আগামী মার্চ মাস থেকে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তুতি রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা শেখার পাশাপাশি সঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি শেখানো হবে।

তিনশ’ সংসদীয় আসনের আওতাধীন সাতটি প্রশাসনিক বিভাগের (আটটি রাজনৈতিক বিভাগ) পাশাপাশি ৬৪টি প্রশাসনিক জেলা ও ৪৯১টি উপজেলায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলবে। আগামী এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এর পর শুরু হবে জেলা ও উপজেলা ওয়ারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে নির্বাচনী আমেজ শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা সম্ভব হবে বলেও নেতারা মনে করছেন। সেইসঙ্গে প্রতিটি সংসদীয় আসনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের পাশাপাশি সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হবে বলে নেতাদের বিশ্বাস।

তারা বলেছেন, ভোটের আগে নির্বাচনী প্রচারে প্রশিক্ষিত নেতাকর্মীরা বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। অতীতে আন্দোলনের নামে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ধ্বংসাত্মক চিত্রও তুলে ধরবেন পোলিং এজেন্টরা। সেইসঙ্গে তারা রাজপথের বিরোধী দলের আন্দোলনের নামে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেও সতর্ক থাকবেন।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা হতে পারে। আর সেটা হলে রায় ঘোষণার পর বিএনপি সার্বিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে। এ ছাড়া আগামী নির্বাচন নিয়েও আন্দোলনে নামতে পারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

ওই সময়ে কথিত আন্দোলনের নামে আবারও জনগণের জানমাল ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। গত শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এর পাশাপাশি সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে সতর্ক অবস্থায় রাখার প্রস্তুতি রয়েছে।

চার প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচার
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি সমকালকে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দলের প্রচার সেল এরই মধ্যে চার প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

মূলত প্রিন্ট মাধ্যম, অনলাইন মাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া ও ইভেন্টভিত্তিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছেন সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ চার প্রক্রিয়ায় প্রচার চালানোর সময় বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হবে। সেইসঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের সময়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক চিত্রও থাকবে। এ ছাড়া আন্দোলনের নামে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিবরণও তুলে ধরা হবে প্রচার কার্যক্রমে। এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোদমে প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।