রোগীকে বাঁচাতে প্লাজমা দিলেন বরিশালের করোনাজয়ী ডা. মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দিন

আরিফ হোসেন আরিফ হোসেন

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০ | আপডেট: ১১:০৩:অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০

বাবুগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর সেরে ওঠাদের একজন বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডাঃ মুহাঃ শিহাব উদ্দীন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এ ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা জীবনের মায়া ত্যাগ করে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।
কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা এই ডাক্তার করোনার চিকিৎসায় স্বেচ্ছায় প্লাজমা দিতে বরিশাল থেকে ছুটে যান ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে।
২৬শে মে রাতে সেখানে আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় থাকা মানিকগঞ্জ -২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আব্দুল মান্নান’র স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন কে ৪১০ ml. AB-ve প্লাজমা দান করেন করোনাজয়ী ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ডাঃ মুহাঃ শিহাব উদ্দীন।
প্লাজমা দানে সার্বিক সহযোগিতা করে “প্লাটফর্ম প্লাজমা “ডোনার পুল।
নিজের প্লাজমাতে অন্য একজন অসুস্থ মানুষ সুস্থ হবেন, এটাকে সবচেয়ে বড় পাওয়া হিসেবে দেখছেন ডাঃ মুহাঃ শিহাব উদ্দীন।
তিনি বলেন, ‘প্লাজমা দেওয়ার বিষয়টি রক্ত দেওয়ার মতই। মানুষিকভাবে ভীষণ শান্তি পাচ্ছি। আমার প্লাজমাতে কেউ সুস্থ হবেন এবং অন্তত একজন মানুষও যদি আমাকে দেখে উৎসাহিত হন সেটাই প্রাপ্তি।’
রক্তের তরল হলুদাভ অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলা হয়। রক্তের মধ্যে তিন ধরনের কণিকা ছাড়া বাকি অংশই রক্তরস যা রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ।
প্লাজমা থেরাপিতে শতভাগ সাফল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও চিকিৎসকরা বলছেন, যেহেতু কোভিড-১৯-এর কোনও চিকিৎসা এখনও নেই আর প্লাজমা থেরাপির কোনো ক্ষতি নেই তাই পরীক্ষামূলকভাবে এটা দিতেও সমস্যা নেই।
কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে যারা সুস্থ হয়েছেন প্লাজমা দিয়ে অন্য আক্রান্তদের সুস্থ করার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতেও আহ্বান জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।
করোনাজয়ী ডাঃ মুহাঃ শিহাব উদ্দীন এর গ্রামের বাড়ী বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বকশিরচর এলাকায় ।
উল্লেখ তিনি কর্মস্থল বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ২০ এপ্রিল (কভিড -১৯) করোনা পজিটিভ হন। ২৬ এপ্রিল তার নেগিটিভ রিপোর্ট অাসে।