জগন্নাথপুরে ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজের সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি: কৃষকেরা শঙ্কিত

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০ | আপডেট: ৯:৩০:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

জগন্নাথপুর ( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের নির্ধারত সময় পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এখনও হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হয়নি। কোন কোন প্রকল্পে দায়রাসাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্ঠা চলছে।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জগন্নাথপুরের নলুয়া হাওরের দক্ষিণ পশ্চিম পাড়ে পোল্ডার-১ এর আওতাভুক্ত কয়েকটি প্রকল্পে এমন চিত্র দেখা গেছে। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ১৬ নং প্রকল্পের বেতাউকা গ্রামের পাশর্^বতি এলাকায় নলুয়া হাওয়রের সুইচ গেইটের আশে পাশে এখনো মাটি ফেলা হয় নাই। ১৭ নং পিআইসির কাজও এখনো সম্পুর্ণ হয় নাই। ১৮ নং পিআইসির কাজে অল্প শ্রমিক দেখা গেছে। ৩টি প্রকল্পের কাজ এখনো সম্পুর্ন হয় নাই।

পরিদর্শনের সময় প্রকল্পের আশে পাশে কাউকে পাওয়া যায় নাই। স্থানীয়রা জানান, বর্তমান মেম্বার জুয়েল মিয়ার নিজস্ব লোক দিয়ে ৪টি পিআইসির কমিটির করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় কৃষকেরা চিন্তায় রয়েছেন। ১৮নং প্রকল্পের সাইন বোর্ড বাড়ীর ভিতরের ঘরের বারেন্দায় রেখে দিছে। ১৭নং প্রকল্পের সাইন বোর্ড খোঁজা খুজি করে শ্রমিকদের অস্থায়ী ঘরের পিচনে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার আতিœয় স্বজনের নামে কোন পিআইসির নাই। বেতাউকা সহ আশে পাশের কয়েকটি গ্রামের লোকদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। আমাকে পিআইসি কমিটির কাজ দেখা জন্য বলা হয়েছে। সুইচ গেইটে পিআইসির কাজ বৃষ্টি ও মাটি সমস্যা জন্য কাজ শেষ হয় নাই। দুই অথবা তিন দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। ১৬ নং পিআইসির কাজ তিন দিন সময় লাগবে।

এ দিকে মইয়ার হাওরের রানীগঞ্জ ইউনিয়নের আওতাধীন নলুয়া হাওর পোল্ডার-২ এর আওতাভুক্ত কয়েকটি প্রকল্পে পরির্দশকালে দেখা যায়, ৩৩ নম্বর প্রকল্পের নারিকেলতলা এলাকার কাছুরখাই নামকস্থানে পুরোনো মাটি ওপর দায়রাসাভাবে সামান্য মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। প্রকল্পের কোন সাইনর্বোডও নেই। তবে প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত লোকজন জানিয়েছেন প্রকল্পটি স্থানীয় রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবুল কালামের। তাঁরা আবুল কালামের শ্রমিক।

অপর দিকে পাশের ৩২ নম্বর প্রকল্পের সভাপতিও ইউপি সদস্য আবুল কালাম। এ প্রকল্পের ভাল কাজ না হওয়ায় একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বৃষ্টি এলেই বালি মাটি ধসে পড়বে। এছাড়াও ৩৪ নম্বর প্রকল্পেও দায়সারাভাবে কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কৃষিনির্ভর আমরা ফসল বুনে সারাবছরের সংসারের যোগান যোগাতে হয়। এখনও পর্যন্ত বাঁধের কাজ শেষ না হওয়াতে আমরা শঙ্কিত হাওরের ফসল নিয়ে। ৩২ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, বাঁধের যেসব স্থানে ত্রুুটি রয়েছে সে স্থানে কাজ করা হচ্ছে। ৩৩ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি অন্য আরেকজনের ছিল। প্রকল্পের কাজ শুরু না করায় স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনায় আমি কাজ শুরু করেছি। নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে।

জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, এখন পর্যন্ত বেড়িবাঁধ প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। যেসব প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি ওই সব প্রকল্পের কাজের দায়িত্বরত লোকজনকে নির্দেশনা দেয় হয়েছে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ররিবার উপজেলা কাবিকা কমিটির মিটিং হয়েছে, আগামী ১৫ তারিখে পর্যন্ত দিক নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে কাজ করার জন্য। সুইচ গেইসে কাজ আরো তিন সময় লাগতে পারে। তিন দিনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।