H2o মানে পানি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ৮:২১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৮

 মেহরাজ রাববী//

সুন্দরী বলতে আসলে গায়ের রং ফর্সা; ব্যপারটা তা না। এসব সুশীল বাক্য এই দেশে খাটে না। এই দেশে সুন্দরীর ডেফিনেশনে থাকে সাদা চামড়া। মিস বাংলাদেশ এর সুন্দরী প্রতিযোগিতায় যখন মেয়েদের বাছাই করা হয়, তখন কাদের রাখা হচ্ছে আর কাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে, এটা বুঝা যায় ফাইনাল রাউন্ডে এসে। গত সেদিন মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় বিচারকরা যখন এক প্রতিযোগিকে প্রশ্ন করেন “H2o মানে কি?” তখন সেই প্রতিযোগী জবাব দেয় H2o মানে সে বুঝতে পারছেনা, তবে ধানমন্ডিতে একটা রেস্টুরেন্ট আছে এই নামে। ফ্রাইড রাইস আর চিকেন ফ্রাই পাওয়া গেলেও, সেই রেস্টুরেন্ট পরিচিত মূলত সিসা লাউঞ্জ হিসেবে। একটা শিক্ষিত মানুষ H2o মানে জানে না, এটা অস্বাভাবিক না। স্টেজে উঠলে মাথা পাজল হয়ে যায় অনেক সময়।

 

এটা হতেই পারে। তবে, বিচারকদের দিকে তাকালে সম্পূর্ন দোষটা তাদেরকেই দিতে হয়। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় মিস বাংলাদেশ হয়ে যারা মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে যাবে, তাদের জ্ঞানের পরিধি এত কম কেন হবে? বিচারকরা প্রথম থেকে কি দেখে তাদের সিলেক্ট করেছেন এবং কতটুকু বিশ্লেষন করে তাদের এতটুকু আসতে দিয়েছেন, এটা ভাববার বিষয়। বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি উইশ করতে যেয়ে যখন একজন বললো ” প্রথমত সে সমুদ্র এবং পাহাড়কে উইশ করবে!” আমার ভাবতে আশ্চর্য লাগে, এরা কি করে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে, যারা এখনো উইশ শব্দের অর্থই বুঝেনা। উইশ মানে তারা বুঝে বার্থডের শুভেচ্ছা জানানোকে উইশ বলে। পাহাড়কে হয়তো উইশ করতে চায়, হ্যাপি বার্থডে পাহাড়।

 

আমি উইশ করবো বিচারকদের “হ্যাপি জাজমেন্ট ম্যান” প্রতিযোগিদের মতো আপনাদের জ্ঞানের পরিধিও খুব একটা ব্যপক নয়, কারন জাজ করার মতো ক্ষমতা থাকলে, এরা এতদূর আসতো না। আপনারা আসলে কি দেখে জাজ করেন, উজ্জ্বল ত্বক? হাইট? ওয়েট? সিল্কি চুল? এসব প্রতিযোগিতায় সৌন্দর্য প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেটা যাতে রেসিজম না হয়ে যায়। হালকা শ্যামলা গায়ের রংয়ের মেয়েটা এই প্রতিযোগিতায় রেজিষ্টেশনই করে না, কারন সে জানে, আপনারা তাকে প্রথমেই বাদ দিয়ে দিবেন। অথচ, তাকে H2o মানে জিজ্ঞেস করলে গড়গড় করে বলে দিতে পারতো H2o is the moleculer formula of water. আপনারা সিলেক্ট করবেন তাকে, যে জানে H2o কেবল একটি রেস্টুরেন্টের নাম। যেখানে সিসা বিক্রি করা হয়। সে জানে, সিসাতে এপল ফ্লেভার হয়, ডাবল এপল হয়, স্ট্রবেরি অথবা চেরি হয়। সে জানে, H2o মানে ৪৫০ টাকায় সিঙ্গেল ফ্লেভার আর ৮০০ টাকায় ডাবল ফ্লেভার। প্রতিযোগিদের এমন জবাবে আমি মোটেও হতাস হইনি, কারন এই প্রতিযোগিতা চামড়ার প্রতিযোগিতা। গায়ের রংয়ের প্রতিযোগিতা। গতবছর জেসিয়া নামের এক সুন্দরী এসেছিলো, মনে আছে? সে বলেছিলো, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করবে। আজকাল ফেসবুক টাইমলাইনে দেখা যায়, সালমান মুক্তাদিরের মতো ইউটিউবার এর পা চেটে দিচ্ছে মিস বাংলাদেশ। কোলের উপর বসে, গাল চেটে দিচ্ছে।

 

এরা বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করবে? আপনাদের মনে আছে, জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের কথা? যার মিস বাংলাদেশের পদক কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো, সে বিবাহিত বলে। সে নিয়মবহির্ভূত কাজ করেছে, পদক নিয়ে নিয়েছে, ইট’স ফাইন। কিন্তু যেই প্রতিযোগিতায় ভার্জিন না হলে অংশগ্রহন করা যায়না, সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করার মতো বোধহীনতা আর নেই। আমরা সুন্দরী বাছাইয়ের জন্য সাদা চামড়া দেখি এমনকি আমাদের দেখতে হয় নারীর সতীপর্দাও! যাইহোক, H2o এর মানে না জানা অন্যায় নয়। যদিও ক্লাস এইট পাশ করলেই H2o শব্দের অর্থ জানা উচিত, তবুও নাহয় মানুষের জ্ঞানের পরিধিতে অনেক কিছুই থাকেনা। তবে, আমরা যাতে এমন কাউকে বিশ্বের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে না দেই, যেখানে বাংলাদেশকে লজ্জিত হয়ে ফিরে আসতে হয়।

 

আমাদের মিস বাংলাদেশের গায়ের রং কালো হোক, তবুও মস্তিষ্কে জ্ঞান থাকুক। যে কিনা বাংলাদেশ সম্পর্কে উইশ করতে বললে বলতে পারে ” আমি চাই পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাক! আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, বাংলাদেশকে পৃথিবীর কাছে তুলে ধরতে!” আমাদের সাদা চামড়ার ডেফিনেশন থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সৌন্দর্য মেধা, প্রজ্ঞা, জ্ঞানে, আচরনে এবং উপস্থাপনে! সৌন্দর্যের স্ট্যান্ডার্ডকে চেঞ্জ করুন। তাহলে একদিন সঠিক উত্তর পেয়ে যাবেন “H2o মানে পানি!” নাহলে, শিখতে থাকুন H2o একটি রেস্টুরেন্টের নাম। এটার অবস্থান ধানমন্ডিতে!