জগন্নাথপুরের যে গ্রামের রাস্তায় ১৫ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, উল্টো বেড়েছে দুর্ভোগ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২০ | আপডেট: ৬:৫৮:অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২০

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের হাওরের সাথে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ও গ্রামবাসী যাতায়াতের রাস্তায় প্রায় ১৫ বছর ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, উল্টেভ বেড়েছে দুভোর্গ। ৫ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীর।

জানা যায়, বর্তমান সরকারের উপজেলার বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে শুরু করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বড় বড় দায়িত্বে রয়েছেন এ গ্রামের মানুষ। বর্তমান পরিষদের সদস্য প্রায় ১৯ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন আসলে রাস্তার কাজ হবে বললেও নির্বাচন চলে গেলে রাস্তার কাজে দিকে নজর থাকেনা বলে গ্রামবাসী জানান। এ রাস্তা দিয়ে গ্রামের শিক্ষার্থীরা বর্ষা মৌসুমে দুটি কাপড় নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে হয়, একটি কাপড় কাঁদায় নষ্ট হয়ে যায় আরেকটি কাপড় পড়ে বিদ্যালয়ে ক্লাস করেন শিক্ষার্থীরা। উপজেলার সকল গ্রামের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ কোনো বরাদ্দ দিয়ে কাজ চললেও এ রাস্তার বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় দায়িত্বশীলদের অযোগ্যতাও দায়ী বলে অভিযোগ অনেকে। প্রায় দুই কিলোমিটার ইট সলিং রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা রাস্তার কারণে প্রতিদিন যাতায়াতে কষ্ট হয় সাধারন জনতার। একটু বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা হয়। বিশেষ করে বৈশাখ মাসে ধান তোলার সময় গাড়ী দূর্ঘটনার শিকার হয় কৃষকেরা। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসার সহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে এ রাস্তা দিয়ে।

গ্রামবাসীরা জানান, আমাদের গ্রামে বর্তমান সরকারের বেশি নেতা থাকায় উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে হয়। নেতারা রাস্তাঘাট ভাঙা এটা দেখেন না। এগুলো সংস্কারে এবং নাগরিক সুবিধা দিতে সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা প্রয়োজন, তা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের গ্রামবাসীর। আমাদের মেম্বার সাবের কথা বলে লাভ নেই তিনি প্রত্যেকবার রাস্তার কাজ করাবেন বলেন, কিন্তু জয়লাভ করার পর আর উনাকে খোঁজে পাওয়া যায় না। এ রাস্তা নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে নারাজ।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইছরাক আলী জানান, আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু দিন আগে এ রাস্তার কাজের জন্য মাপ যোগ করিয়েছি। এরপর আবারও মাপ যোগ করা হয়। বার বার চেষ্টা করে যাচ্ছি কাজ করানো জন্য বরাদ্ধ পাচ্ছিনা। গত বছর নুর রহমান হাজির বাড়ীর সামনের রাস্তায় কাজ করিয়েছি। গ্রামবাসীর মধ্যে যারা বলছেন আমি রাস্তার কাজ করাচ্ছিনা তারা অবুঝ, একমাত্র চেয়ারম্যান ছাড়া এ রাস্তার কাজ করানো সম্ভব নায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক এম মোতাহীর আলী জানান, নিজ উদ্যোগে মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট থেকে ডিও লেটার এনেছি। বার বার বলে যাচ্ছি এ রাস্তার কাজের জন্য আশ^াস দেওয়া হচ্ছে কাজ হচ্ছেনা।