মসজিদের ভেতর মৃত্যুর অভিনয় করে প্রাণে বাঁচলেন মাসুম

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৯ | আপডেট: ৪:০১:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৯

জুমার নামাজ আদায়ে মসজিদে গিয়েছিলেন ওমর জাহিদ মাসুম (৩৪)। হঠাৎই মুহুর্মুহু গুলি, মুসল্লিদের আর্তচিৎকার, রক্তের শ্রোত আর লাশের স্তুপে পরিণত হয় মসজিদের ভেতর। তখনই রক্তের স্রোতে শুয়ে পড়লেন মাসুম। আর মৃত্যুর অভিনয় করে প্রাণে বেঁচে গেলেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে হামলায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ওমর জাহিদ মাসুম। গতকাল শুক্রবার মসজিদ আল নূরে নামাজ আদায় করতে গিয়ে বন্দুকধারীর হামলার মুখে পড়েন মাসুম। তবে রক্তাক্ত মানুষের স্তুপে মৃতের ভঙ্গিতে পড়ে থাকেন তিনি। এভাবে দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকার পর পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও হামলার ভয়াবহতা ও নৃশংসতায় বারবার আঁতকে উঠছেন তিনি। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও ভাগ্যই বাঁচিয়ে দিয়েছে মাসুমকে।

নিউজিল্যান্ড প্রবাসী ওমর জাহিদ মাসুম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ধনকীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান দয়াল ও সদ্য প্রয়াত মরহুম মমতাজ বেগমের ছেলে। চার ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট মাসুম।

ওমর জাহিদ মাসুম বাংলাদেশে থাকাকালীন অরেঞ্জ বিডি আইটি ফার্মে কাজ করতেন। মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে তথ্য প্রযুক্তিতে (আইটি) উচ্চতর ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান।

পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই একটি সুপার শপ এবং একটি পেট্রল পাম্পে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছিলেন মাসুম। ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ আল নূর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে সস্ত্রীক বসবাস করতেন তিনি।

মাসুমের বড় ভাই অ্যাডভোকেট ওমর জাকির বাবুল জানান, প্রতিদিনের মতো গতকাল ক্রাইস্টচার্চ নূরে মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় করতে যায় মাসুম। মসজিদের ভেতরে নামাজ পড়ার সময় অন্য মুসল্লিদের সঙ্গে তিনি হামলার শিকার হন। একটি গুলি মাসুমের পেটের পাশ দিয়ে চলে যায়। মাসুম মসজিদের মেঝেতে মারা যাওয়ার ভঙ্গিতে অভিনয় করে পড়ে থাকেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এখন বাসায় অবস্থান করছেন মাসুম। বর্তমানে তিনি সুস্থ থাকলেও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলেও জানান অ্যাডভোকেট ওমর জাকির বাবুল।