মাদারীপুরে পূজা মন্ডপে অদক্ষ আনসার নিয়োগ! লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য

নাজমুল হক নাজমুল হক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

নাজমুল হক, মাদারীপুর প্রতিনিধি। 01772327799

মাদারীপুরের চারটি উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৯১০ জন আনসার নিয়োগ করা হয়েছে। যার মধ্যে ট্রেনিং প্রাপ্ত ও নন ট্রেনিং প্রাপ্ত রয়েছে। এক একজন আনসারের কাছ থেকে ২শ থেকে ৫শ পর্যন্ত টাকা নিয়ে অস্থায়ী এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গড়ে ৩ শ টাকা করে নিলে প্রায় ৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা নিয়েছে শুধু নিয়োগের জন্য। ডিউটির জন্য যে টাকা দেয়ার কথা বিগত বছরগুলোতে সম্পূর্ন টাকা পায়নি আনসার সদস্যরা। সেখান থেকে টাকা কেটে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চারটি উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ১ হাজার ৯১০ জন আনসার নিয়োগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে এবছর যারা পিসির দায়িত্বে আছে ২ হাজার ৬২৫ টাকা এবং যারা কর্মী হিসেবে আছে তারা পাবে ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। কিন্তু যাদের টাকার বিনিময় নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তাদের বলা হয়েছে গত বছর আনসাররা যে টাকা পেয়েছে, তাই তাদের দেয়া হবে। তার অর্থ গত বছর ১৫শত টাকা তাদের দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের বরাদ্ধ ছিল ৫দিনে ১৬শত টাকা।

সরেজমিনে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাগজে কলমে প্রতিটি পূজা মন্ডপে ৪ থেকে ৬ জন আনসার থাকার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে কোন মন্ডপে ২ বা ৩ জন পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে বেশির ভাগ আনসার সদস্যের পরোনে ছিল না সম্পূর্ন পোশাক। কেউ লুঙ্গি পরে আছে আবার কারো পায়ে জুতা নেই স্যান্ডেল পরে ডিউটি করছে। কিছু কিছু মন্ডপে আনসারদের যে নামের তালিকা রয়েছে সেখানে অন্যলোক দিয়ে ডিউটি করানো হচ্ছে। আবার এদের বেশির ভাগ সদস্যের নেই কোন প্রশিক্ষণ। গ্রাম থেকে নিয়ে এসে পূজা মন্ডপে ডিউটিতে পাঠানো হয়েছে। কিছু সদস্য আছে যারা যানেই না মন্ডপে ডিউটিটা কি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন আনসার সদস্য বলেন, পূজা মন্ডপে ডিউটি করার জন্য আমাদের কাছ থেকে ২শ থেকে ৫শ পর্যন্ত টাকা নিয়েছে ইউনিয়ন কমান্ডার। টাকা না দিলে আমাদের ডিউটিতে আনবে না তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পূজা মন্ডপের পরিচালক বলেন, মন্ডপে খুবই বয়স্ক পুরুষ ও মহিলা আনসার পাঠানো হয়েছে। যাদের একদম প্রশিক্ষণ নেই। তারা শৃঙ্খলার কিছুই বোঝে না। আমাদের মন্ডপের লোকজনই তাদের পাহারা দিয়ে রাখে।

এ ব্যাপারে জেলা আনসার কমান্ডার মো. আব্দুল মজিদ এর সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার তার অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি। একাধিকবার তার সরকারি নাম্বারে ফোন করেও তার সাথে কথা বলা যায়নি।

পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, পূজা মন্ডপের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় যে আনসার সদস্যরা রয়েছে তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে টাকা নেয়া এবং পরিপূর্ন ড্রেস ছাড়া ডিউটি করার বিষয়টি দুঃখ জনক। আমরা বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় মিটিংয়ে কথা বলবো।

আনসার নিয়োগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রেনিং ছাড়া কি কাজ করবে। তারাতো নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। অন্যদের রক্ষা করবে কি ভাবে। গরীব মানুষ তাদের কাছ থেকে কেন টাকা নিবে। মিটিংয়ে আমরা বলেছি একদম অল্পবয়স্ক বা বেশি বয়স্ক লোক নিয়োগ করা যাবে না। মধ্য বয়স্ক লোক দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সামনে নির্বাচন সেখানেও তো আনসার লাকবে। আমরা বিষয়গুলো দেখছি। তাছাড়া একজন সরকারি কর্মকর্তা (জেলা আনসার কমান্ডার) কেন তার সরকারি ফোন রিসিভ করবে না। এটা খুবই দুঃখজনক।