ঝালকাঠির দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার ওমর ও জীবা আমিনা খান

প্রকাশিত: ১:২৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৮ | আপডেট: ১:২৬:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বএিনপির দলীয় চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম এবং ঝালকাঠি-০২ (সদর-নলছিটি) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জীবা আমিনা খানকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় দলটির গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ নির্বাচনে ঝালকাঠির দুটি আসনেই প্রাথমিকভাবে ডাবল প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিলো বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জেলার এ দুটি আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো ঝালকাঠি- (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে সাবেক এমপি ও আইনপ্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর এবং ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মোঃ রফিকুল ইসলাম জামাল, ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেনভুট্টো ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জীবা আমিনা খানকে। আসন দুটিতে ডাবল প্রার্থী থাকায় দলের নেতাকর্মীরাও ছিলেন দোটানায়।
ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর এবং কেউ কেউ মোঃ রফিকুল ইসলাম জামাল’র পক্ষে ছিলেন। ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনেও দ্বিধা বিভক্ত অবস্থায় ছিলেন নেতাকর্মীরা। সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেনভুট্টো’র পক্ষে ইতিমধ্যে অনেকে মাঠে নেমেছিলেন আবার অনেকে জীবা আমিনা খান’র পক্ষে ছিলেন। বিচক্ষণ নেতাকর্মীরা তাকিয়ে ছিলেন চুড়ান্ত টিকিটের দিকে। প্রার্থীতার চুড়ান্ত টিকিট কার হাতে যায় সেদিকেই নজর ছিলো সবার। তাই কেন্দ্রের দিকেই তাকিয়ে ছিলো এখানকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এ দুটি আসনে আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট নেতা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বজলুল হক হারুন প্রার্থী থাকায় নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার শহরের নতুন কলেজ রোডস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে নির্বাচন উপলক্ষ্যে ফেসবুক ও অনলাইন গণমাধ্যমে সক্রিয়দের নিয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনলাইন অ্যাক্টিভিটিস ফোরাম নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। যে সংগঠনের সদস্যদের কাজ আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে ফেসবুক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করা। এছাড়াও ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামীলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, প্রতিটি ওয়ার্ড ও ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে।
সে তুলনায় নির্বাচনী কার্যক্রমে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে তৎপরতা না থাকায় পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি। আওয়ামীলীগের এ হেভিয়েট প্রার্থীর সাথে বিএনপির কোন প্রার্থীকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দিলে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় জমে উঠতে পারে সেনিয়ে ছিলো চুল ছেড়া বিশ্লেষণ। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্যতা দেখাগেছে।
দলীয় সূত্রে জানাগেছে, রাজাপুর-কাঠালিয়া নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসন গঠিত। এ আসনে বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান, সাবেক এমপি ও আইনপ্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর এবং ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মোঃ রফিকুল ইসলাম জামালকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক আইনপ্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার শাহজাহান ওমর মুক্তিযুদ্ধকালীন ৯ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কামান্ডার ছিলেন। এ আসনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ তৃণমূল জনসাধারণের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি রাজাপুর উপজেলার সাংগর গ্রামে। তার পিতা আদর্শ শিক্ষক মরহুম আব্দুল হামিদ।
রফিকল ইসলাম জামাল জানান, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে ম্যাডাম জিয়া আমার হাতে ধানের শীষের প্রতিক তুলে দিয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন। আমি সে অনুযায়ী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে ব্যরিস্টার শাহজাহান ওমরের সাথে দ্বৈত মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন রাজাপুর-কাঠালিয়া আসনের গণমানুষের নেতা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরকে বিএনপির চুড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। ধানের শীষের পক্ষ হয়ে তারই নির্বাচন করার প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেন তিনি।
ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম জানান, মুক্তিযুদ্ধকালীন ৯ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলাম। দেশের স্বাধীনতা অর্জনে দেশ মাতৃকার টানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। এরপর সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করেছি। এলাকার তৃণমূল জনপদের উন্নয়নসহ রাজাপুর-কাঠালিয়াবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছি। রাজাপুর-কাঠালিয়াবাসী বিএনপি মানেই আমাকে মনে করে। আমাকে ঘিরেই বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। নেতাকর্মীসহ জনসাধারণের কাছে আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ আসনে ধানের শীত প্রতিককে বিজয়ী করতে হলে তার বিকল্প নেই। চুড়ান্ত মনোনয়নে নির্ধারণ করায় দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২। এ আসনে বিএনপি থেকে দুই নারী সাবেক এমপি ইলেনভুট্টো ও জীবা আমিনা খানকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো। জীবা আমিনা খানের নেতাকর্মীদের মধ্যে পরিচিতি থাকলেও দলীয় সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের কাছে অনেকটা অপরিচিত হওয়ায় জনপ্রিয়তার দিক থেকে ইলেন ভূট্টোর চেয়ে পিছিয়ে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার নবগ্রামে। তার বাবা ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন আহমেদ ছিলেন পাকিস্তান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী।
ইলেনভুট্টো জানান, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচনে ঝালকাঠি-নলছিটির সোনার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আমির হোসেন আমু’র সাথে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় আমাকে জয়ী করেছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দল চুড়ান্তভাবে যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমি ধানের শীষের পক্ষ হয়েই তার নির্বাচন করবো।
জীবা আমিনা খান জানান, দল আমাদের দুজনকেই মনোনয়ন দিয়েছিলো। আমরা দুজনেই মনোনয়নপত্র দাখিল করে বৈধ প্রার্থী হয়েছি। আমাকে দল চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীরা আনন্দিত ও উজ্জীবীত। ধানের শীষ প্রতিককে এ আসনে বিজয়ী করাই এখন আমার একমাত্র কাজ বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর জানান, ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম এবং ঝালকাঠি-০২ (সদর-নলছিটি) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জীবা আমিনা খানকে দল চুড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। দল যাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা তাদেরকে নিয়েই মাঠে নামবো। এখন যারা দুই প্রার্থীর পক্ষে আলাদা আলাদা ছিলো তারাও এখন ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীর পক্ষেই নামবেন।