রাতের বেলা ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দিল ছাত্রলীগ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০১৮
রাতের বেলা ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দিল ছাত্রলীগ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ায় তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর প্রতিবাদে আফসানা আহমেদ নামের ওই শিক্ষার্থী হলের সামনে ‘অনশনে’ বসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বেগম রোকেয়া হলে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

এদিকে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আফসানা অভিযোগ করেছেন, ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেননি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তানিয়া আফরিন ও আরও কয়েকজন কর্মী তাকে হল থেকে সোমবার রাতে বের করে দেন। আফসানা ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রফন্টের একজন কর্মী হওয়ায় তিনি ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যোগ দেননি।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার সকালে আফসানা আহমেদ বেগম রোকেয়া হলের সামনে ‘আমরণ অনশনে’ বসেন।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার কারণে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমত আরা বেগম তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থান করার কথা বললেও তিনি তা শোনেনি। তিনি রাতে হলের ফটকের সামনে অবস্থান করেন। পরে রাত চারটার দিকে হলের ছাত্রফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহানের কক্ষে চলে যান আফসানা।

বেগম রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমত আরা বেগম বলেন, সমস্যার কারণে ওই শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকার কথা বললেও তিনি তা শোনেননি।

অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজী বলেন, যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য নয়। একটি হলে এত মেয়ে থাকতে একজন মেয়েকে কেন বের করে দেওয়া হবে? ছাত্রফ্রন্ট তাদের একজন কর্মীকে দিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছে।

ছাত্রলীগের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রফ্রন্ট জানায়, ছাত্রফ্রন্ট কোনো চক্রান্ত করেনি। ছাত্রলীগের অভিযোগ সত্য নয়। কর্মসূচিতে না যাওয়ায় ছাত্রলীগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আতিকুর রহমান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে দিয়ে এসেছেন।

তিনি বলছেন, ওই শিক্ষার্থী তার কক্ষে থাকবেন। হল প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। এরপর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।