ঝালকাঠির সরকারি হাঁস পালন কেন্দ্রটি ১০ বছর পর আবার চালু , লোকবল সংকট

প্রকাশিত: ১২:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৯ | আপডেট: ১২:৫৪:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৯

জনবল সংকট থাকা সত্বেও ১০ বছর পর আবার চালু হলো ঝালকাঠির হাস পালন কেন্দ্রটি। সংস্কারের দীর্ঘ দিন পর প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঝালকাঠির একমাত্র হাঁস পালন কেন্দ্রটি পূণরায় চালু হয়েছে। ঝালকাঠি গাবখান ব্রীজের পশ্চিম পাশে ২ একর জমির উপর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৬-০৭ অর্থ বছরের ২৩ এপ্রিল এটি চালু করা হয়। ২ বছর পর এটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অযতœ অবহেলায় পরে ছিল অনেক দিন। পরবর্তি পর্যায়ে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ইউনিটের সংস্কার কাজ শেষ হয়। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে কেন্দ্রটি পূনরায় চালু করা হয়েছে। এটি চালু হওয়ায় আবার জেলায় উন্নত মানের হাঁসের বাচ্চা সরবরাহ করা শুরু হবে। যদিও চাহিদার তুলানায় সরবরাহ অপ্রতুল। তাই হাঁস পালনে আগ্রহী খামারিরা অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে নতুন করে খামার স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।
ইউনিট সূত্র জানায়, এখানে ২টি শেড চালু করা হয়েছে। একটিতে ১ দিনের বাচ্চা এনে ১৫ দিন পর্যন্ত রাখা হয়। এরপর অপর শেডে রাখা হয় ২৮ দিন। তবে এবার চালু হবার পর ১ম ধাপে আনা ১ হাজার বাচ্চা দ্বিতীয় শেডে নেয়ার আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯শ বাচ্চা প্রতিপালন করা হচ্ছে। ১ দিনের পর ৪২ দিন পর্যন্ত হাসের বাচ্চা বিক্রি হয় প্রতিটি ৬০ টাকা। ৪৩ দিন থেকে প্রতি পিস বিক্রি হয় ৭৫ টাকা। ভারতীয় জিনডিং জাতের এ হাস প্রতি মাসে ২৭ থেকে ২৮টি ডিম দেয়। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রটি চালু হলেও লোকবল সংকট রয়েছে। আপাতত ২ জন কর্মচারী দিয়ে চালানো হচ্ছে। এরমধ্যে ১ জন প্রেষনে অন্যজন মাস্টাররোলে কর্মরত। গার্ড ও পল্ট্রি টেকনিশিয়ান না থাকায় বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা নাসির আহমেদ জানান, এই কেন্দ্রটি ইতিপূর্বে প্রকল্পের আওতায় থাকায় মেয়াদ শেষ হলে তা আর চালু হয়নি। দীর্ঘ দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ এবং এলাকায় হাঁসের চাহিদা থাকায় আবার এটি সংস্কার করে চালু করা হয়েছে। আপাতত এখানে ২জন কর্মচারীকে প্রেষনে এনে আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এবার প্রকল্প নয় রাজস্ব খাতের মাধ্যমেই চালু হওয়ায় এটি আর বন্ধ হবার আশঙ্কা নেই।
ধান নদী খাল এই তিনে বরিশাল -প্রবাদ বাক্যটির সাথে এ অঞ্চলে হাঁস পালনের একটি পরিবেশ আছে। কারন হাঁসের অবাধ বিচরণের জন্য খাল বা নদীই পছন্দ। যা বরিশাল অঞ্চলের সব জেলাতেই আছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই সরকারী উদ্যোগে এখানে কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। ঝালকাঠিসহ বরিশাল বিভাগে হাসের বাচ্চার প্রচুর চাহিদা থাকায় এখানে প্রতিপালিত বাচ্চার তুলনায় চাহিদা ২/৩ গুণ বেশি। কিন্তু উৎপাদন অপ্রতুল হওয়ায় অপর জেলা থেকে আসা ক্রেতাদের আগেই ঝালকাঠিতে বিক্রি হয়ে যায়।
ঝালকাঠি প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, ঝালকাঠি জেলায় মোট ছোট বড় হাঁসের খামার আছে ১২২ টি। এতে মোট হাঁসের সংখ্যা ৫ লাখ ২৯ হাজার ২৬৮টি। তারপরেও শুধু ঝালকাঠি জেলাই হাঁসের বাচ্চার চাহিদা আছে প্রায় ৪০ হাজার। এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল হান্নান জানান, বরিশাল অঞ্চল হাঁস পালনের সবচেয়ে উপযোগী। হাঁস ও হাঁসের ডিম বিক্রি করে খামারিরা অনেক বেশি লাভবান হতে পারে। কিন্তু হাঁসের চাহিদা পূরন না হওয়ায় সরকার এই হাঁস প্রতিপালন কেন্দ্রটি নির্মান করেছে।