পাথরঘাটায় ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা : ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০৭:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

পাথরঘাটায় এক তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যার পর মরদেহ গুমের চাঞ্চল্যকর মামলায় ছাত্রলীগের চার নেতাসহ সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে ডিবি পুলিশ।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম মামলাটি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে স্থানান্তরের আদেশ দেন।

 

উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. মাহমুদ, পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহি আনান ডেনিয়েল ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্ট, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান এবং পাথরঘাটা কলেজের নৈশপ্রহরী মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আরো ২ জনের নাম ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে নৈশ প্রহরী জাহাঙ্গীর হোসেন উচ্চ আদালত হতে জামিনে আছেন, আর ছাত্রলীগের ৪ নেতা জেল হাজতে রয়েছে এবং বাকী ২ জন পলাতক রয়েছে।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটায় তরুণী গণধর্ষণের পর হত্যা করে পাথরঘাটা কলেজের পিছনের পুকুরে লাশ গুমের চাঞ্চল্যকর পাথরঘাটা থানার ১২নং মামলাটি দীর্ঘ ১ বছর তদন্ত শেষে পাথরঘাটা উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের ৪নেতা, পাথরঘাটা কলেজের নৈশ প্রহরী জাহাঙ্গীরসহ আরো ২জনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯ (৩)/৩০ তৎসহ পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ অভিযোগে অভিযুক্ত করে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে বরগুনা জেলা ডিবি পুলিশ। বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগটি আমলে নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে স্থানান্তর করেন আদালত।

 

এদিকে দীর্ঘ ১ বছর তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও ধর্ষণের পর হত্যার শিকার তরুণীর পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি ডিবি পুলিশ।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. বশির আলম বরিশালট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গলিত তরুণীর মরদেহের ছবি পাঠিয়েছি, কিন্তু কোনো পরিচয় চায়নি। এমনকি রিমান্ডে বারবার চেষ্টা করেও আসামিদের মুখ থেকে তরুণীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট পাথরঘাটা কলেজের পশ্চিম পাশের পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১১ ও ১২ নভেম্বর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদ ও নৈশ প্রহরী জাহাঙ্গীর।