শেষ হলো তিনিদিনব্যাপী অভিনয় কর্মশাল

এ আল মামুন এ আল মামুন

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৪৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮

সংলাপসহ বা সংলাপহীন অন্য একটি চরিত্রের আবেগ প্রকাশ করার নিমিত্তে কৃত্রিম অঙ্গভঙ্গি করে সৃষ্টিশীল অনুকরণ করাই হচ্ছে অভিনয়। ইংরেজিতে যাকে বলে- Acting is an activity in which a story is told by means of its enactment by an actor or actress who adopts a character—in theatre, television, film, radio, or any other medium that makes use of the mimetic mode. সম্প্রতি বেসিক অ্যাক্টিং ম্যাথড অব টেলিভিশন প্রোডাকশন শিরোণামে শান্ত-মরিয়ম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি’র গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া বিভাগের ২৬তম ব্যাচের অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের টেলিভিশন প্রোডাকশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন-২ কোর্সের ব্যবহারিক কার্যক্রমের আওয়াধীন তিনদিনব্যাপী অভিনয় কর্মশালা শেষ হলো।

কর্মশালায় প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের অভিনয়ের ইতিহাস এবং বিবর্তন বিষয়ের উপর তত্ত্বীয় এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া বিভাগের খন্ডকালিন শিক্ষক এবং মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড এর হেড অব প্রোগ্রাম ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ( ইসলাম শফিক), দ্বিতীয় দিনে অভিনেতার অভিনয় কৌশল এবং অভিনয় পদ্ধতি বিষয়ের উপর দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করেন গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া বিভাগের টেলিভিশন প্রোডাকশন অ্যান্ড কিমউনিকেশন-২ কোর্সের খন্ডকালিন শিক্ষক এবং যমুনা টেলিভিশনের অনুষ্ঠান প্রযোজক সেলিম মাহমুদ রফিক এবং শেষদিনে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের (নিমকো) পরিচালক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অফিসার এবং স্বপ্নদল থিয়েটার এর প্রধান নাট্যব্যক্তিত্ব জাহিদ রিপন। তিনি শিক্ষার্থীদের মুকাভিনয় অর্থাৎ সংলাপহীন আঙ্গিক অভিনয়ের উপর দারুণ এবং উপভোগ্য একটি সেশনে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। কর্মশালা শেষে শিক্ষার্থীদেরকে অভিনয় বিষয়ক কর্মশালা অংশগ্রহণকারী হিসাবে সাফল্য অর্জন করায় সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, বেসিক অ্যাক্টিং ম্যাথড অব টেলিভিশন প্রোডাকশন বিষয়ক কর্মশালাটি উদ্বোধন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসাহব্যাঞ্জক বক্তব্য প্রদান করেন শান্ত-মরিয়ম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ এর গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান এবং ফ্যাকাল্টি অব ডিজাইন টেকনোলজির সম্মানীত ডিন জনাব আব্দুল হালিম শেখ। তিনি বলেন, ব্যক্তি এবং শিক্ষক হিসাবে তাঁর চাওয়া শিক্ষার্থীরা যেন এ ধরণের ব্যবহারিক শিক্ষায় বেশি উৎসাহী হয়। কারণ শুধু থিওরিটিক্যাল ক্লাসের উপর নির্ভর না করে পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবন গঠন ও চাকরি লাভে সহায়তা করতে পারে। জনাব হালিম বলেন- তিনি বরাবরই অ্যাগ্রেসিভ এবং প্রোগ্রিসিভ চিন্তা- ধারণার মানুষ। সুতরাং ভবিষ্যতে এ ধরণের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে তিনি তা সানন্দে স্বাগত জানাবেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কর্মশালার গুরুত্বের উপর বক্তব্য প্রদান করেন গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়ার সহকারি অধ্যাপক এবং কো- অর্ডিনেটর জনাব শেখ শাহাবুদ্দিন আহমেদ। জনাব আহমেদ বলেন- তার ধারণা ছিলো না এমন একটি পরিকল্পনা হতে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছায়। তিনি বলেন- কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ- ই প্রমাণ করছে যে কোর্স-কারিকুলামের ভিতরে থেকে ব্যবহারিক কর্মশালা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় কতোটা আগ্রহী উদ্দীপক করে তুলতে পারে। শিক্ষার্থীদের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণে কর্মশালাটি আলাদা বৈচিত্র্য নিয়েছে বলে এর সফলতা কামনা করেন তিনি। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের শিক্ষক ড. শেখ মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম।

কর্মশালার অন্যতম প্রশিক্ষক ও বিভাগের শিক্ষক ড. ইসলাম শফিক (শফিকুল ইসলাম) বলেন- শুধু টেলিভিশন প্রোডাকশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন কোর্সের আয়োজনে নয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন অভিনয় শীর্ষক এ ধরণের কর্মশালা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত ক্যারিয়ার গঠনে, চাকরি কিংবা গবেষণাধর্মী যেকোন সৃষ্টিশীল কাজে প্রয়োজন হবে। কর্মশালায় শুধু অংশগ্রগণ নয় এর মধ্যে যে চিন্তার উপাদান রয়েছে সেবিষয়ে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে জানতে এবং চর্চাও করতে পারবে। গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ ধরণের আয়োজনের অংশ হয়ে ভবিষ্যতের তরুণ ডিজাইনারদের প্রতি নতুন সৃষ্টির বার্তা দিয়ে গেলো। কর্মশালার উদ্যোগক্তা এবং প্রশিক্ষক জনাব সেলিম মাহমুদ রফিক তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন- তিনি শুধু তার কোর্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের জন্য কর্মশালার মাধ্যমে টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং অভিনয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে চেয়েছেন। অভিনেতা কিভাবে তার উপর অর্পিত দায়িত্বটি পরম মমতায় দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করে থাকেন একজন নির্দেশক হিসাবে তাই উপলব্ধি করানো। তিনি গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া বিভাগের সকল শিক্ষক- শিক্ষিকা, কর্মচারী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। কারণ এ ধরণের কর্মশালা আয়োজনটি সম্ভব ছিলো না তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া। আগামী যেকোন সময়ে এ ধরণের আয়োজনে সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।