ঝালকাঠিতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভাইকে মারধর করে গুজব ছড়িয়েছে প্রতিপক্ষরা

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ৬:১৩:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৯

ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগ সহসভাপতি ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিমের আনারস প্রতিকের প্রচারণাকালে তার ভাই সৈয়দ নজরুল আলম (৬৫)’র উপর হামলা করেছে প্রতিপক্ষরা। এসময় তাকে মারধোর করে সাথে থাকা হ্যান্ডবিল, লিফলেট ছিনিয়ে নিয়ে পানিতে ফেলে দেয়। নির্বাচনের কাজে নামতে নিষেধ করে ভয় তাকে দেখিয়ে কান ধরে উঠবস করায় সন্ত্রাসীরা। এরপরে আবার মারধর করে, জীবনে রক্ষা পেতে বাবা ডেকে পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। একপর্যায়ে হাতে টাকা দিয়ে ছবি তুলতে উদ্দত হলে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি সরকারী চাকরীজীবী মোঃ হারুন অর রশিদ দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নজরুল আলমকে উদ্ধার করে।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের গগন গ্রামের জোড়া ব্রিজের এলাকায় এঘটনা ঘটে। সর্বত্র গুজব ছড়ানো হয় গ্রামে গিয়ে টাকা দেয়ার সময় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিমের ভাইকে স্থানীয়রা আটক করেছে। পুলিশ বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কাছেও এমন গুজব সংবাদ দেয়া হয়। এঘটনায় পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় কবীর, পলাশ, মাসুম ওরফে মুন্না, কাইউম, জাকির, সত্তারসহ ৮/৯জন দলে ছিলো।
নজরুল আলম জানান, সাড়ে ১২ টার দিকে গগনের জোড়া ব্রিজ এলাকায় লিফলেট ও হ্যান্ড বিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছোট ভাই রাজ্জাক আলী সেলিমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে যাই। এসময় পিছন দিক থেকে ৩টি মোটর সাইকেলে ৮/৯ জন লোক এসে আমাকে রাজ্জাক সেলিমের লোক বলেই মারধর শুরু করে। তাদের কাছে অনেক অনুনয়-বিনয় করেও মারধরের হাত থেকে রক্ষা পাইনি। তার মারধর করার সময় বলছিলো, আমরা নৌকার লোক এ এলাকায় রাজ্জাক সেলিমের কোন কাজ করা যাবে না তা জানো না? এসময় আমার সাথে থাকা লিফলেট ও হ্যান্ড বিল নিয়ে খালে ফেলে দেয়। আমার হাতে টাকা দিয়ে ছবি তুলতে চাইলে স্থানীয় হারুন অর রশিদ এসে আমাকে রক্ষা করেন। আমি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি।
হারুন অর রশিদ জানান,‘বাড়ির মধ্যে বসে কয়েকজন যুবক একজনকে মারতেছে দেখতেছি। কিছুক্ষণ পরেও দেখি মারধর থামতেছে না। আমি সামনে এগিয়ে দেখি টাকা হাতে দিয়ে ছবি তুলতেছে। আমি গিয়ে ছবি তুলতে না দিয়ে বিষয়টা জানতে চাইলে তারা মোটরসাইকেলে স্থান ত্যাগ করে।’
চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম জানান,‘আমার ভাই নজরুল ইসলাম গগন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে তাকে আটকে মারধর করা হয়। লিফলেট ও হ্যান্ড বিল নিয়ে খালে ফেলে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিচ্ছি বলেও জানান তিনি।’
গগন ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আবু হানিফ জানান,‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। তবে আহতাবস্থায় নজরুল আলমকে উদ্ধার করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছি। তবে নজরুল আলমের শরীরে গুরুতর কোন আঘাত চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন উপলক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুন্নেছা জানান,‘আমাদের কাছে অভিযোগ ছিলো টাকাসহ এলাকাবাসী একজনকে আটক করেছে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলাম ভিন্ন চিত্র। একজনকে মারধর করে গুজব ছড়ানো হয়েছে। আহতকে আইনী পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।