দিনাজপুরের পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন ১১ কাউন্সিলার

এন.আই.মিলন এন.আই.মিলন

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০ | আপডেট: ১০:৫২:অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি– দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পৌর কাউন্সিলারেরা। গত তিন মাস ধরে পৌর পরিষদে কোন মাসিক মিটিং অনুসি।ঠত হয়নি। এই অব্যবস্থাপনার কারণে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসাবে পৌরবাসীর যে সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে সেই সেবা পাজেচ্ছনা পৌরবাসী।

দিনাজপুর পৌরসভায় কাউন্সিলরদের কক্ষের সামনে ১ জুন সোমবার দুপুর ১২টায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলরদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌরসভার প্যানের মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলাল। এসময় সংবাদ পৌর কাউন্সিলর রেহাতুল ইসলাম খোকা, মোস্তফা কামাল মুক্তি বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, একেএম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, জাহাঙ্গীর আলম, কাজী আকবর হোসেন অরেঞ্জ, আশরাফুল আলম রমজান, সানোয়ার হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রোকেয়া বেগম লাইজু সহ ১১ কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, দিনাজপুর পৌরসভায় চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। কেউ কোন নির্দেশনা মানছেনা। পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম নিজের খেয়াল খুশি মত পৌরসভা চালাতে গিয়ে এ অবস্থার সৃর্ষ্টি করেছেন। গত তিন মাস যাবত মাসিক মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ মাসিক মিটিং শেষ হয়েছে কোন প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই। করোনা পরিস্থিতিতে মেয়রের যে ভূমিকা থাকার কথা তা দেখতে পায়নি পৌরবাসী। সারাদেশে বিভিন্ন পৌরসভায় জীবানুনাশক ছেটানো হলেও দিনাজপুর পৌরসভায় এরকম কোন কার্যত্রম কারো চোখে পড়েনি। এক ফোটা জীবানুনাশক ওষুধ ছিটানো হয়নি পৌর এলাকায়। পৌরসভায় সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে হাত ধোওয়ার জন্য পানির ট্যাংক বসানো হলেও সেখানে পানি ও সাবানের কোন ব্যবস্থা নেই। যা লোক দেখানো মাত্র।

গত অর্থ বছরে মশক নিধনের জন্য সরকার কর্তৃক দিনাজপুর পৌরসভায় ১২ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়া হয়। সে সময় ঐ টাকা দিয়ে ফোকার মেশিন ও মশক নিধনের ওষুধ কেনা হয়। কিন্তু বর্তমানে ফোকার মেশিন গুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

কোন ওষুধ নেই। মেশিন গুলো মেরামত বা মশক নিধনের জন্য ঔষধ কেনার কোন আগ্রহ নেই মেয়রের। বর্ষা শুরু হয়েছে, এখনই ব্যবস্থা নিতে না পারলে যে কোন সময় করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দিনাজপুর শহর এখন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। বাড়ীর সামনে ময়লা আবর্জনা স্তুপ গুলো ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। যা পরিস্কারের জন্য গাড়ী চেয়েও পাওয়া যাচ্ছেনা। পৌরসভা থেকে গত এক বছর যাবত লাইট সরবরাহ নেই। পৌর এলাকায় যতটুকু লাইটিং চোখে পড়ে তা কাউন্সিলররা নিজের অর্থ দিয়ে লাইট কিনে সরবরাহ করছেন। দিনাজপুর শহর ভূতড়ে শহরে পরিণত হয়েছে।

সরকারী ভাবে ১০২ টন চাউল ও তরিতরকারিসহ আনুসাঙ্গীক জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য ৪ লক্ষ ৯৭ হাজার ৮৭৬ টাকা টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে মেয়র ও কাউন্সিলরবৃন্দের বিশেষ সভায় করে আমরা কাউন্সিলরবৃন্দ নিজেদের ২ মাসের সম্মানীর টাকা ও জনগণের জন্য বরাদ্দের ৩ মাসের আর্থিক অনুদানের টাকা ও কিছু টাকা পৌরসভা থেকে নিয়ে ৮০ টন চাউল ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেই। পরে মেয়র কাউন্সিলরদের বাঁকীতে চাল ক্রয় করে বিতরণ করতে বলেন। পরে টাকা দিয়ে দিব। মেয়রের কথা কম কাউন্সিলরবৃন্দ বাঁকীতে চাল ক্রয় করে প্রত্যেক ওয়ার্ডের ৫ টন করে বরাদ্দ নিয়ে জনগণের মাঝে বিতরন করেন।

দেশের এই পরিস্থিতিতে আমরা কাউন্সিলরবৃন্দ যে ৫ টন করে চাল ত্রাণ হিসাবে বিতরণ করেছি তা বাংলাদেশে একটি বিরল ঘটনা। কিন্তু পৌর মেয়র এখন সেই টাকা পরিশোধ করছেননা। টালবাহানা শুরু করেছেন। দিনাজপুর পৌরসভায় চলমান এডিবির সকল কার্যক্রম বন্ধ। পৌরসভায় বিভিন্ন টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ে চলছে অনিয়ম।

তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন,বারং বার বলার পরেও পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম কোন মিটিং ডাকছেননা। আগের মিটিং গুলো কোন প্রকার সিদ্ধান্ত চাড়াই মেষ হয়েছে। এ কারণে পৌরসভায় সকল সেবার নাজুক অবস্থা। পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে ও বিভিন্ন মহলে অপব্যাখা দিয়ে ভূল বুঝিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কাউন্সিলরদের দুরত্ব সৃর্ষ্টি করে নিজের ব্যর্থতাকে ঢাকানোর চেষ্টা করছেন।

পৌর মেয়র নিজে প্রশাসন এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও হৃদয়বান মানুষের কাছে যে ত্রাণ গুলো নিয়েছেন সেগুলো কথায় কি ভাবে বিতরণ করা হয়েছে তা পৌরবাসির কাছে দৃশ্যমান নয়। কিন্তু আমরা কাউন্সিলরবৃন্দ সরকারী ত্রান বিতরণের সময় জেলা প্রশাসন কর্তৃক নিযুক্ত টেক অফিসারের উপস্থিতিতে বিতরণ করেছি।