নারীর ওভারটাইম কাজ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০১:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮
নারীর ওভারটাইম কাজ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ

বাড়িতে কিংবা অফিসে, অতিরিক্ত কাজ বা অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করা নারীদের জন্যে ডেকে আনতে পারে মহাবিপদ।

অফিসের বসের কাছ থেকে প্রশংসা কিংবা পদোন্নতি পাবার জন্যে হয়তঃ আপনি নিজেকে কাজের মধ্যে নিবেদন করেছেন। ক্রমাগত কাজ করে চলেছেন বিরামহীন, এমনকি অফিস শেষ হলেও। তাহলে আপনার জন্যে ছোট্ট একটা বার্তা রয়েছে- আপনার নিবেদিত কর্মপরায়ণ মন এই শ্রম আনন্দিত চিত্তে গ্রহণ করলেও শরীর নামে যে স্বত্তার মধ্যে আপনি বিরাজমান, সে কিন্তু সহজে তা মেনে নিতে পারে না। পরবর্তীতে এর ফলে আপনার শরীর হতে পারে বিপজ্জনক কোন রোগের বসবাসের জন্যে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত।
স্বাস্থ্যঝুঁকি

একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যে মেয়েরা সপ্তাহে ৪৫ ঘন্টা বা তার বেশি সময় কাজ করে, তারা অন্যান্য মেয়েদের (যারা সপ্তাহে ৩৫-৪০ ঘন্টা কাজ করে) চেয়ে অনেক বেশি হারে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকে।

গবেষকগণ এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি যে, অতিরিক্ত কাজ কেন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বা কেন এটি শুধুমাত্র মেয়েদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। তবে তাঁরা অনুমান করেছেন যে, অফিসের কাজ শেষ করার পরও সংসার ও পরিবারের যত্নে যে অবৈতনিক কাজ তাদের করতে হয়, সেটাই পুরুষের চেয়ে তাদের এই ঝুঁকির দিকে বেশি ঠেলে দেয়।

“এটা মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, কাজের পরিবেশ টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধির ঝুঁকিতে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘক্ষণ কাজ করা কোন স্বাস্থ্যসম্মত ও সুবিবেচনাপ্রসুত বিষয় নয়,” বলেন গবেষণার প্রধান লেখক পিটার স্মিথ। তিনি ‘ইন্সটিটিউট ফর ওয়ার্ক এন্ড হেলথ ইন টরোন্টো’র একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী।

“আপনি যদি কাজের বাইরে সময় ব্যয়ের দিকে নজর দেন, তাহলে দেখবেন মেয়েরা পরিবারের সদস্য ও সংসারের অন্যান্য নৈমিত্তিক কাজে অনেক বেশি সময় ব্যয় করেন। তারা শুধুমাত্র যে কাজটি বেশি করেন না, সেটা হচ্ছে টেলিভিশন দেখা আর শরীরচর্চা করা,” স্মিথ আরো যোগ করেন।
অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধি

দক্ষিণ আফ্রিকার নারীমৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে ডায়াবেটিস। দক্ষিণ আফ্রিকার পরিসংখ্যান অনুযায়ী শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই ডায়াবেটিসের কারণে মৃত্যু হয় ১৫,৫০৬ নারীর।

“বিশ্বে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ৪৩৯ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হবে বলে দাবি করেন গবেষকগণ।

গবেষণা টিম এটাও উল্লেখ করেন যে, হৃদরোগ ও পক্ষাঘাতের মত অন্যান্য দুরারোগ্য মারাত্মক রোগের জন্যেও ডায়াবেটিস একটা বড় ধরণের ঝুঁকি।

আমেরিকান ডায়াবেটিস এসোসিয়েশনের মতে, স্থুলতা ও আসীন জীবনধারা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের জন্যে ঝুঁকির কারণ, যদিও জীনতত্ত্বও ভূমিকা পালন করে থাকে।
গবেষণা

কানাডার অন্টারিও শহরের ৭,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীদের ওপর এই গবেষণাটি চালানো হয়, যাদের বয়স ছিল ৩৫ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। প্রায় ১২ বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষণার সময়ে প্রতি দশজনে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।

গবেষকগণ উক্ত বিষয়ে বয়স, লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা, পিতৃত্ব, মাতৃত্ব, জাতি, বাসস্থান, জীবনধারা, ওজন, ধুমপান ও যেকোন দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য অবস্থা বিবেচনায় রাখেন। বিভিন্ন শিফটে কাজ, বাৎসরিক কাজের সপ্তাহের সংখ্যা এবং কাজের ধরণও (কায়িক শ্রম অথবা বসা কাজ) তাঁরা এর সাথে যুক্ত করেন।
লিঙ্গ পার্থক্য

গবেষণায় পুরুষের কাজের সময় এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সংক্রমণের কোন পরিসংখ্যানগত গুরুত্বপূর্ণ সুত্র পাওয়া যায় না। কিন্তু সপ্তাহে ৪৫ ঘন্টা বা তার বেশি কাজ করা মেয়েদের ক্ষেত্রে টাইপ ২ ডায়াবেটিস সংক্রমণের ঝুঁকি ৫০% এর চেয়েও বেশি, বলেন স্মিথ।

তবে এটা মাথায় রাখতে হবে যে, যদিও গবেষণায় কেবল দীর্ঘ কাজের সময় এবং ডায়াবেটিসের মধ্যে একটি সম্পর্ক দেখানো হয়েছে, এটি কারণ ও প্রভাব প্রমাণের জন্যে সাজানো হয়নি।

গবেষণার লেখকগণ বলেন, দীর্ঘ সময় কাজের কারণে একটি মানসিক চাপ প্রতিক্রিয়াশীল হতে পারে যার ফলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও ইনস্যুলিনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতে পারে যা ডায়াবেটিস সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

‘বিএমজে ওপেন ডায়াবেটিস রিসার্চ এন্ড কেয়ার’এ গবেষণাটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়।

নিউ ইয়র্ক সিটির ‘মন্টেফিওর মেডিকেল সেন্টার’র ‘ক্লিনিক্যাল ডায়াবেটিস সেন্টার’এর পরিচালক ডঃ জোয়েল জন্সসিন এই গবেষণার পর্যালোচনা করেন।

তিনি বলেন, লিঙ্গ বৈষম্যের জন্যে পারিবারিক কাজের দায়িত্ব, ঘুমের সমস্যা, বিষণ্ণতা এবং অফিসের কাজ ও অবৈতনিক বাড়ির কাজের অতিরিক্ত চাপ উপলব্ধিসহ অনেক কিছু হতে পারে।

সপ্তাহে ৪৫ ঘন্টা বা তার বেশি সময় কাজ ক্রমবর্ধমান ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং আমরা বেশ ভালভাবেই জানি যে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচুর মানুষ রয়েছেন যাঁদের দুইটি কাজ রয়েছে। তাই আমাদের অন্টারিওর প্রতিবেশীদের দ্বারা উদ্ধৃত কাজের তুলনায় তাদের অনেক ঘন্টা বেশি কাজ করতে হয়, বলেন ডঃ জন্সসিন।