করোনা সঙ্কট ভবিষ্যতে যে কোন বিশ্ববিপর্যয় মোকাবেলায় স,তর্কতা: প্রধানমন্ত্রী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৬:১২:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২০

ভবিষ্যতে যে কোনও বিশ্ববিপর্যয় কার্যকরভাবে মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের বিষয়গুলোতে নৈতিক ও আর্থিক গুরুত্ব প্রদানে বিশ্বব্যাপী সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নভে,ল করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত সঙ্কট ভবিষ্যতের স,তর্কতা হি,সেবে বিবেচনারও আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল শনিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ডা. টেড্রস অ্যাডহ্যানম জিব্রেইসাসকে লেখা এক চিঠিতে এসব কথা লিখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় থেকেই তার রীতি অনুসারে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী সকল দেশে,র সাথে একত্রে কাজ করতে বিশ্বাসী বলেও শেখ হাসিনা তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীতা চিঠিতে আরো বলেছেন, ‘আমরা বহুপাক্ষিকতায় দঢ়ভাবে বিশ্বাসী। সংক্রামক রোগ এবং মহামারী কোনও সীমানা মানে না, তাই আমরা কভিড-১৯-এর বিস্তার রোধে সার্কের কর্মকান্ডের আওতায় আঞ্চলিকভাবে এবং সার্বিকভাবে জাতিসংঘ ও ডব্লিউএইচও’র মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত হয়েছি। কেননা সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন সংকট।’

এ সময়ে বাংলাদেশে,র স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা প্রদানকারী দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি যে, এই মহা বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে ডব্লিউএইচও এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদে,র পাশে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী এই আপদকালে নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং নেতৃত্বের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি অচিরেই আমরা সম্মিলিতভাবে এই কালো অধ্যায় অতিক্রম করতে সক্ষম হব।’

প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালের ২৩ মার্চে ডা. টেড্রস অ্যাডহ্যানমের লেখা বিশদ চিঠির জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। যা কভিড-১৯’র মত মারাত্মক মহামারীর বিশ্ব ঝুঁকির বিরু,দ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর এবং সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ হি,সেবে গৃহীত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় কর্মকান্ডের জন্য ধন্যবাদ জানাতে এবং এই বিষয়ে ডব্লিউএইচও কর্তৃক গৃহীত ভূমিকা ও পদক্ষেপের প্রতি আমাদে,র দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করার সুযোগ হি,সেবে আমি এটিকে গ্রহণ করতে চাই।’

শেখ হাসিনা এ সময় সমগ্র বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের অব্যাহত ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং নেতৃত্বের জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আপনার মতো আমরাও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা কভিড-১৯ এর বিস্তারকে সীমিত করতে এবং এরপর এর সংক্রমণ চেইনকে ভেঙে ফেলতে সক্ষম হবো।’

প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রচেষ্টা এখন করোনা পরীক্ষা, আইসোলেসনে এবং কোয়ারেন্টাইনে রাখার ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়েছে। চীনে করোনা প্রাদুর্ভাবের পরপরই সরকার এ ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে এবং জাতীয় জরুরি পরিকল্পনা হিসাবে ‘কোভিড-১৯ সংক্রান্ত একটি জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করেছে। একটি ‘জাতীয় কমিটি’ ও অন্য একটি ‘টেকনিক্যাল কমিটি’র অধীনে ডব্লিউএইচও’র নির্দেশিকা অনুসারে পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিনিয়ত আপডেট করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে করোনা মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও বিশদভাবে তুলে ধরেন।